বায়োমেডিক্যাল গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ অনুদানের বৃহত্তম সংস্থা হল ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (এন আই এইচ)। সম্প্রতি এই সংস্থা তাদের গবেষণা অনুদান দেওয়ার পদ্ধতিতে এক বড় পরিবর্তন এনেছে। তা বৈজ্ঞানিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বহু দশক ধরে এন আই এইচ নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক সমস্যাকে লক্ষ্য করে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করত, যেগুলোকে বলা হয় “solicited” funding calls/ নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অনুদানের আহ্বান। এই পদ্ধতিতে সংস্থার বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্র নির্ধারণ করতেন এবং সেই অনুযায়ী গবেষকদের আবেদন করতে হতো।
কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি ডোমাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর এন আই এইচ এই পদ্ধতি থেকে সরে এসে অনাহুত বা “unsolicited”, অর্থাৎ গবেষক-নির্ভর প্রস্তাবের দিকে আগ্রহ প্রকাশ করছে। অর্থাৎ এখন গবেষকরা নিজের আগ্রহ ও ধারণার ভিত্তিতে গবেষণার বিষয় বেছে নিতে বেশি স্বাধীনতা পাচ্ছেন। এন আই এইচ -এর মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনিক খরচ কমবে এবং নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ পূর্বের তুলনায় অনেক বাড়বে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও কম নয়। অনেক গবেষকের মতে, বড় আকারের সমন্বিত প্রকল্প, যেমন- হিউম্যান জিনোম প্রোজেক্ট বা বহু ল্যাবের যৌথ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল—এগুলো সাধারণত সংস্থার নির্দিষ্ট আহ্বানের মাধ্যমেই শুরু হয়। নতুন পদ্ধতিতে এই ধরনের প্রকল্পের সংখ্যা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি বিরল ও অবহেলিত রোগের মতো কম-গবেষিত ক্ষেত্রগুলো আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনুদান মঞ্জুর প্রক্রিয়ার বিলম্ব। বর্তমানে এন আই এইচ -এর প্রতিটি অনুদানের আহ্বানে শুধু সংস্থার ভেতরেই নয়, মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিসের অনুমোদনও প্রয়োজন। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা আহ্বান, যেমন- টাইপ ১ ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণা মাসের পর মাস আটকে রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের প্রভাব খুবই খারাপ। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এন আই এইচ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭৮০টি অনুদান আহ্বান জারি করত। কিন্তু ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৭৩-এ, এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি আহ্বান প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী গড়ের তুলনায় প্রায় ৯০% হ্রাস ঘটেছে।
এই নতুন কৌশলের পূর্ণ প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়, কারণ একটি অনুদান আহ্বান থেকে প্রকৃত অনুদান পেতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। তবে ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে যে নির্দিষ্ট আহ্বানভিত্তিক প্রকল্পে অনুদানের হার কমেছে। আগে যেখানে নতুন গবেষণার প্রায় ২৫% অর্থ এই ধরনের প্রকল্পে ব্যয় হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১৮%-এ। সার্বিকভাবে, এন আই এইচ -এর এই “দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন’’ গবেষকদের স্বাধীনতা বাড়ালেও, বিজ্ঞানচর্চার ভারসাম্য, বড় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং অবহেলিত গবেষণা ক্ষেত্রগুলোর টিকে থাকা নিয়ে নতুন সংশয়ের বীজ রোপিত হল।
সূত্রঃ: NIH pivots away from agency-directed science By Max Kozlov.
doi: https://doi.org/10.1038/d41586-026-00823-2
