প্রায় পাঁচ দশক পর নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস -২ মিশনের মাধ্যমে মানবজাতি আবার চন্দ্রপৃষ্ঠে পদার্পণ করতে চলেছে । তবে এবার নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রযুক্তি আর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। শেষবার ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো কর্মসূচির সময় মানুষ চাঁদে গিয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ৬ই এপ্রিল, এই মিশনের নভোচারীদের চাঁদের দূরবর্তী পাশ ঘুরে আসাটা ওই অঞ্চলকে মানবচোখে দেখার এক বিরল সুযোগ।
এই ছয় ঘণ্টার উড়ান চলাকালীন নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানীরা গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন নভোচারীদের অভিজ্ঞতা। চাঁদের দূরবর্তী পাশটি পৃথিবীমুখী অংশের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে লাভার বিশাল সমভূমি প্রায় নেই, বরং রয়েছে অনেক বেশি আঘাতের গর্ত এবং তুলনামূলকভাবে পুরু ত্বক।
ওরিয়ন স্পেস ক্র্যাফট ১ এপ্রিল ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর প্রথমে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে সিস্টেম পরীক্ষা করে, এরপর চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করে। তবে একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাঁদ ও সূর্যের অবস্থানের কারণে উড়ানের সময় চাঁদের দূরবর্তী পাশের মাত্র ২০% অংশ সূর্যালোকে আলোকিত থাকবে। ফলে অনেক অদেখা অঞ্চল এবারও অন্ধকারেই থেকে যাবে।
তারপরও বিজ্ঞানীরা উচ্ছ্বসিত, কারণ আলোকিত অংশেও তো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূতাত্ত্বিক গঠন দেখা যাবে । এই যাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হলো বিশাল ওরিয়েন্টেল উপত্যকা । প্রায় ৯৩০ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি বিশাল আঘাত-গহ্বর। এ সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ৪ বিলিয়ন বছর আগে Late Heavy Bombardment(LHB)/বিলম্বিত তীব্র আঘাতের সময়। একটি বিশাল গ্রহাণুর আঘাতে চাঁদের পৃষ্ঠ যেন তরঙ্গের মতো কেঁপে উঠে তিনটি বলয় তৈরি করেছিল। এই গঠন আজও বিজ্ঞানীদের কাছে সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহে আঘাত-গহ্বর বোঝার আদর্শ উদাহরণ।
এছাড়া নভোচারীরা ওম (Ohm) ক্রেটার এবং পাইরাজো ক্রেটার -এর মতো অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত গহ্বরও পর্যবেক্ষণ করবেন। বিশেষ করে সূর্যালোক কোণ পরিবর্তনের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠের রং, উজ্জ্বলতা এবং গঠন কীভাবে ভিন্নভাবে দৃশ্য হয়ে ওঠে, তা বিশ্লেষণ করা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই পর্যবেক্ষণগুলো হবে মানুষের চোখ দিয়ে। সূর্যালোকের কোণ, রঙের সূক্ষ্ম পরিবর্তন, আর ভূখণ্ডের ওঠানামা— মানুষের উপলব্ধি এসব কিছুকে এমনভাবে ধরতে পারে, যা যন্ত্রের পক্ষে সবসময় সম্ভব নয়।
এইভাবেই আর্টেমিস-২ মিশন আমাদের শুধু চাঁদের কাছে নয়, বরং মহাবিশ্বের গভীর রহস্যের কাছেও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: What Artemis II’s astronauts will look for on the Moon’s far side By Alexandra Witze,published in Nature, 4th April 2026.
doi: https://doi.org/10.1038/d41586-026-01103-9
