কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে টুরিং অ্যাওয়ার্ড

কোয়ান্টাম বিজ্ঞানে টুরিং অ্যাওয়ার্ড

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৫ মার্চ, ২০২৬

এই প্রথম কম্পিউটার বিজ্ঞানের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে পরিচিত এ.এম. টুরিং অ্যাওয়ার্ড কোয়ান্টাম বিজ্ঞানের অবদানের জন্য প্রদান করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ, নিউইয়র্কে অবস্থিত ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি’ ঘোষণা করে যে এই বছরের পুরস্কার পাচ্ছেন গিলস ব্রাসার্ড এবং চার্লস বেনেট। তাঁরা যৌথভাবে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের এই সম্মাননা ভাগ করে নেবেন।

ব্রাসাড ও বেনেট, এদের দুজনের গবেষণার ক্ষেত্র ভিন্ন হলেও তাঁদের যৌথ কর্মপ্রয়াস একপ্রকার নতুন বৈজ্ঞানিক বিপ্লব ঘটিয়েছে। ব্রাসার্ড কানাডার মন্ট্রিয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউজটার বিজ্ঞানী, আর বেনেট যুক্তরাষ্ট্রের আই বি এম রিসার্চ-এ কর্মরত একজন পদার্থবিদ। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যগুলোকে ব্যবহার করে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও যোগাযোগের কিভাবে সেতু বন্ধন তৈরি করা যায়, ১৯৭০-এর দশক থেকেই তাঁরা সে নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু করেছিলেন। এমন ধারার চিন্তা কেউ আগে করেনি , তাই স্বভাবতই সে সময় অনেকেই এই ধারণাকে অবাস্তব বা নিছক পাগলামি বলে মনে করেছিলেন। যদিও এরা দুজনই 1960 এর দশকের শেষের দিকে প্রয়াত পদার্থবিদ স্টিফেন উইসনারের কাজ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। আজ তাঁদের সিদ্ধিলাভের ক্ষেত্রে উইসনারের ভূমিকা খুবই অগ্রগণ্য। কারণ উইসনারও ভেবেছিলেন ফোটনের মতো কনাকে কোয়ান্টাম অ্যাপ্লিকেশনের উপদ্রব না ভেবে কিভাবে তাকে ইতিবাচক উপায় উপস্থাপিত করা যায়।

তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর একটি হলো ১৯৮৪ সালে প্রস্তাবিত কোয়ান্টাম এনক্রিপশন পদ্ধতি। এই প্রযুক্তিতে আলোর কণিকা (ফোটন) ব্যবহার করে একটি গোপন সংকেত প্রেরণ করা হয়। এর বিশেষত্ব হলো—যদি কেউ এই বার্তাটি গোপনে ধরার চেষ্টা করে, তাহলে ফোটনের কোয়ান্টাম অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং তৎক্ষণাৎ বোঝা যায় যে তথ্যটি হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছে। ফলে এটি অত্যন্ত নিরাপদ যোগাযোগের ভিত্তি তৈরি করে।

এরপর ১৯৯৩ সালে তাঁরা কোয়ান্টাম টেলিপোর্টেশন-এর ধারণা দেন। এই পদ্ধতিতে কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট ব্যবহার করে দূরে অবস্থিত দুই কণার মধ্যে তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ, একটি কণার অবস্থা অন্য একটি দূরবর্তী কণায় স্থানান্তর করা যায়। এই ধারণা ভবিষ্যতের কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁদের এই কাজ শুধু প্রযুক্তির উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকেও আগের থেকে অনেক গভীর করেছে। গবেষকরা এখন কোয়ান্টাম তথ্য তত্ত্ব ব্যবহার করে ব্ল্যাক হোলের মতো জটিল বিষয় নিয়েও নতুনভাবে চিন্তা করতে পারছেন।

সার্বিকভাবে, ব্রাসাড ও বেনেট-এর গবেষণা কোয়ান্টাম ইনফরমেশন সায়েন্স নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন ক্ষেত্রের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের উদ্ভাবন ভবিষ্যতের নিরাপদ যোগাযোগ, শক্তিশালী কম্পিউটিং এবং মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেই অবশ্যম্ভাবী ভবিষ্যতের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁরা এ বছরের টুরিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।

 

সূত্র: Major Turing computing award goes to quantum science for first time By Davide Castelvecchi,published in Nature journal,18th March 2026.

doi: https://doi.org/10.1038/d41586-026-00818-z

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 5 =