ফসফরাসের অজানা গুণ 

ফসফরাসের অজানা গুণ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১০ এপ্রিল, ২০২৬

রসায়নবিদরা এতদিন মনে করতেন, ফসফরাসের আচরণ ও সম্ভাবনা তারা প্রায় পুরোপুরি বুঝে ফেলেছেন। কিন্তু লস এঞ্জেলসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক আবিষ্কার এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তাঁরা দেখিয়েছেন, ফসফরাস এমন কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে, যা আগে কেবল প্লাটিনাম বা প্যালাডিয়াম প্রভৃতি ব্যয়বহুল ও বিরল ধাতু দ্বারাই সম্ভব বলে মনে করা হতো।

এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার -এ। সেখানে বিজ্ঞানীরা আলোক-চালিত একটি নতুন পদ্ধতির কথা তুলে ধরেছেন। এখানে একটি বিশেষ অণু, যাকে ফটোক্যাটালিস্ট বলা হয়, আলো শোষণ করে সক্রিয় হয় এবং একটি সস্তা ফসফরাস যৌগের সঙ্গে মিলে গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বন্ধন গঠন করে। বিশেষ করে, এই পদ্ধতিতে কার্বন-নাইট্রোজেন (C–N) বন্ধন তৈরি করা যায়—যা আধুনিক ওষুধ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী এবিগেইল ডয়েল জানান, প্রায় সব ওষুধেই নাইট্রোজেন থাকে, কিন্তু সেই নাইট্রোজেনকে জটিল অণুর সঙ্গে যুক্ত করা সহজ নয়। এ কারণেই এতদিন ধরে ব্যয়বহুল ট্রানজিশন মেটাল ব্যবহার করা হতো। এই ধাতুগুলো শুধু দামি নয়, শিল্পক্ষেত্রে ও গাড়ির ক্যাটালিটিক কনভার্টারেও ব্যবহৃত হয় বলে চুরির ঝুঁকিও থাকে।

অন্যদিকে, ফসফরাস প্রকৃতিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এবং জীবজগতের জন্য অপরিহার্য। এর বিভিন্ন যৌগ আগে থেকেই রসায়নে ব্যবহৃত হলেও, এই গবেষণায় একেবারে নতুন এক বিক্রিয়া-পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। এখানে ফসফরাস এমনভাবে আচরণ করে, যেন সে একটি ধাতব ক্যাটালিস্ট—যা আগে কল্পনাও করা হয়নি।

এই আবিষ্কারটি আসে কিছু অপ্রত্যাশিত পরীক্ষার ফলাফল থেকে। গবেষক ফ্লোরা ফন বলেন, তারা প্রথমে অন্য একটি ফল আশা করেছিলেন, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিক্রিয়া দেখে বিস্মিত হন। পরে বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, ফসফরাস একটি অত্যন্ত সক্রিয়, স্বল্পস্থায়ী রূপ নিয়ে ধাতুর মতো আচরণ করছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ফসফরাস-ভিত্তিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন স্থানান্তরের পদ্ধতি ধাতুর তুলনায় ভিন্ন। এটি এক-ইলেকট্রন এবং দুই-ইলেকট্রন—উভয় ধরনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে, ফলে আরও বিস্তৃত ধরনের নাইট্রোজেনযুক্ত যৌগ ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে সস্তা ও সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে ওষুধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক তৈরির নতুন পথ খুলে দিতে পারে। পাশাপাশি, এটি পরিবেশবান্ধব। অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

 

সূত্র:“Markovnikov hydroamination of terminal alkenes by phosphine redox catalysis” by Flora Fan, Kassandra F. Sedillo, Alexander J. Maertens and Abigail G. Doyle, 23 February 2026, Nature.

DOI: 10.1038/s41586-026-10263-7

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × one =