চার্লস ডারউইন এবং ‘বিগল’যাত্রার টুকিটাকি

-অর্পণ পাল
বিজ্ঞান শিক্ষক ও লেখক

জাহাজটির নাম ‘এইচ.এম.এস. বিগল’ (H.M.S.Beagle), (His/Her Majesty’s Ship-কে সংক্ষিপ্ত আকারে H.M.S. বলা হয়েছে)। ১৮২০ সালে তৈরি হওয়া এই জাহাজে চেপে এরপর বেশ কয়েকবার বৈজ্ঞানিক অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় অভিযানটিই জাহাজের নামকে ঠাঁই করে দিয়েছে ইতিহাসে, কারণ এই অভিযানেই সেই জাহাজে সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এক বাইশ বছরের তরুণ – যার নাম চার্লস ডারউইন। ১৮৩১ সালের পৃথিবীকে পাক খেয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করা সেই সমুদ্রযাত্রায় বিনা মাইনের ‘ন্যাচারালিস্ট’ বা প্রকৃতিবিদ হিসেবে যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়ে তরুণটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় রিস্ক নিয়ে ফেলেছিলেন, কারণ সেকালে এই ধরণের যাত্রা ছিল খুবই বিপদসঙ্কুল, কিন্তু এই যাত্রাই পরে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। তিনি নিজেই পরে জানাবেন, ‘বিগল-এ করে সমুদ্রযাত্রা আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমার সমস্ত জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল এই অভিযান। বিজ্ঞানের জগতে আমার যা কিছু কীর্তি, তার ট্রেনিং পিরিয়ড ছিল এটাই।’ সন্দেহ নেই, বিগল-যাত্রার পাঁচ বছরে তিনি যা যা তথ্য এবং নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন, তার ওপরেই ভিত্তি করে গড়ে উঠবে এমন এক তত্ত্ব-সৌধ যা মুছে দেবে প্রাণী আর উদ্ভিদজগতের বিবর্তন সম্বন্ধে তখনও পর্যন্ত অর্জিত জ্ঞানকে। জীবজগতের ইতিকথা লিখতে হবে নতুন করে।

কিন্তু শুরু থেকেই চার্লস অসুস্থ হয়ে পড়লেন জাহাজযাত্রার ধকল না সইতে পেরে। শয্যাশায়ী হয়ে থাকলেন বেশ কয়েক সপ্তাহ। যাত্রা শুরুর সপ্তাহখানেক বাদে জাহাজ যখন নোঙর করল ম্যাদেইরা দ্বীপে, অসুস্থতার কারণে ডারউইন টেরও পেলেন না। দিন দুয়েক বাদে জাহাজ এসে পৌঁছল টেনেরিফ দ্বীপের সান্তাক্রুজ বন্দরে। ডারউইন এককালে এই দ্বীপেই বন্ধুকে নিয়ে বেড়াতে আসার প্ল্যান করেছিলেন। কিন্তু নিয়তির এমন পরিহাস, এই দ্বীপে কলেরার মহামারি চলতে থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজের সদস্যদের নামতে দিলেন না, জানালেন, কোয়ার‍্যান্টাইন করতে তাঁদের বারোদিন জাহাজেই কাটাতে হবে।

ক্যাপ্টেন রাজি হলেন না অতদিন ধরে কর্মহীন অবস্থায় একটা দ্বীপে কাটাতে। সুতরাং ডারউইনের দ্বীপটা ঘুরে দেখার ইচ্ছেকে বিনাশ করে জাহাজ আবার চলতে শুরু করল। পরের গন্তব্য কেপ ভার্দে দ্বীপ। শুরু হল পাঁচ বছরের দীর্ঘ যাত্রাকাল।

Cover of the book- what Mr. Darwin saw

এইচ এম এস সিরিজের জাহাজগুলির বিভিন্ন ধরনের নাম দেওয়া হত, এর মধ্যে থাকত বিভিন্ন পশুর নাম, যেমন র‍্যাটলস্নেক, স্কুইরেল, স্করপিওন ইত্যাদি, তবে সব নামের আগেই এইচ.এম.এস. শব্দ তিনটি বসত। ‘বিগল’ নামের জাহাজই তৈরি হয়েছিল সর্বমোট আটটা। এর মধ্যে ডারউইন যে বিগল জাহাজে চাপেন, সেটি ছিল তৃতীয়। ব্রিটিশ রয়াল নেভির আয়ত্তাধীন এই জাহাজে ছিল দুটো মাস্তুল – পাল খাটানোর ব্যবস্থাসহ, জাহাজটির ওজন ২৩৫ টন, লম্বায় সাতাশ মিটার, দশটা কামানযুক্ত। পৃথিবীকে একটা গোটা পাক খেয়ে ফেলল পাঁচ বছরে। কিন্তু এর আগে এই জাহাজটি যে অভিযানে সামিল হয়েছিল, সেখানে ঘটে গিয়েছিল এক ট্র্যাজেডি।

১৮২৬ সালের সেই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জলপথে জরিপ করে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলভাগের সঠিক মানচিত্র তৈরি করা। কিন্তু এই জাহাজের ক্যাপ্টেন দীর্ঘদিন লোকালয় ছেড়ে থাকতে থাকতে অবসাদে আক্রান্ত হয়ে পড়েন এবং আত্মহত্যা করে বসেন। এরপরে জাহাজের নেতৃত্ব চলে আসে লেফটেন্যান্ট রবার্ট ফিজরয়ের হাতে। ইনি দক্ষতার সঙ্গে ১৮৩০ সালে জাহাজটিকে ইংল্যান্ডে ফিরিয়ে আনেন। তাঁর এই সাফল্য তাঁকে বানিয়ে দেয় ক্যাপ্টেন, এবং একই জাহাজে আরও একবার বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে এসে পড়ে।

এই দ্বিতীয় অভিযানেই অংশ নিয়েছিলেন ডারউইন।

কিন্তু কীভাবে তিনি এই অভিযানে সামিল হলেন ?

Charles Darwin – revolutionary to the history of science

আগের যাত্রার অভিজ্ঞতা থেকে ক্যাপ্টেন বুঝেছিলেন একঘেয়ে সমুদ্রযাত্রায় একজন শিক্ষিত সঙ্গী পেলে সময় কাটানোটা কিছুটা সহজ হয়ে যায়, পাশাপাশি সেই মানুষটি যদি তথ্য সংগ্রহে দক্ষ হয়, তবে তো সোনায় সোহাগা। অভিযান চলাকালীন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ঘটনা যাতে মিস হয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল তো রাখতেই হবে। তাই ক্যাপ্টেন খোঁজ করছিলেন একজন তরুণ উৎসাহী অভিজ্ঞ জীববিদ্যাবিশারদের। এ জন্য তিনি যোগাযোগ করলেন ক্যাপ্টেন বিউফোর্ট-এর সঙ্গে। তিনি এই পরিকল্পনায় রাজি হলেন। তিনি চিঠি লিখলেন কেমব্রিজের অধ্যাপক পিকক-কে। পিকক সাহেব তাঁর বন্ধু অধ্যাপক হেনস্লো-র সঙ্গে আলোচনা করলেন কাকে নেওয়া যেতে পারে তাই নিয়ে। হেনস্লো জানান এক তরুণ ছাত্রের কথা, যিনি জীববিদ্যায় উৎসাহী, সদ্য অনার্স পরীক্ষা দিয়ে উঠেছেন, একটু পাগলাটে কিন্তু মেধাবী, আর সবচেয়ে বড় কথা, সে বিখ্যাত কবি এবং প্রকৃতিবিজ্ঞানী এরাসমাস ডারউইনের পৌত্র।

কিন্তু ডারউইনের বাবা প্রথমটায় সহজে রাজি হচ্ছিলেন না, কিন্তু পরিবারের অন্যদের অনুরোধে অবশেষে অনুমতি মিলল, আর ক্যাপ্টেনও খুশি মনেই ডারউইনকে সঙ্গী করলেন জাহাজযাত্রায়।

ইংল্যান্ডের প্লিমাউথ বন্দর থেকে জাহাজ রওনা দিল ১৮৩১ এর সাতাশে ডিসেম্বর। রওনা হওয়ার কথা ছিল তার আগের দিনই, কিন্তু জাহাজের অধিকাংশ সদস্য পঁচিশ তারিখের ক্রিসমাস পার্টিতে অতিরিক্ত আমোদফুর্তি করায় সেদিন তারা যাত্রা শুরু করার মতো পরিস্থিতিতে ছিল না। সুতরাং সাতাশ তারিখে সকালবেলা শান্ত কিন্তু হাল্কা বায়ুপ্রবাহ এবং ঝিরিঝিরি বৃষ্টিময় আবহাওয়ায় জাহাজের যাত্রা হল শুরু। জাহাজের সদস্য সংখ্যা তিয়াত্তর জন, আর ক্যাপ্টেনের নাম, আগেই বলেছি – রবার্ট ফিজরয় (Robert FitzRoy)।

এই অভিযানের কী কী উদ্দেশ্য – সেগুলো ছিল এইরকম –

ক/ আগের অভিযানের অসমাপ্ত কাজ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলভাগের মানচিত্র প্রস্তুত করা,

খ/ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের ঠিকঠাক দ্রাঘিমাংশ স্থির করা।

গ/ বিভিন্ন স্থানের আবহাওয়াগত তথ্যের সংগ্রহ, যেমন বাতাসের চাপ, সমুদ্রতলের উষ্ণতা, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি।

ঘ/ প্রবাল-প্রাচীর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি।

গন্তব্য প্রথমে দক্ষিণ আমেরিকা। এখানে ডারউইন স্থলভাগে নেমে সারাদিন ধরে পশুপাখি দেখতেন, সন্ধের সময় জাহাজ তাঁকে তুলে নিত। তাঁর সঙ্গে থাকত নোটবুক। তার পাতায় পাতায় কৌতূহলজাগানো সব পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করছেন তিনি। আর জাহাজে বসে পরে সেইসব নোটগুলি বড় খাতায় সাজিয়ে গুছিয়ে লিখে ফেলেন।

এরপরে জাহাজ এল আর্জেন্টিনায়। নমুনা সংগ্রহের কাজ তো চলছেই, পাশাপাশি তিনি খেয়াল করছেন সমকালীন নানান সামাজিক সমস্যাকে, যার মধ্যে দাসব্যবস্থা একটা জ্বলন্ত উদাহরণ।

এরপরে ১৮৩৫ সালে এলেন দক্ষিণ আমেরিকার আরও দক্ষিণের গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে। এখানে এসেই তাঁর চোখের সামনে যেন এক নতুন জগতের দরজা খুলে গেল। এখানে বিশাল আকৃতির কচ্ছপের যেন মেলা বসেছে, যাদের পিঠে তিনি কখনও-সখনও চেপেও বসতেন। এই দ্বীপ থেকেই তিনি পেলেন সবচেয়ে বেশি প্রাণী আর উদ্ভিদের নমুনা, যেসব দেখে তিনি পরে তাঁর বিখ্যাত সেই প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ আর অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের তত্ত্বকে গড়ে তুলবেন। কাজে লাগাবেন এই দ্বীপে দেখা নমুনাদের, তাঁর তত্ত্বের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে।

গ্যালাপাগোসের পর তাহিতি। তারপরে নিউজিল্যান্ড। পরের বছর, অর্থাৎ ১৮৩৬ এর জানুয়ারিতে জাহাজ এল অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনি শহর দেখে তিনি মুগ্ধ হলেন। তাঁর চোখে আরও মুগ্ধতার রঙ লাগল প্রবাল-প্রাচীর দেখে।

এর কয়েক মাস বাদে জাহাজ এল দক্ষিণ আফ্রিকায়। জুলাইতে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে, এই সেই দ্বীপ, যেখানে নেপোলিয়ানকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল তাঁর জীবনের শেষ কয়েক বছর।

এই বছরের অক্টোবরে জাহাজ যাত্রার সমাপ্তি। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলেন। তখন তিনি এক অন্য ডারউইন। যেন নবজন্ম ঘটে গেছে তাঁর। এক দামাল ডানপিটে অমনোযোগী ছেলে এখন চিন্তাশীল, মননদীপ্ত মানুষে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। কিন্তু কেমন ছিল ডারউইনের ছেলেবেলা ?

বাংলায় ডারউইনকে নিয়ে বইপত্র বড় একটা দেখা যায় না। ‘জ্ঞান বিচিত্রা’ থেকে প্রকাশিত একটি ক্ষুদ্রয়াতন বই ‘ডারউইনের গল্প’/ লেখক সত্যপ্রিয় মুখোপাধ্যায়, আপাতত আমার সামনে খোলা রয়েছে। এখানে ছোটদের মতো করে ডারউইনের জীবনের কথা বলা হয়েছে।

ডারউইনের জন্ম ১৮৩১ সালের উনিশে এপ্রিল, ইংল্যান্ডে। ছোট থেকেই সে ডানপিটে, আট বছর বয়সে মা-কে হারিয়ে ফেলায় বাবা ডাক্তার রবার্ট ডারউইন ছেলেকে মানুষ করার ভার নিয়েছেন। কিন্তু ছেলের মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল খুবই কম। সে ভারী দুষ্টু। পড়াশুনোয় একদম মন নেই। প্রথাগত বিদ্যার্জনের চাইতে নিজস্ব পরীক্ষাগারে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয়ে গবেষণায় তার উৎসাহ বরং বেশি।

ছেলেকে নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাক্তারি পড়তে পাঠালেন রবার্ট, কিন্তু সে চেষ্টাও বিফল হল। চার্লস, দেখা গেল বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছে জীবজগতের বিভিন্ন প্রজাতি পর্যবেক্ষণে, উদ্ভিদ আর প্রাণীদের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহে তার বিশেষ আগ্রহ। অবশেষে যখন সকলে ভেবে নিয়েছে তার দ্বারা বলার মতো কিছুই হবে না, তখন সে ডাক পেল ক্রাইস্ট কলেজের অধ্যাপক জন স্টিভেন্স হেনশ্লো-র কাছ থেকে, এক জাহাজ বিশ্বভ্রমণে রওনা দেবে, ডারউইন কি সেই যাত্রায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ?

Darwin’s finches

সুতরাং এই দামাল বিচ্ছু ছেলের চোখের সামনে খুলে গেল আশ্চর্য প্রকৃতি, বিচিত্র সব প্রজাতির বৈচিত্র্যময়তা তাকে শুধু মুগ্ধই করল না, এর পাশাপাশি সে শুরু করে দিল নমুনা সংগ্রহের কাজটিও। হরেক ফসিল, স্টাফড পশুপাখি ইত্যাদি জমতে লাগল জাহাজের খোলে।

এই জাহাজযাত্রাই ছেলেটিকে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দিল, চিরকালের মতো।

দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল, পাঁচ বছর পরে বিগল ফিরে এল ইংল্যান্ডে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা সফলভাবে শেষ করে। সেটা ১৮৩৬ সালের ২রা অক্টোবর। ডারউইনের বয়স এখন সাতাশ। তাঁর সঙ্গে বিশাল এক দুর্লভ সংগ্রহ। পাঁচ বছরের যাত্রাকালে তিনি যা জমিয়েছেন— দেড় হাজারের বেশি বিভিন্ন জাতের প্রাণী এবং উদ্ভিদের নমুনা, অসংখ্য খাতা আর নোটবুক জুড়ে তথ্যভাণ্ডার।

*****

কিন্তু এরপরেই শুরু হল আসল কাজ। এই বিপুল সংগ্রহকে ঘিরে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা, চিন্তাভাবনা, বেশ কয়েকজন জীববিদ্যা বিশারদদের সঙ্গে পশুপাখির নমুনাগুলি নিয়ে আলোচনা – এই সবকিছুর ফলশ্রুতি – ১৮৩৯ থেকে ১৮৪৩-এর মধ্যে পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত বই – ‘The Zoology of the Voyage of H.M.S. Beagle’।

তবে, ১৮৫৯ সালে প্রকাশিত ‘অরিজিন অব স্পিসিজ বাই মিনস অব ন্যাচারাল সিলেকশন’— বিখ্যাত এই বইটি ডারউইনের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ’ বা যোগ্যতমের টিকে থাকার নিয়ম— যে তত্ত্ব তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে, তা এই বইতেই প্রথম উল্লিখিত হয়েছিল।

কিন্তু সেই তত্ত্বের আলোচনা এই লেখার বিষয় না। এই তত্ত্ব প্রকাশের পর বেশ কয়েকবার সম্মুখীন হয়েছে বিতর্কের, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই প্রথমদিকে এই তত্ত্বকে শিখতে বা শেখাতে অনুমতি দেওয়া হত না, কারণ এই নিয়ম বাইবেলের সৃষ্টিতত্ত্বের বিরোধী। কিন্তু তবু সন্দেহাতীতভাবে যখন সারা পৃথিবী মেনে নিয়েছে এই তত্ত্বকে, আজ অবিশ্বাস্যভাবে হঠাৎ আমাদের দেশের এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে এই তত্ত্বকে ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন আমাদের আরও একবার পরিচিত সে অভিযানের কাহিনিকে ফিরে দেখা উচিত বইকি। এটাই হয়তো সে অপরিণামদর্শিতার নীরব প্রতিবাদ।

Add Comments