বাসনমাজার নতুন কৌশল 

বাসনমাজার নতুন কৌশল 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৫ এপ্রিল, ২০২৬

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিবার বাসন মাজার সময় স্পঞ্জ থেকে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণিকা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক বেরিয়ে জলের সঙ্গে মিশে যায়। এই কণাগুলো এতই ছোট যে আমরা খেয়ালই করি না, কিন্তু এগুলো ইতিমধ্যেই সমুদ্র, মাটি, বাতাস, এমনকি আমাদের খাদ্য ও পানীয় জলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল। তারা জানতে চেয়েছিলেন, স্পঞ্জ থেকে ঠিক কতটা মাইক্রোপ্লাস্টিক বের হয় এবং সেটি পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর। এজন্য তারা জার্মানি ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন পরিবারের ওপর পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদের তিন ধরনের স্পঞ্জ ব্যবহার করতে দেওয়া হয় এবং ব্যবহার করার আগে ও পরে স্পঞ্জের ওজন মেপে দেখা হয় কতটা উপাদান ক্ষয় হচ্ছে।

এছাড়া, গবেষণাগারে “SpongeBot” নামে একটি যন্ত্র ব্যবহার করে স্পঞ্জের ওপর ঘষাঘষির চাপ কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়, যাতে বাস্তব জীবনের মতো পরিস্থিতি অনুকরণ করা যায়। এই দুই ধরনের পরীক্ষার সমন্বয়ে গবেষকরা বেশ নির্ভরযোগ্য ফলাফল পান।

ফলাফল বলছে, সব ধরনের স্পঞ্জই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয় হয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক ছাড়ে। একজন ব্যক্তি বছরে প্রায় ০.৬৮ থেকে ৪.২১ গ্রাম পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত করতে পারেন, যা স্পঞ্জের ধরণের ওপর নির্ভর করে। কম প্লাস্টিকযুক্ত স্পঞ্জ তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর।

 

তবে বিশেষ বিষয় হলো—এই মাইক্রোপ্লাস্টিকই প্রধান সমস্যা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বাসন মাজার সময় যে পরিমাণ জল ব্যবহার করা হয়, সেটিই পরিবেশের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। মোট পরিবেশগত ক্ষতির প্রায় ৮৫% থেকে ৯৭% আসে শুধুমাত্র জলের ব্যবহার থেকে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম।

 

তবুও, বড় পরিসরে ভাবলে সমস্যাটি গুরুতর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, জার্মানিতে বছরে প্রায় ৩৫৫ টন পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গত হতে পারে। যদিও বেশিরভাগই বর্জ্য শোধনাগারে ধরা পড়ে, তবুও কিছু অংশ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

 

এই গবেষণা আমাদের কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর উপায়ও দেখায়—যেমন, কম জল ব্যবহার করা, কম প্লাস্টিকযুক্ত স্পঞ্জ বেছে নেওয়া, এবং স্পঞ্জ বেশি দিন ব্যবহার করা। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলোই বড় পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 

সূত্র: “From sink to Sea: Microplastic release from kitchen sponges and potential environmental effects” by Leandra Hamann, Christina Galafton, Peter T. Rühr, Alexander Blanke and Nils Thonemann, 24 February 2026, Environmental Advances.

DOI: 10.1016/j.envadv.2026.100693

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + 16 =