ডেঙ্গি প্রতিরোধে নতুন গবেষণা

ডেঙ্গি প্রতিরোধে নতুন গবেষণা

কোভিড-১৯-এর পাশাপাশি ডেঙ্গিও পাল্লা দিয়ে ভাবাচ্ছে চিকিৎসকদের, গবেষকদের। শুধু ভারত নয়, বিশ্ব জুড়েই এখন কোভিড-১৯-এর পাশাপাশি ডেঙ্গির দাপট। ইন্দোনেশিয়ার একদল গবেষক জানিয়েছেন তারা নাকি ডেঙ্গি প্রতিরোধের একটা রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন! উদ্যোগটা নিয়েছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। নাম ওয়ার্ল্ড মসকিউটো প্রোগ্রাম। সেই সংস্থার উদ্যোগে ইন্দোনেশিয়ার গবেষকরা জানিয়েছেন, সেরকম মশা যাদের মধ্যে ওলবাচিয়া নামের একটি ভাইরাস রয়েছে, তাদের সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাস বহন করা মশার প্রজনন ঘটিয়ে ‘ভাল মশা’ তৈরি করতে পারলে তবেই ডেঙ্গুর ভাইরাস সমাজ থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হবে! ‘ভাল মশা’র বৈজ্ঞানিক নাম গবেষকরা দিয়েছেন ‘ওলবাচিয়া মশা’! গবেষকদের মতে এই মশা যদি কামড়ায়ও তাও মানুষের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর পরিমাণে কমে যাবে। ২০১৭ থেকে এই গবেষণা চলছে। সম্প্রতি অষ্ট্রেলিয়ার মোনাশ এবং ইন্দোনেশিয়ার গাজদা বিশ্ববিদ্যালইয়ের উদ্যোগে যৌথভাবে ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম ডেঙ্গি-প্রবণ শহর যোগিয়াকার্তায় পরীক্ষামূলকভাবে সৃষ্ট ওলবাচিয়া মশা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত এই পরীক্ষার ফল দেখা গিয়েছে। ৭৭ শতাংশ মানুষের শরীরে এই মশা কামড়ানোর পরেও তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হননি। এমনকী, ৮৬ শতাংশ মানুষকে হাসপাতালেও যেতে হয় নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট জানাচ্ছে, গত কয়েক দশকে পৃথিবী জুড়ে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। প্রত্যেক বছর পৃথিবী জুড়ে প্রায় ১০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। নতুন এই গবেষণা ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে পারবে কি না সেটা অবশ্য সময়ই বলবে।