চার্লস ডারউইন সম্পর্কে ঐতিহাসিক সময়সারণীঃ

-জন ভান উইহে
২০০২ – দ্য কমপ্লিট ওয়র্ক অফ চার্লস ডারউইন অনলাইন

১৮০৯ – ১২ই ফেব্রুয়ারি ইংলন্ডের শ্রসবেরিতে জন্ম রবার্ট ওয়ারিং ডারউইন ও সুসানা নী ওয়েজউডের পুত্রসন্তান রূপে।
১৮১৩ – সমুদ্রস্নানের অভিলাষে গ্রীষ্মকালে ওয়েলসের আবেগেলের কাছাকাছি গ্রস নামক স্থানে ভ্রমণ, তা থেকেই তাঁর শৈশবের প্রথম দিককার স্মৃতিচারণ।
১৮১৭ – শরসবেরিতে, ইউনিট্যারিয়ান মিনিস্টার জর্জ কেস পরিচালিত স্কুলে ভর্তি হন। এই বৎসরেই তাঁর মা মারা যান।
১৮১৮ – আবাসিক ছাত্র হিসেবে স্যামুয়েল বাটলারের শ্রসবেরির স্কুলে জুন মাসে ভর্তি হন তিনি। এখানে তিনি সাত বৎসর কাটিয়েছিলেন। এই বাটলারের নাতি আরেক স্যামুয়েল বাটলার (১৮৩৫-১৯০২), এই বিজ্ঞানলেখক ডারউইনবাদের সমালোচকও বটে।
১৮১৯ – উত্তর ওয়েলসের তোইনে, গ্রীষ্মের ছুটিতে জুলাই মাসে প্ল্যাস এডওয়ার্ড নামক স্থানে ঘুরতে গিয়েছিলেন।
১৮২০ – ঘোড়ায় চেপে উত্তর ওয়েলসের পিস্টিল রায়াডারে, ভাই ইরাসমাসের সাথে ভ্রমণ।
১৮২২ – ডাউন্টনে বোন ক্যারোলিনের সাথে জুন মাসে ভবঘুরের মতো চলে আসেন। জুলাইয়ে মন্টোগোমারি এবং শ্রপসাইরের বিশপের ক্যাসেলে বোন সুসানের সাথে ঘুরতে যান।
১৮২৪ – স্কুলের বন্ধু জন প্রাইসের সাথে ওয়েলসের লানডুডনোতে বেড়াতে যান।
১৮২৫ – ১৭ই জুন তাঁর বাবা শ্রসবেরি স্কুল থেকে তাঁকে তাড়াতাড়ি ছাড়িয়ে আনেন। এডীনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২২শে অক্টোবর ভাই এরাস্মাসের সাথেই ম্যাট্রিকুলেশনে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। চিকিতসাবিদ্যার শাখায় ভর্তি হন। ২৬শে অক্টোবর প্রথম লেকচার। লোথিয়ান স্টেশনে বেলা এগারোটায় নামেন।
১৮২৬ – পায়ে হেঁটে ঘুরতে শুরু করেন উত্তর ওয়েলসে। ডঃ রবার্ট গ্রান্ট( ১৭৯৩-১৮৭৪)-র সাথে আলাপ শীতকালে। তিনি প্রকৃতিবিদ এবং ল্যামার্কপন্থী। সামুদ্রিক প্রাণীদের নিয়ে ওনার গবেষণা।
এই বছর ১০ই নভেম্বরে প্লিনিয়ান সোসাইটিতে মনোনীত হন।
১৮২৭ – প্লিনিয়ান সোসাইটিতে ২৭শে মার্চ সামুদ্রিক প্রাণীদের নিয়ে গবেষণাপত্র পাঠ। এপ্রিলে এডিনবরা বিদায়। বসন্ত বেলফাস্ট ও ডাবলিনে কাটানো। ফ্রান্সের প্রথম ও শেষ ভ্রমণ,প্যারিসে ওয়েজউড ভাইদের নিয়ে মে মাসে ঘুরতে যাওয়া। এই বৎসর গ্রীষ্মে তিনি বেশীরভাগ সময়ই মস্টিন আওয়েন্সের উডহাউস অঞ্চলের বাড়িতে কাটিয়েছিলেন ডারউইন। ক্যামব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে ভর্তি হন, কিন্তু ১৮২৮ সালের জানুয়ারি মাসে সেখানে আবাসিক রূপে যান। পঠনপাঠনের বিষয় ছিল খুবই সাধারণ, থিওলজিক্যাল ট্রেনিং-এর কিছু প্রাথমিক ধাপ।
১৮২৮ – ক্রাইস্ট কলেজে তাঁর খুড়তুতো ভাই উইলিয়াম ডারউইনের সাথে সখ্য তৈরি হয়। একজন উৎসাহী এন্টোমোলজিস্ট এবং বিটল পোকার সংগ্রাহক। জন স্টিভেনস হেন্সলো’র উদ্ভিতবিদ্যার ক্লাস করা।
১৮২৯ – এন্টোমোলজিস্ট ফ্রেদ্রিক উইলিয়াম হোপের সাথে পতঙ্গ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওয়েলস ভ্রমণ। ক্যামব্রিজে মাইকেলমাস টার্মে কাটানো। লিওনার্ড জেনিন্সের সাথে এন্টমোলজি সংক্রান্ত আলোচনা, শুক্রবারের সন্ধ্যাটা হেন্সলোর সাথে কাটানো।
জুলাই মাসে স্টিফেন্সের ইলাস্ট্রশানস অফ ব্রিটিশ এন্টোমলজিতে তাঁর নাম শোনা যায়। এরাসমাসের সাথে ডিসেম্বরে তিন সপ্তাহ লন্ডনযাপন। হোপ এবং স্টিফেন্সের সাথে এন্টমোলজি নিয়ে কথাবার্তা।
১৮৩০ – ‘লিটল গো’ পড়ার জন্য জানুয়ারিতে ক্যামব্রিজে। হপের সাথে উত্তর ওয়েলসে পতঙ্গ সংগ্রহের জন্য অগাস্ট মাসে ভ্রমণ। হোপ এবং টি.সি নর্টনের কাছে এন্টমোলজির ব্যাপারে দেখাসাক্ষাৎ।
১৮৩১ – ২২ শে জানুয়ারি অনার্স ছাড়াই বি.এ পাশ করেন ডারউইন। আবাসিকের কর্তব্য পালনের জন্য তাঁকে আরও দুটো টার্ম কাটাতে হয়। হেন্সলোর সাথে অনেকটা সময় তিনি কাটিয়েছিলেন। জিওলজির প্রোফেসর অ্যাডাম সেজউইকের সাথে অগাস্ট মাস কাটান ওয়েলসে ওনার বার্ষিক ফিল্ড ভ্রমণে। অগস্ট মাসেই শ্রসবেরিতে প্রত্যাবর্তন। এসেই তিনি হেন্সলোর কাছ থেকে বিগেল যাত্রার নিমন্ত্রণের চিঠি পেয়েছিলেন। ডারউইনের পিতা নন, বরং তাঁর কাকা জশিয়া ওয়েজউডের ব্যবস্থাপনায় তিনি সমুদ্রযাত্রার অনুমতি পান। জাহাজযাত্রার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তিনি ক্যাপ্টেন রবার্ট ফিটজ্রয়ের সাথে দেখা করেন। বিগেলের ডাইরির প্রারম্ভ হয়। দুটিমাত্র ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরে অবশেষে ২৭শে ডিসেম্বর প্লিমাউথ থেকে জাহাজ রওনা দেয় অজানার পানে।
১৮৩২ – ১৬ই জানুয়ারি, কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জের সেন্ট জাগো সৈকতে প্রথম অবতীর্ণ হন ডারউইন। ফিল্ড নোটবুকের কাজ এবার শুরু। ৩২ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ৩৪ এর মে মাস অবধি দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলে অনুসন্ধান চালিয়েছিল বিগেল জাহাজ। তাঁরা তিয়েরে ডেল ফিউগোতে পৌঁছান ডিসেম্বর মাস নাগাদ।
১৮৩৩ – মার্চ মাসে বিগেলের গন্তব্য ফক্ল্যান্ড দ্বীপ। মাল্ডনাডো দ্বীপে এপ্রিল থেকে জুলাই মাস। অগস্ট থেকে ডিসেম্বর তাঁদের যাত্রা রিও নেগ্রো ও মন্টেভিডিওতে।
১৮৩৪ – এই বৎসরের প্রথম ভাগে টিয়েরা দেল ফিউগোতে সমীক্ষা চালানো এবং ফক্ল্যান্ড দ্বীপে আবার ভ্রমণ। এপ্রিল থেকে মে মাস অবধি ডারউইন ও ফিটজ্রয়ের সান্তা ক্রুজ নদী বরাবর অন্তর্দেশীয় অনুসন্ধান কাজ। শেষমেশ জুন মাস নাগাদ ম্যসাগেলান ত্যাগ। ১৮৩৪ সালের জুন মাস থেকে ১৮৩৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে বিগেলের অভিযান। চিলোই দ্বীপে সমাপ্ত এই যাত্রা। ভাল্পারাইসোতে জুলাই থেকে নভেম্বর মাস অবধি ডারউইনের অবস্থান, চিলই দ্বীপে ফেরত আসেন ১৮৩৫ এর ফেব্রুয়ারিতে।
১৮৩৫ – ভাল্ডিভিয়াতে ফেব্রুয়ারি মাসটা কাটিয়ে মার্চে রইলেন কন্সেপ্সিওনে, উত্তরাভিমুখে দীর্ঘ অনুসন্ধান মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর জুড়ে। কপিয়াপো, ইকুইকো ও কাল্লাওতে বিরতি নেন তিনি। সেপ্টেম্বর ৭য়ে লিমা ছাড়ে বিগেল জাহাজ, গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশ্যে। ২০শে সেপ্টেম্বর থেকে ২০ শে অক্টোবর একমাস যাবত ঐ দ্বীপপুঞ্জের জীবসম্ভার সন্ধান করার পর, ১৫-২৬ শে নভেম্বর কাটান তাহিতি দ্বীপে। ফের ২১-৩০ শে নভেম্বর নিউজিল্যান্ড দর্শন। হেলস্লো ডিসেম্বর মাসে তাঁর চিঠি থেকে উপজীব্য বিষয়গুলি প্রকাশ করতে শুরু করেন।
১৮৩৬ – সিডনি বন্দরে জানুয়ারিতে গিয়ে থামে বিগেল জাহাজ, ফের হোবার্টে ফেব্রুয়ারি মাসে, এপ্রিলে কোকোস ও নিলিং দ্বীপে এবং তারপরে মরিশাস। ৩১ মে- ১৮ জুন তাঁরা উত্তমাশা অন্তরীপে ভ্রমণ করেন। ফিটজ্রয়ের সাথে প্রথম লেখা প্রকাশ। সেন্ট হেলনাতে থামার আগে অ্যাটল্যান্টিক মহাসাগরে পথ খুজে নেয় বিগেল। জুলাইতে তাঁরা পৌঁছান আসসেন্সান দ্বীপে। কিছু অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণের জন্য ব্রাজিলে খুব কম সময়ের জন্য প্রত্যাবর্তন করেন ওনারা। সেপ্টেম্বরে বিগেল গিয়ে থামে অ্যাজরে। ইংলন্ডের ফল্মাউথে ২ রা অক্টোবর বিগেল নোঙ্গর ফেলে এবং ৪ঠা অক্টোবর ডারউইন তাঁর শ্রসবেরির বাড়িতে ফিরে আসেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রগুলি প্রকাশিত হতে থাকে।
১৮৩৬-৩৭ – ক্যামব্রিজের ফিটজউইলিয়াম স্ট্রীটে ৩৬ এর ১৬ই ডিসেম্বর থেকে ৩৭ এর ৬ই মার্চ অবধি বসবাস করেছিলেন চার্লস ডারউইন।
১৮৩৭ – লন্ডনের ৩৬ গ্রেট মার্লবোরো স্ট্রীটে মার্চ মাস থেকে থাকতে শুরু করেন ডারউইন। জিওলজিক্যাল সোসাইটিতে গবেষনাপত্র জমা দেন। বিগেলযাত্রায় সংগৃহীত নমুনাদের চিহ্নিত করে সাজিয়ে ফেলেন পর্যায়ানুযায়ী। দ্য জুলোজি অফ দ্য ভয়েজ অফ দ্য বিগেল নামক বইটির প্রকাশনাপর্ব শুরু হয়। জিওলজিস্ট চার্লস ল্যেলের সাথে সখ্য হয় তাঁর। প্রকৃতিবিদ জন গোল্ড তাঁর পক্ষীনমুনাসমূহ চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। জুলাইয়ে উন্মোচিত হয় তাঁর নোটবুক অন দ্য ট্রান্সমিউটেশন অফ স্পিসিস।
১৮৮ – প্রাকৃতিক ইতিহাস এবং জিওলজিক্যাল বিষয়ের উপর তিনি জোরকদমে কাজ করতে থাকেন। স্কটল্যান্ডে বসে পেপার অন জিওলজি অফদ গ্লেন রয় নামক গবেষণাপত্রটি সমাপ্ত করেন। টি.আর.মাথাসের এসে অন দ্য প্রিন্সিপাল অফ পপুলেশন বইটি নেহাত আনন্দের জন্যই তিনি পড়ে ফেলেন ২৮শে সেপ্টেম্বর। নিজের আত্মজীবনীতে ডারউইন লিখছেন এই প্রসঙ্গে, “এখানেই সেই সময়ে শেষমেশ কাজ করার মতো একটা তত্ত্ব আমি খুজে পাই’’। ১১ই নভেম্বর এমা ওয়েজউডকে বিবাহের প্রস্তাব দেন ডারউইন। এই বৎসরের শেষ তিনটি সপ্তাহ লন্ডনের গোয়ার স্ট্রীটে কাটিয়েছিলেন ডারউইন।
১৮৩৯ – এমা ওয়েজউডের সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয় ২৯শে জানুয়ারি। জার্নাল অফ রিসার্চেস নামক গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেন, পরে যা ভয়েজ অফ দ্য বিগেল নামে বেশী জনপ্রিয় হয়েছিল। এই বতসরেই তিনি রয়াল সোসাইটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রথম পুত্রসন্তান উইলিয়ামের জন্ম হয় ঐ বছরই। ডারউইন ও এমার শেষমেশ মোট দশটি সন্তান জন্মলাভ করে, যদিও তাদের মধ্যে কেবলই ৭জন বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়। ডারউইন রচিত কোয়েসচেন আবাউট দ্য ব্রিডিং অফ আনিম্যালস নামক লেখাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
১৮৪০ – অন দ্য ফর্মেশান অফ মোল্ড নামের গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও পূর্নাঙ্গ বইটি ১৮৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
১৮৪১ ০- ভ্যারাইটিস অ্যান্ড স্পিসিস শীর্ষক একটি বই যে তিনি তদানীন্তন কাজগুলি শেষ হলেই তিনি শুরু করবেন, তাই নিয়ে চিঠি লেখেন ভাই ফক্সকে। অন দ্য ডিস্ট্রিবিউশন অফ এর‍্যাটিক বোল্ডারস নামের কিছু জিওলজিকাল প্রবন্ধ তিনি লিখেছেন এই সময়েই।
১৮৪২ – ওয়েলসে একটা ছোট জিওলজিক্যাল অনুসন্ধানে বের হন ডারউইন। কেন্টের ডাউন গ্রামে স্ত্রী ও পরিবারের সাথে ডাউন হাউসে থাকতে শুরু করেন তিনি। দ্য স্ট্রাকচার অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশান অফ কোরাল রিফস জনসমক্ষে আসে। তাঁর স্ত্রীর পরিবারের স্ট্যাফোর্ডশায়রের ম্যের-এর বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে একটা সংক্ষিপ্ত পেনসিল স্কেচ তিনি আঁকেন, বিষয় ছিল ডিসেন্ট উইথ মডিফিকেশান।
১৮৪৩ – ডাউন হাউসে কাজ শুরু হয়। আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তাঁর কাজ চলতে থাকে।
১৮৪৪ – সেই স্কেচটিই পরে দীর্ঘতর নিবন্ধে পরিণত হয়। এমা ডারউইনকে তিনি একটি স্মৃতিচারণ লেখেন, এই নিবন্ধটিকে নিজের মৃত্যুর পর প্রকাশের স্বপ্ন নিয়ে, ডারউইন সংশ্লিষ্ট বন্ধুদের নাম উল্লেখ করেন যারা সম্ভাব্য সম্পাদক হতে পারেন। জিওলজিক্যাল অবসারভেশনস অন দ্য ভল্ক্যানিক আইল্যান্ডস ভিসিটেড ডিউরিং দ্য ভয়েজ অফ বিগেল নামের গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেন তিনি।
১৮৪৫ – জার্নাল অফ রিসার্চেস-র দ্বিতীয় পরিমার্জনার জন্য ব্যাপৃত ও পুনর্মূল্যায়ন করেন লেখাটি। জন মুর‍্যের লন্ডন পাব্লিশিং হাউসের সাথে জীবনব্যাপী সম্পর্ক শুরু করেন ডারউইন।
১৮৪৬ – প্রকাশিত হয় তাঁর জিওলজিক্যাল অবসারভেশনস অন সাউথ আমেরিকা শীর্ষক গবেষণাপত্রটি। অক্টোবরে বার্নাকেলসের উপর কাজ আরম্ভ করেন তিনি।
১৮৪৭ – বার্নাকেল নিয়ে কাজ তিনি চালাতে থাকেন। ফেব্রুয়ারি মার্চে শ্রসবেরিতে ভ্রমণ করেন ডারউইন। জুন মাসে অক্সফোর্ডের ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশান ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্সে যোগ দেন। জুলাইয়ে বাড়ি ফেরেন ডারউইন। শ্রসবেরিতে ফের কাটান ২২শে অক্টোবর থেকে ৫ম নভেম্বর অবধি।
১৮৪৮ – নভেম্বরে তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে। শ্রসবেরিতে অন্তিমকার্যে যোগদান করার ইচ্ছেতে রওনা হলেও তিনি দেরিতে পৌঁছান গন্তব্যে।
১৮৪৯ – মাল্ভের্ন ওয়েলসে জলের সংস্পর্শে থাকার উদ্দেশ্যে পুরো পরিবারের সাথে কাটিয়েছিলেন মার্চ থেকে জুন মাস অবধি। অ্যা ম্যানুয়াল অফ সায়েন্টিফিক এনক্যোয়ারিঃ প্রিপেয়ার্ড ফর দ্য উইস অফ হার ম্যাজেস্টি’স নেভি নামক জার্নালে জিওলজি সংক্রান্ত একটি অধ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর।
১৮৫০ – বার্নাকেলসের উপর তিনি এখনও কাজ করে চলেছেন। মাল্ভার্ন ওয়েলসে ১১-১৮ই জুন ঘুরতে যান ডারউইন।
১৮৫১ – মাত্র ১০ বছর বয়সে মাল্ভের্নে ঘুরতে গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বড় মেয়ে অ্যানি মারা যান। লন্ডনের হাইউ পার্কে বিশাল এক প্রদর্শনীতে জুলাই মাসে সপরিবারে যান ডারউইন। বার্নাকেলসের উপর প্রথম দুই সংখ্যা প্রকাশ করেন তিনি, অ্যা মোনোগ্রাফ অন দ্য সাব-ক্লাস সিরিপিডিয়া এবং জীবাশ্ম বার্নাক্লেসের উপর অ্যা মোনোগ্রাফ অন দ্য ফসিল লেপাডিড্যে নামক বইটি তিনি সমক্ষে নিয়ে আসেন।
১৮৫২ – সেসিল সিরিপেডেস নিয়ে যে বার্নাকেলস, ডারউইন তার উপরে এক বৎসর যাবৎ কাজ করেছিলেন। মার্চের ২৪-এ রাগবি খেলেন একদিনের জন্য, তারপর শ্রসবেরি হয়ে বাড়ি ফেরেন পয়লা এপ্রিল। জশিয়া ওয়েজউডের সাথে দেখা করার জন্য ১১ই সেপ্টেম্বর ল্যিথ হিল প্লেসে ভ্রমণ করে, ডারউইন পুনরায় বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন ঐ মাসের ১৬ তারিখে।
১৮৫৩ – সংবাদমাধ্যমের জন্য সেসিল সিরিপেডেস্র উপর এম.এস তৈরিতে সারাবছর ব্যস্ত ছিলেন।
১৮৫৪ – বার্নাকেলসের উপর শেষ কয়েকটি ভলিউম প্রকাশ পায়, অ্যা মোনোগ্রাফ অন দ্য সাব-ক্লাস সিরিপিডিয়া এবং অ্যা মোনোগ্রাফ অন দ্য ফসিল ব্যালানিড্যে অ্যান্ড ভ্যেরুসিড্যে। অতি শীঘ্রই ডারউইন প্রজাতি বিষয়ক পূর্ণসময়ের গবেষনা শুরু করেন।
১৮৫৫ – বীজ পরীক্ষা করার কাজে মুখ্যরুপে নিযুক্ত হন কিছুদিনের মেয়াদে, মার্চ ও এপ্রিলে।
১৮৫৬ – চার্লস ল্যিলের পরামর্শে ন্যাচারাল সিলেকশন নাম্নী সম্ভাব্য বইটি নিয়ে তিনি কাজকর্ম আরম্ভ করেন।
১৮৫৭ – প্রজাতি সম্বন্ধীয় বইটির লেখালিখিতেই কাটিয়ে দেন গোটা বছর।
১৮৫৮ – ইন্দোনেশিয়াতে নমুনা সংগ্রহে ব্যস্ত থাকা গবেষক আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেশের কাছ থেকে ডারউইন চিঠি পান। ডারউইনের ন্যাচারাল সিলেকশনের প্রায় হুবহু প্রতিচ্ছবি হিসেবে ওয়ালেশ একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন প্রজাতি ও বৈচিত্র্য নিয়ে। আমি এমন কাকতালীয় বিষয় কোনোদিন দেখিনি, যদি অয়ালেশের কাছে আমার এম.এস স্কেচের সম্প্রসারণটি ১৮৪২ সালে থাকতো, তারচে বেশী অবাক তিনি হতেন না – এই ছিল তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া। ২৮শে জুন তাঁর শিশুসন্তান চার্লস স্কারলেট জ্বরে মারা যায়। পয়লা জুলাই লন্ডনের লিনেয়ান সোসাইটিতে চার্লস ল্যিল এবং জসেফ হুকারের তত্ত্বাবধানে ডারউইন এবং অয়ালসেশের লেখা পাঠ করা হয়েছিল। হাস্যকর যে, ডারউইন বা অয়ালেশ কেউই উপস্থিত ছিলেন না সভায়। এই দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল জার্নাল অফ দ্য প্রসিডিংস অফ দ্য লিনেয়ান সোসাইটি অফ লন্ডন নামক পত্রিকায়। প্রকাশের জন্য তাঁর নিজের উপলব্ধি নিয়ে বিশ্লেষণ করতে তিনি ভ্রমণ করেন ইলে অফ হুইটে।
১৮৫৯ – জন মুর‍্যের উদ্যোগে ২৪শে নভেম্বর লন্ডনে প্রকাশ পায় অন দ্য অরিজিন অফ স্পিসিস বাই মিন্স অফ ন্যাচারাল সিলেকশান, অর দ্য প্রিসারভেশন অফ ফেভার্ড রেসেস ইন দ্য স্ট্রাগেল ফর লাইফ। ইয়র্কশায়েরের ইক্লে অঞ্চলে তিনি তখন জলকেলি সারছেন।
১৮৬০ – বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ পায়। বিদেশী সম্পাদকরা হাজির হন। ডারউইন বৈচিত্র্যের উপর পুস্তক রচনা শুরু করেন।
১৮৬১ – ভেদবৈচিত্র্যে বিষয়ে তাঁর অধ্যয়ন চলতে থাকে। বিখ্যাত বইটির তৃতীয় পরিমার্জিত রুপ প্রকাশ পায়। অর্কিড সম্পর্কে বই লেখা শুরু করেছিলেন তিনি এই বছরেই।
১৮৬২ – দাড়ি বাড়তে থাকে অসুস্থতার পর। অন দ্য ভ্যারিয়াস কন্ট্রিভ্যান্সেস বাই হুইচ ব্রিটিশ অ্যান্ড ফরেন অর্কিডস আর ফারটিলাইজড বাই ইন্সেকটস, অ্যান্ড অন দ্য গুড এফেক্টস অফ ইন্টারক্রসিং নামক বইটি প্রকাশিত হয়। ইন্দোনেশিয়া ফেরত অ্যালফ্রেড রাসেল অয়ালেশের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে।
১৮৬৩ – গভীরভাবে অসুস্থ, বহু চিকিৎসককেই উপসর্গের কথা বলেছেন। ৬৬-র বসন্তকাল অবধি এই অসুস্থতা চলতে থাকে।
১৮৬৪ – লন্ডনের রয়াল সোসাইটির তরফ থেকে কোপ্লে পদকলাভ করেন ডারউইন, যা কিনা বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মান।
১৮৬৫ – আরোহী বৃক্ষ সম্বন্ধে একটা নিবন্ধ তিনি প্রকাশ করেন লন্ডনের লিনেয়ান সোসাইটিতে। নাম ছিল, অন দ্য ম্যুভমেন্টস অ্যান্ড হ্যাবিটস অফ ক্লাইম্বিং প্ল্যান্টস। ৬৫তে এটা বই আকারে বের হয়।
১৮৬৬ – অরিজিন অফ স্পিসিসের চতুর্থ সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল। ভেদবৈচিত্র্যে নিয়ে বইয়ের কাজ এরমধ্যেই চলতে থাকে। মুখচ্ছবি আঁকাবার উদ্দেশ্যে বসেন।
১৮৬৭ – বৈচিত্র্য নিয়ে লেখা সমাপ্ত হয়। ক্যোয়ারিস অ্যাবাউট এক্সপ্রেশান ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল।
১৮৬৮ – ইলে অফ হুইটে বেড়াতে গিয়েছিলেন জুলাই মাসে এবং সেখানে গিয়ে টেনিসন ও জুলিয়া মারগারেট ক্যামেরুনের সাথে দেখা হয় তাঁর। ক্যামেরুন তাঁর ছবি তোলেন। দ্য ভ্যারিয়েশন অফ আনিম্যালস অ্যান্ড প্ল্যান্টস আণ্ডার ডোমেস্টীকেশন নামক গবেষণাপত্র পুস্তকরুপে প্রকাশ পায়।
১৮৬৯ – অরিজিন অফ স্পিসিসের পঞ্চম সংস্করণ বের হয়েছিল। ডিসেন্ট অফ ম্যান বিষয়তে তাঁর কাজ নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
১৮৭০ – গোটা বছরটাই ডিসেন্ট অফ ম্যান বিষয়ে কাজ করতে কেটে যায়। পরিবারবর্গের কাছে কয়েকবার ভ্রমণ।
১৮৭১ – প্রকাশ পায় দ্য ডিসেন্ট অফ ম্যান অ্যান্ড সিলেকশন ইন রিলেশন অফ সেক্স। সেন্ট জর্জ মিভার্টের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন, ওনার মতামত খণ্ডন করার জন্য অরিজিন অফ স্পিসিসের ষষ্ঠ প্রকাশনে একটি নতুন অধ্যায় সংযুক্ত করেছিলেন। রিচার্ড লিচফিল্ডকে বিয়ে করে তাঁর মেয়ে হেনরিয়েটা লন্ডনের ব্রায়ান্সটোনে বসবাস শুরু করেন। সেই বাড়িতে মাঝেমধ্যেই ডারউইন যেতেন।
১৮৭২ – অরিজিন অফ স্পিসিসের ষষ্ঠ পরিমার্জিত রুপ প্রকাশিত হয়। ৯, ডেভোনশায়ের স্ট্রীটের লন্ডন হলিডে হাউস ভাড়া করে ফেব্রুয়ারি ১৩ থেকে ২১শে মার্চ অবধি থাকেন। কেন্টের সেভেনক্সে ভাড়া বাড়িতে সপরিবারে গমন করেন ছুটি কাটানোর জন্য। বারান্দা দেখে খুশি হয়ে ডাউন হাউসেও একটি বারান্দা তিনি নির্মাণ করেছিলেন এই বছরেই। দ্য এক্সপ্রেশান অফ দ্য ইমোশান্স ইন ম্যান অ্যান্ড আনিম্যালস প্রকাশ পায়।
১৮৭৩ – জর্জ এলিয়টের বাড়িতে একটি সরিতে যোগদান করেন তিনি। আরোহী বৃক্ষের উপর আর ডিসেন্ট অফ ম্যান দ্বিতীয় সংস্করনের জন্য কাজ চলতে থাকে।
১৮৭৪ – জানুয়ারি মাসে তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে প্রেততাত্ত্বিক সভা অনুষ্ঠিত হলেও ডারউইন সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন না। ঈশ্বরের ক্ষমা তখনও আমাদের মাথার উপরে আছে, যদি এই সব ফালতু বিষয়ে আমরা বিশ্বাস করি – এই ছিল তাঁর মন্তব্য। ডিসেন্ট অফ ম্যানের দ্বিতীয় প্রকাশনা এবং কোরাল রিফস নামক বইটি সামনে আসে।
১৮৭৫ – ইন্সেক্টিভোরাস প্ল্যান্টস বের হয়। রয়াল কমিশন অন সাব্জেক্টিং লাইভ আনিম্যালস টু এক্সপেরিমেন্টস –র কাছে প্রমাণ পেশ করেন। পোট্রেট শিল্পী ওয়াল্টার উইলিয়াম অউলেসের কাছে নিজের মুখচ্ছবির জন্য সিটিং দেন ডারউইন, পরিবারের জন্যেও এমনকি। পরে ক্রাইস্ট কলেজের জন্যও অউলেস একটা একই বরাদ পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, তাঁকে বিষাদময় বৃদ্ধ কুকুরের মতো লাগছিল।
১৮৭৬ – সন্তান ও সম্ভাব্য উত্তরপুরুষদের জন্য ডারউইন এইবার আত্মজীবনীমূলক স্মৃতিচারণ লিখতে শুরু করেন গ্রীষ্মে। ফ্রান্সিস ডারউইনের লেখা লাইফ অ্যান্ড লেটারস অফ চার্লস ডারউইন বইতে এই স্মৃতিচারণা উঠে আসে পুরোটাই প্রায়। এই বছর প্রকাশ পায় ডারউইনের দ্য এফেক্টস অফ ক্রস অ্যান্ড সেলফ ফার্টিলাইজেশন ইন দ্য ভেজিটেবল কিংডম। সেপ্টেম্বর মাসে ফ্রান্সিস ও এমি ডারউইনের কোলে আসে ডারউইনের প্রথম নাতি। যদিও, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমি প্রসবকালে মারা যান এবং ফ্রান্সিস তাঁর সদ্যোজাত শিশু বার্নাড ডারউইনকে নিয়ে ডাউন হাউসে তাঁর বাবার কাছে চলে আসেন। তিনি ডারউইনের সেক্রেটারি ও বোটানিক্যাল সহায়ক হয়ে ওঠেন কালক্রমে।
১৮৭৭ – ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে তাঁকে সাম্মানিক এল.এল.ডি প্রদান করা হয়। দ্য ডিফারেন্ট ফর্মস অফ ফ্লাওয়ারস অন দ্য প্ল্যান্টস অফ দ্য সেম স্পিসিস নামক লেখা প্রকাশিত হয়। একইসাথে অ্যা বায়োগ্রাফিকাল স্কেচ অফ অ্যান ইনফ্যান্ট শীর্ষক লেখাটিও মাইন্ড জার্নালে বের হয় । এই শেষোক্ত লেখাটিতে ১৮৩৯-৪১ সালে প্রথম সন্তান উইলিয়াম ডারউইনের ব্যাপারেও তথ্যসূত্র আছে।
১৮৭৮ – গাছের গতিবিধি ও পুষ্পোদয় নিয়ে তিনি সারা বছর কাজ করতে থাকেন।
১৮৭৯ – লেক ডিসট্রিক্টে কনিস্টনে পারিবারিক ছুটিতে বেড়িয়ে আসেন তিনি। জন রাস্কিনের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তাঁর পিতামহের জীবনীমূলক অধ্যায়ন তিনি চালাতে থাকেন- এরাস্মাস ডারউইন, ট্র্যান্সস্লেটেড ফ্রম দ্য জার্মান বাই ডবলু.এস. ডালাস, উইথ অ্যা প্রিলিমিনারি নোটিস বাই চার্লস ডারউইন। যদিও এরপরেওই স্যামুয়েল বাটলার তাঁকে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে দায়ী করেন এবং তিক্ততা শুরু হয়। ক্যামব্রিজ ফিলজফিক্যাল সোসাইটির তরফ থেকে উইলিয়াম ব্লেক রিচমন্ড তাঁর তৈলচিত্র আঁকেন। যদিও বিচ্ছিরি,ভয়ংকর এবং নোংরা বলেই ছবিটির মূল্যায়ন করেছিলেন এমা ডারউইন।
১৮৮০ – দ্য পাওয়ার অফ ম্যুভমেন্টস ইন প্ল্যান্টস…অ্যাসিস্টেড বাই ফ্রান্সিস ডারউইন নামক বইটি প্রকাশ পায়।
১৮৮১ – উলসওয়াটারে লেক ডিসট্রিক্টে আবার ভ্রমণ করেন জুলাইয়ের ছুটিতে। অগস্ট মাসে তাঁর ভাই এরাস্মাস মারা যান। তাঁর মরদেহটি ডাউন চার্চের কবরস্থানেই রাখা হয়। প্রকাশিত হয় দ্য ফর্মেশান অফ ভেজিটেবিল মোল্ড থ্রু দ্য অ্যাকশন অফ ওয়ার্মস, উইথ অবসারবভেশন্স অন দেয়ার হ্যাবিটস। কিউ গারডেনের কাছে আর্থিক অনুদানের বিনিময়ে প্রকাশ করেন ইনডেক্স কিউয়েন্সিস। অয়ালেশের জন্য সিভিল লিস্ট পেনশন ধার্য করেন। জীবন্ত প্রাণী নিয়ে বিজ্ঞানীদের পরীক্ষা করার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেন।
১৮৮২ – ১৯শে এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন চার্লস ডারউইন। ২৬ তারিখ ওয়েস্টমিন্সটার অ্যাবেতে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

Add Comments