বিবেকানন্দঃ ডারউইন বনাম পতঞ্জলি

-আশিষ লাহিড়ী
বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী লেখক এবং আলোচক

১৮৯০ সালে কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানার নির্মাণ কাজ শেষ হয়। প্রসিদ্ধ জীববিজ্ঞানী রামব্রহ্ম সান্যাল (১৮৫০ – ১৯০৮) সে-কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ও পরে তাঁর তত্ত্বাবধায়ক হন। এই চিড়িয়াখানা গড়ে তোলার সুবাদে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। ১৮৯৮ সালে আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞানী সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। লন্ডনের জুওলজিক্যাল সোসাইটির সাম্মানিক পদও লাভ করেন।
১৮৯১ সালে বিবেকানন্দ যখন নিবেদিতা ও অন্যান্য শিষ্যদের সঙ্গে চিড়িয়াখানা দেখতে যান, সান্যাল মহাশয় ডারউইন তত্ত্ব সম্বন্ধে তাঁর ‘অভিমত’ জানতে চান। বিবেকানন্দ বলেন, ‘ডারউইনের কথা সঙ্গত হলেও evolution (ক্রমবিকাশবাদ)–এর কারণ সম্বন্ধে উহা যে চূড়ান্ত মীমাংসা, এ কথা আমি স্বীকার করিতে পারি না।’ বিবেকানন্দর মতে, ‘আত্মার বিকাশের তারতম্যেই বিচিত্রভাবে প্রকৃতির অভিব্যক্তি ও বিকাশ’। ১ তবে, ‘Animal Kingdom’–এ (নিম্ন প্রাণীজগতে) আমরা সত্য সত্যই survival for existence, survival of the fittest (জীবনসংগ্রাম, যোগ্যতমের উদবর্তন) প্রভৃতি নিয়ম স্পষ্ট দেখতে পাই। তাই ডারউইনের থিয়োরি (তত্ত্ব) কতকটা সত্য বলে প্রতিভাত হয়।’ কিন্তু মানুষের কথা আলাদা। ‘মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ evolution (পূর্ণবিকাশ) একমাত্র sacrifice (ত্যাগ) দ্বারা সাধিত হয়। যে পরের জন্য যত sacrifice (ত্যাগ) করতে পারে, মানুষের মধ্যে সে তত বড়ো।’ ২ অর্থাৎ বিবেকানন্দ মানুষের ‘স্পেশাল ক্রিয়েশন’-এ বিশ্বাসী, ঠিক যা নিয়ে বিশপ উইলবারফোর্সের সঙ্গে টমাস হাক্স্‌লির বিতর্ক প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে।
সান্যাল মহাশয় এ বিষয়ে প্রাচীন ভারতীয় ‘পন্ডিতদের’ ধারণা জানতে চান। বিবেকানন্দ যথার্থই বলেন, ‘সাংখ্যদর্শনে ঐ বিষয় সুন্দর আলোচিত হইয়াছে।’ এই কথাটি ১৮৮৩ সালে অক্ষয়কুমার দত্ত স্পষ্ট করে বলেছিলেন তাঁর ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়-এর দ্বিতীয় খন্ডের উপক্রমণিকায়। ‘জগতের যাবতীয় পদার্থ মূল প্রকৃতিরই কার্য-পরম্পরা মাত্র’ – সাংখ্যের এই মত ব্যক্ত করে তিনি একটি পাদটীকায় বলেনঃ
‘অধুনাতন বিজ্ঞানবিৎ সর্বপ্রধান ইয়ুরোপীয় পন্ডিত-সম্প্রদায়ের মত The Theory of Evolution কিয়দংশে কি এই সাংখ্য-মতের অনুরূপ বোধ হয় না ? তাহারা বলেন, যেমন শূককীট রূপান্তরিত হইয়া প্রজাপতি উৎপন্ন হয়, সেই রূপ এক বস্তু ও এক প্রাণী পরিণত হইয়া অন্য বস্তু ও প্রাণী উৎপন্ন হইয়া আসিতেছে। কপিল ঋষি তাহাদের ঐ মতের একটি সঙ্কুচিত অঙ্কুর রোপণ করিয়া গিয়াছেন একথা বলিলে কি বলা যায় না ?’ ৩
বিবেকানন্দের মৃত্যুর সাত বছর পর, ১৯০৯ সালে, ব্রজেন্দ্রনাথ শীল এ ব্যাপারটি নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করে যে-সিদ্ধান্তে আসেন তা এই রকমঃ ‘মানবচিন্তার ইতিহাসে সাংখ্য-পাতঞ্জল মত একটি অনন্য স্থান অধিকার করে রয়েছে। ওই মতের মধ্যেই প্রথম মহাজাগতিক বিবর্তন-প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট ও সর্বাত্মক বিবরণ তুলে ধরা হয় – নিছক অধিবিদ্যীয় দূরকল্পনা রূপে নয়, বৈজ্ঞানিক নিয়ম রূপে। সেই বৈজ্ঞানিক নিয়মের ভিত্তি হল শক্তির সংরক্ষণ, রূপান্তরণ ও বিচ্ছুরণ।’ ৪ সাংখ্যের সেই বিবর্তন-তত্ত্বকে বিবেকানন্দ এইভাবে ব্যাখ্যা করেনঃ
“নিম্নজাতিকে উচ্চজাতিতে পরিণত করতে পাশ্চাত্য মতে struggle for existence (জীবনসংগ্রাম), natural selection (প্রাকৃতিক নির্বাচন) প্রভৃতি যে-সকল নিয়ম কারণ ব’লে নির্দিষ্ট হয়েছে, … পাতঞ্জল দর্শনে কিন্তু এ-সকলের একটিও তাঁর কারণ ব’লে সমর্থিত হয়নি। পতঞ্জলির মত হচ্ছে এক species (জাতি) থেকে আর এক species-এ (জাতিতে) পরিণতি ‘প্রকৃতির আপূরনের’ দ্বারা (প্রকৃত্যাপূরাৎ) সংসাধিত হয়। আবরণ বা obstacles-এর (প্রতিবন্ধক বা বাধার) সঙ্গে দিনরাত struggle করে যে ওটা সাধিত হয়, তা নয়। আমার বিবেচনায় struggle (লড়াই) এবং competition (প্রতিদ্বন্দ্বিতা) জীবের পূর্ণতালাভের পক্ষে অনেক সময় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। হাজার জীবনকে ধ্বংস করে যদি একটা জীবের ক্রমোন্নতি হয় – যা পাশ্চাত্য দর্শন সমর্থন করে, তাহলে বলতে হয়, এই evolution (ক্রমবিকাশ) দ্বারা সংসারের কোনো উন্নতি হচ্ছে না। ৫

Darwin statue
‘সংসারের উন্নতির’ জন্য যে বিবর্তন ঘটে না, এবং বিবর্তন যে সমর্থন-অসমর্থনের ব্যাপার নয়, একটা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে বোঝাবার ব্যাপার – এই দৃষ্টিভঙ্গিটা বিবেকানন্দের মধ্যে নেই। অথচ ১৮৮৩ সালে অক্ষয়কুমার সাংখ্যকার কপিলের তত্ত্বপ্রস্তাবের অসামান্যতা স্বীকার করে নিয়েও এই যুক্তি দিয়েছিলেন যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যতিরেকে, নিছক বুদ্ধিযোগে কখনো কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে উপনীত হওয়া যায় না, তাঁর অঙ্কুর রোপণ করলেও না। তাই কপিল ঋষির প্রগাঢ় ও গুরুতর চিন্তায় মুগ্ধ হলেও তিনি বলেন, জগতের সৃজন-রহস্যের তল-স্পর্শ করতে ‘উদ্যত’ হয়েও কপিল সে-কাজ করতে পারেননি। তাঁর বদলে কপিল ঐ কয়েক মূল সূত্রানুসারে প্রকৃতিপুরুষ নামে দুইটি নিত্য পদার্থ স্বীকার করেন। প্রকৃতি অচেতন-স্বরূপ অর্থাৎ জড়। ইহারই পরিণাম অর্থাৎ বিকার দ্বারা সমুদয় বিশ্ব-ব্যাপার উৎপন্ন হইয়াছে। ৬
এটা একটা তত্ত্বপ্রস্তাব (হাইপোথিসিস)। বাস্তবের নিকষে এর কোনো প্রমাণ দাখিল করেননি কপিল, কী করে সে-প্রমাণ হাজির করা যায় সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিতও দেননি। অক্ষয়কুমার তাই পদ্ধতিতন্ত্রের নিরিখে কপিলের ভাবনাকে প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মর্যাদা দিতে পারেননি। বিবেকানন্দ কিন্তু পতঞ্জলির তত্ত্বপ্রস্তাবের সঙ্গে নিঃসংশয়ে একমত হয়ে বলেনঃ
“এখন দেখুন, পাশ্চাত্য struggle theory (প্রাণীদের পরস্পর সংগ্রাম ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দ্বারা উন্নতিলাভরূপ মত)-টা কতদূর horrible (ভীষণ) হয়ে দাঁড়াচ্ছে।“ ৭
যখনই বিবেকানন্দ বিবর্তনের প্রক্রিয়ার নৈতিক ভালোমন্দ বিচারের প্রসঙ্গ তোলেন, তখন বোঝা যায়, আসলে তিনি হার্বার্ট স্পেন্সার-কথিত ইভলিউশনারি এথিক্‌স বা সোশ্যাল ডারউইনবাদকে ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছিলেন। দুটো কিন্তু আলাদা জিনিস। ইভলিউশনারি এথিক্‌স-এর মূল তাত্ত্বিক বনেদ হলঃ কোনো কিছুর পথে তাঁর শেষ ধাপগুলি অবশ্যই আগের ধাপগুলির চেয়ে উন্নত। এটা কিন্তু ডারউইনের কথা নয়। উত্তরোত্তর ‘প্রগতি’র কথা, ক্রমশ ‘মন্দ’ থেকে ‘ভালো’য় উত্তীর্ণ হবার কথা ডারউইন বলেননি। সেটা বলেছিলেন তাঁরা, যাঁরা উনিশ শতকের laissez-faire পুঁজিতন্ত্রের সঙ্গে প্রাকৃতিক নির্বাচন মারফত বিবর্তনের তত্ত্বকে খাপ খাইয়ে নিতে চেয়েছিলেন। এর দ্বারা তাঁর ‘প্রমাণ’ করতে চাইলেন যে, ‘laissez-faire পুঁজিতন্ত্র’ অন্যান্য পুরোনো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলোর চেয়ে স্বভাবতই ‘প্রগতিশীল’। সুতরাং একটি সমাজের মধ্যে সবল কর্তৃক দুর্বলের শোষণের মধ্যে, অথবা বিভিন্ন সমাজের মধ্যে মারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে (যেমন উপনিবেশবাদীদের দ্বারা উপনিবেশকে শোষণের মধ্যে) অন্যায় তো কিছুই নেই-ই, বরং সেটাকেই মদত দেওয়া উচিত, গৌরবান্বিত করা উচিত, কেন না সেই পথেই ‘প্রগতি’। কিন্তু সাইমন ব্ল্যাকবার্নের কথায়, ‘কী-তত্ত্ব আর কী-প্রয়োগ, কোনো দিক থেকেই [ইভলিউশনারি এথিক্‌স] এ ধারণা বিশেষ শ্রদ্ধেয় বলে গণ্য হয় না।’ ৮
ডারউইন বরং তাঁর আবিষ্কৃত ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ তত্ত্বের অমোঘতার সঙ্গে মানুষের নৈতিক চেতনার সংঘাত দেখে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরেরই সর্ব-মঙ্গলময়তার প্রতি সংশয়ী হয়ে উঠেছিলেন। বড়ো বেদনাময় তাঁর সেই স্বীকারোক্তিঃ
“অন্যেরা যেমন অনায়াসেই চতুর্দিকে পূর্ব-পরিকল্পনা আর মঙ্গলময়তার সাক্ষ্য খুঁজে পান, আমিও তা দেখতে চাই, কিন্তু পাই না … বিশ্ব যেন বড়ো বেশি দুর্গত বলে মনে হয়। আমি কিছুতেই নিজেকে বোঝাতে পারি না যে একজন মঙ্গলময় সর্বশক্তিমান ঈশ্বর কেন এমনভাবে পরিকল্পনা করবেন যাতে … বেড়ালরা ইঁদুরদের নিয়ে খেলা করবে ?”
এখানে প্রকৃতি-নির্দিষ্ট অবিসংবাদিত ঘটনাটি হল বেড়ালরা মারবার আগে ইঁদুরদের নিয়ে খেলা করে। মানুষের বিচারে ঘটনাটা নিষ্ঠুর ও অনৈতিক, কিন্তু অপরিবর্তনীয়। তাই যদি হয়, তাহলে যিনি বা যাঁরা এ নিয়ম প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁকে বা তাঁদের নৈতিক অর্থে মঙ্গলময় বলা চলে না।
তরুণ বয়সে নরেন্দ্রনাথকেও পীড়িত করেছিল পৃথিবীর অমঙ্গল আর সর্বমঙ্গলময় ঈশ্বরের অস্তিত্বকে কী করে মেলানো যাবে, সেই প্রশ্ন। বস্তুত ‘যেসব প্রধান প্রধান প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেননি তারমধ্যে একটি ছিল প্রকৃতিতে অমঙ্গলের অস্তিত্বকে কী করে সর্বব্যাপি স্রষ্টার মঙ্গলময়তার সঙ্গে মেলানো যাবে? ৯ এর উত্তর কোনোদিনই খুঁজে পাননি তিনি, পাওয়া সম্ভব নয় বলেই; তবে শ্রীরামকৃষ্ণের অভিভাবনে ভক্তিস্রোতে মনের এই সব সংশয় থেকে মুক্ত হওয়ার পথটা খুঁজে পেয়েছিলেন। তা-সত্ত্বেও সারা জীবনই মাঝে মাঝেই এই প্রশ্ন তাঁকে তাড়া করে ফিরেছে। তাঁর বহু–আলোচিত ‘আত্মখন্ডন’-এর’ একটা মূল কারণই হল অসমাধিত এই প্রশ্ন।
ডারউইন কিন্তু নিজের আহরিত বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও তথ্যের আলোকে ঈশ্বরের সর্বমঙ্গলময়তার প্রতি বিশ্বাসকে অতিক্রম করে যেতে বাধ্য হন। অরিজিন-এর বেশ কয়েক বছর পরেই ‘ডিসেন্ট অব ম্যান’ (১৮৭১) লেখবার সময় দেখি তাঁর মতামতগুলো অনেক স্পষ্ট, মনের দ্বিধা অনেক কম। ঈশ্বরবিশ্বাস মানুষের সহজাত, এই তত্ত্বকে সহজেই খারিজ করে দিয়ে সেখানে তিনি বলতে পারেনঃ
“আমরা দেখেছি, এই বিশ্বাসকেই মানুষের অন্তর্জাত বলে, তাঁর সহজাত প্রবৃত্তির অঙ্গ বলে, বিবেচনা করা সম্ভব নয়।”
‘সর্বব্যাপী ও মঙ্গলময় স্রষ্টার এই ধারণাটি’ মানুষের সহজাত তো নয়ই, বরং ‘সংস্কৃতির জমিনে দীর্ঘকাল ধরে আবাদ করলে তবেই’ কেবল ঐ ধারণার উদ্ভব ঘটা সম্ভব। অর্থাৎ ঈশ্বরের অধিষ্ঠান প্রকৃতিজগতে নয়, সাংস্কৃতিক জগতে। ১০ ঐ ধারণাটি কার্ল পপার–কথিত ‘তৃতীয় জগতে’র বাসিন্দা, যে-জগৎ ‘মনের যাবতীয় আসবাবের জগৎ।’ ১১
কিন্তু ডারউইন যে-কথা বলতে পারেন, বিবেকানন্দের পক্ষে সে-কথা বলা সম্ভব নয়। কেন না দু’জনের অগ্রাধিকার দু’রকম। বিজ্ঞানী হিসাবে ডারউইনের কাছে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পদ্ধতিতন্ত্রের দাবি সবার আগে। তার যূপকাষ্ঠে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ, ধর্মবিশ্বাস সব বিসর্জন দিয়ে যন্ত্রণা ভোগ করতে প্রস্তুত। অপর দিকে, ধর্মনেতা হিসেবে বিবেকানন্দের কাছে শাস্ত্রের সত্যতার দাবি সবার আগে। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পদ্ধতিতন্ত্র্বের কাছে তিনি তাঁর বিশ্বাস বিসর্জন দিতে রাজি নয়, বাধ্যও নন। তাই তিনি ‘প্রতিষ্ঠা’ করেন যে পতঞ্জলির তত্ত্ব প্রস্তাব নৈতিক দিক থেকে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও মঙ্গলকর। নৈতিকতার দিকটা প্রাধান্য পেয়ে গেল বলেই তিনি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ডারউইনবাদের নাম করে আসলে বেছে নিলেন স্পেন্সার প্রমুখের ইভলিউশনারি এথিক্‌স-কে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে নিন্দিত। তাঁর মানে, বিবেকানন্দের যুক্তিতে জিতল আসলে মতাদর্শ – বিজ্ঞান নয়।
বিবেকানন্দ যে সত্যি জিতে গেলেন তাঁর প্রমাণ এই যে রামব্রহ্ম সান্যালের মত কৃতবিদ্য মানুষ তাঁর সঙ্গে কোনো তর্কে না গিয়ে বলেনঃ
‘স্বামীজীর কথা শুনিয়া স্তম্ভিত হইয়া রহিলেন; অবশেষে বলিলেন, “ভারতবর্ষে আপনার ন্যায় প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দর্শনে অভিজ্ঞ লোকের বিশেষ প্রয়োজন হইয়াছে। ঐরূপ লোকেই একদেশদর্শী শিক্ষিত জনগণের ভ্রমপ্রমাদ অঙ্গুলি দিয়া দেখাইয়া দিতে সমর্থ। আপনার Evolution Theory-র (ক্রমবিকাশবাদের) নতুন ব্যাখ্যা শুনিয়া আমি পরম আহ্লাদিত হইলাম।’ ১২
অর্থাৎ অরিজিন বেরোবার প্রায় চল্লিশ বছর পরেও তাঁর মত একজন গুণী প্রাণীবিজ্ঞানীর কাছেও ইভলিউশনারি এথিক্‌স আর ডারউইনের বিবর্তনবাদের সম্পর্ক পরিষ্কার নয় !


১ বাণী ও রচনা, ৯ – ১১৯-১২০
২ বাণী ও রচনা, ৯ – ১২১-১২২
৩ অক্ষয়কুমার দত্ত, ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়, দ্বিতীয় খণ্ড, উপক্রমণিকা, করুণা প্রকাশনী, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৪
৪ B N Seal, ‘The Mechanical, Physical and Chemical Theories of the Ancient Hindus’ ; see Prafulla Chandra Ray, A History of Hindu Chemistry, vol.2,BCPW, Calcutta, 1909, p. 60. অনুবাদ আমার।
৫ বাণী ও রচনা, ৯ – ১২০
৬ ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়, ২- পৃষ্ঠা ৩
৭ বাণী ও রচনা, ৯- ১২০
৮ ‘Neither the principle nor the applications command much respect.’ Simon Blackburn, Oxford Dictionary of Philosophy, OUP, Oxford, 1996, p. 128.
9 ‘One of the chief questions that he could not answer was: How to reconcile the presence of evil in Nature with the goodness of an omnipotent Creator?’ Swami Gambhirananda, A Short Biography of Swami Vivekananda http://www.vivekananda.net/BooksOnSwami/ShortBioGambhirananda.html
Accessed on 22.6.2012

Add Comments