শীতের ঠাণ্ডা কমে বসন্ত এলেই জাপানের চেরি গাছ গোলাপি ফুলে ভরে ওঠে। আর ‘হনামি’ উৎসবে লাখো মানুষ যোগ দেন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে এই ঐতিহ্য এখন হুমকির মুখে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চেরি গাছ আগেভাগে ফুল ফুটাচ্ছে, কিছু অঞ্চলে ঠিকমতো ফুলই ফোটাতে পারছে না। বর্তমানে সমস্যা দক্ষিণ জাপানে বেশি হলেও, ভবিষ্যতে মধ্য কিওটো, ওসাকা, টোকিও-তেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে কিউশু অঞ্চলে ফুলের রঙ ফিকে, অনেক কুঁড়ি ঝরে যাচ্ছে। এই গবেষণার ভিত্তি জাপান আবহাওয়া দপ্তর। ১৯৫৩ সাল থেকে দীর্ঘদিনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে দেখা যায়, শুধু উষ্ণ বসন্ত নয়, পর্যাপ্ত ঠান্ডা শীতও ফুল ফোটার জন্য জরুরি। গবেষণায় ৫৯ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উষ্ণ শীতের কারণে দক্ষিণ জাপানে কখনও কখনও ফুল ফোটার সময় ৩২ দিন পর্যন্ত পিছিয়ে যাচ্ছে। কারণ, গাছ পর্যাপ্ত ঠান্ডা না পেলে শীতের সমাপ্তি বুঝতে পারে না। ফলে ফুল কম ফোটে এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘পূর্ণ প্রস্ফুটন’-ও ঘটে না। গবেষকেরা বলছেন, শীতের তাপমাত্রা প্রায় 20 সেলসিয়াস বাড়লেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভবিষ্যতে উত্তর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসির মতো অঞ্চলও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। চেরি ফুল জাপানের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই মৌসুমে বিপুল পর্যটন আয় হয়, আবার হাজার বছরের পুরনো এই ঐতিহ্য মানুষের আবেগের সঙ্গেও যুক্ত। তাই এর ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: doi: 10.1126/science.zk1t28d
