ওলেইক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ সয়াবিন ও দুগ্ধশিল্পে রূপান্তর 

ওলেইক অ্যাসিড-সমৃদ্ধ সয়াবিন ও দুগ্ধশিল্পে রূপান্তর 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামারে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা গোটা দুগ্ধ শিল্পের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির দীর্ঘদিনের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি উচ্চ মাত্রায় ওলেইক অ্যাসিডযুক্ত সয়াবিন খাওয়ানোর মাধ্যমে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই গরুর দুধের মান বেড়েছে এবং খামারের খাদ্য খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

মিশিগানের দক্ষিণে অবস্থিত প্রেস্টন ফার্মস নামের এই পারিবারিক ডেয়ারি খামারটি বহু প্রজন্ম ধরে দুধ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। এই পরিবারটি ২০২৪ সালে এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়। প্রায় ৪০০ একর জমিতে এই বিশেষ সয়াবিন চাষের ঝুঁকি নিয়েছিল। এটি ছিল তাদের মোট ১,৫০০ একর জমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। খামারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালক ব্রায়ান প্রেস্টনের ভাষায়, এই জমিতে চাইলে তারা ভুট্টা বা অন্য শস্য ফলাতে পারতেন—তাই সিদ্ধান্তটি ছিল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ।

কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে দ্রুত ফলাফল পাওয়া গেল। গরুকে খাদ্য হিসেবে সেই সয়াবিন খাওয়ানোর মাত্র তিন দিনের মধ্যেই দুধে ফ্যাট ও প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে দুধের বাজারদর বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে বাইরের উৎস থেকে কেনা পশুখাদ্যের খরচ প্রতি মাসে প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়, যা খামারটির জন্য ছিল বিশাল সাশ্রয়। ব্রায়ান প্রেস্টনের মতে, “ এমন পরিবর্তন এক প্রজন্মে একবারই ঘটে।”

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এম এস ইউ -এর অধ্যাপক অ্যাডাম লকের নেতৃত্বে এক দশকেরও বেশি সময় ব্যাপী গবেষণা। তাঁর দলটি মূলত গো খাদ্যে চর্বির ভূমিকা ও তার প্রভাব নিয়ে কাজ করছিল। এধরণের সয়াবিনে থাকা ওলেইক অ্যাসিড দুধের গুণমান বাড়াতে সাহায্য করে। এ ধারণাই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। আরও দেখা গেছে, সয়াবিন ভেজে খাওয়ালে এর উপকারিতা আরও বেড়ে যায়।

এর ফলে ডেয়ারি খামারগুলোকে আর অতিরিক্ত দামী ফ্যাট বা অ্যামিনো অ্যাসিড সমৃদ্ধ পরিপূরক খাদ্য কিনতে হচ্ছে না। নিজের জমিতে উৎপাদিত সয়াবিনই সেই চাহিদা পূরণ করতে পারছে। এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মিশিগানে হাই-ওলেইক সয়াবিনের বীজের চাহিদা এত বেড়ে যায় যে অনেক সরবরাহকারী বীজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

মিশিগানে বর্তমানে প্রায় ৮৫০টি ডেয়ারি খামার ও ৪ লক্ষের বেশি দুগ্ধবতী গাভী রয়েছে। রাজ্যের অর্থনীতিতে এই শিল্পের অবদান প্রায় ১৫.৭ বিলিয়ন ডলার। তাই দুধের মানোন্নয়ন ও উৎপাদন খরচ কমানোর এই আবিষ্কার শুধু কৃষকদেরই নয়, সাধারণ ভোক্তাদের জন্যও আশাব্যঞ্জক। অনেকের বিশ্বাস, এই ছোট পরিবর্তন এক বড় রূপান্তরের সূচনা।

 

সূত্র : A once-in-a-generation discovery is transforming dairy farming, Materials provided by Michigan State University. Original written by Liam Boylan-Pett, ScienceDaily. ScienceDaily, 18th January 2026. <www.sciencedaily.com/releases/2026/01/260116035340.htm>.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + thirteen =