ভারতের প্রয়োজন সচেতনতা, উদ্ভাবন

ভারতের প্রয়োজন সচেতনতা, উদ্ভাবন

ইন্ডিয়া টুডে-র ২০২১-এর কনক্লেভে বিল গেটস পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন বিশ্ব উষ্ণায়ন রুখতে যা যা করা প্রয়োজন তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের প্রয়োজন আরও সচেতনতা, আরও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা। সফটওয়ার কিংবদন্তির বিশ্ব উষ্ণায়ন সম্পর্কে কীভাবে উৎসাহ এল? ম্যাগাজিনের সম্পাদককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিল গেটস জানিয়েছেন, তার গেটস ফাউন্ডেশন আফ্রিকায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে কাজ করছে। সেই সময়টাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন গেটস। বলেছেন, “আফ্রিকায় ২০০০ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত থাকার সময়ই বুঝতে পেরেছিলাম বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য চলতে থাকা অবিরাম আবহাওয়ার পরিবর্তনে পৃথিবীর কত ক্ষতি হচ্ছে।”
বিশ্ব উষ্ণায়ন কমানোর জন্য বিশ্বের সমস্ত দেশগুলিকে নিয়ে হওয়া ২০১৫-র প্যারিস সম্মেলনে বিল গেটস ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আমেরিকার সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। আরও ৩০টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। গেটস জানিয়েছেন, অনেক রকমের উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল প্যারিসে। অনেক প্রতিশ্রুতির কথা শোনানো হয়েছিল রাষ্ট্রপ্রধানদের তরফ থেকে। বলা হয়েছিল বেসরকারি ধনী প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে উষ্ণায়ন কমাতে যা যা করার প্রয়োজন তার জন্য অর্থ নেওয়া হবে। তাদেরকেও পরিকল্পনাগুলির সঙ্গে সামিল করানো হবে।
কিন্তু আজ ২০২১-এ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় গেটস জানিয়ে দিলেন ২০১৫-র প্যারিস সম্মেলনের প্রাপ্তি শুধুই হতাশা!
গেটস মেনে নিচ্ছেন বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নির্গমন শূন্য শতাংশ করা ভীষণ কঠিন। অন্তত আজকের পৃথিবীতে। কিন্তু একইসঙ্গে বলছেন, “এই কাজটা সম্পূর্ণ করতে অনেক বছর লেগে যেতে পারে। কিন্তু শুরুটা তো করতে হবে। ২০১৫-র প্যারিস সম্মেলনের পর কতটা শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ? কতগুলো দেশ বাতাসকে দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এখনও পর্যন্ত?”
স্বাভাবিকভাবে ভারতের প্রসঙ্গ উঠেছে। গেটস একদম ‘বাপি বাড়ি যা’-র কায়দায় বলে দিয়েছেন, “বিশেষ কিছুই হয় নি। এমনকী, দূষণমুক্ত বাতাস কীভাবে হতে পারে সেই নিয়ে সাধারণ মানুষকে যথেষ্ঠ পরিমাণে সচেতনও করা হয় নি, হয়ও না! অথচ, ভারতের মত বিশাল জনসংখ্যার দেশে এই কাজটা অবিরাম করে যাওয়া উচিত ছিল। অল্প কিছু ব্যাটারি-চালিত গাড়ি বেরিয়েছে। যেটা অনেক আগেই প্রচুর পরিমাণে বাজারে এসে যাওয়া উচিত ছিল। তাতে পেট্রোল, ডিজেলের দূষণটা কমত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সৌরশক্তির আশ্রয় নেওয়া যেত। গ্রীন হাইড্রোজেন উৎপাদনের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া যেত। অন্তত ১০টি উদ্ভাবনী পরিকল্পনা করে তাদের ওপর কাজ শুরু করা উচিত ছিল। ২০১৫-র পর থেকে কাজ শুরু করা গেলে আজ হয়ত কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেত বাতাসে দূষণের পরিমাণ এখনকার চেয়ে অনেকটাই কম।”