সূর্য শক্তির এক অফুরন্ত ভাণ্ডার। কিন্তু পৃথিবীতে আমরা যখন সৌরশক্তি ব্যবহার করি, তখন মেঘ, কুয়াশা আর রাতের অন্ধকার আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই বাধাকে জয় করতে কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা একটি অদ্ভুত রোমাঞ্চকর স্বপ্ন দেখছিলেন—যদি সরাসরি মহাকাশে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়? জাপানি বিজ্ঞানীরা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। এই প্রথম মহাকাশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ মাইক্রোওয়েভ রশ্মিগুচ্ছ মারফৎ পৃথিবীতে পাঠিয়ে এক নতুন ইতিহাস গড়ল জাপান। পৃথিবীতে সোলার প্যানেল দিনে মাত্র নির্দিষ্ট কিছু সময় কাজ করে। কিন্তু মহাকাশে তো দিন-রাতের কোনো ভেদ নেই। সেখানে সূর্য সবসময় উজ্জ্বল। মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তি কেন্দ্র পৃথিবীর সাধারণ সোলার প্যানেলের তুলনায় প্রায় ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়:
•সংগ্রহ: বিশাল আকারের কৃত্রিম উপগ্রহে থাকা সোলার প্যানেলগুলো সরাসরি সূর্যের আলো শোষণ করে বিদ্যুৎ তৈরি করে।
•রূপান্তর: উৎপাদিত এই বিদ্যুৎকে অত্যন্ত শক্তিশালী মাইক্রোওয়েভ রশ্মিগুচ্ছ বা তরঙ্গে রূপান্তরিত করা হয়।
•প্রেরণ ও গ্রহণ: এই তরঙ্গকে পৃথিবীতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পাঠানো হয়। মাটিতে থাকা বিশেষ ধরনের অ্যান্টেনা (যাকে বলা হয় ‘রেকটেনা’) সেই তরঙ্গ গ্রহণ করে পুনরায় বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে সাধারণ গ্রিডে পাঠিয়ে দেয়। জাপানের এই প্রযুক্তি সফল হওয়ার অর্থ, আমরা এখন থেকে একটি দূষণ হীন শক্তির চিরস্থায়ী উৎস পেতে পারি। এতে কোনো কার্বন নিঃসরণ নেই, নেই পরিবেশ দূষণের ভয়। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন মহাকাশ থেকে সরাসরি পাঠানো বিদ্যুৎ হবে এক আশীর্বাদের মতো।
জাপানের এই সাফল্য কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, এটি আগামী পৃথিবীর জন্য এক নির্ভরতার বার্তা। যদিও এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে, তবে মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ নামিয়ে আনার এই শুরুটা প্রমাণ করে দিল যে মানুষ চাইলে আকাশের সীমানাকেও জয় করতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির দিন ফুরিয়ে আসছে, আর আমাদের ভবিষ্যৎ এখন মহাকাশের ওই সোনালী রোদে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
সূত্র :Geography zone
