১) ২০২৬-এ চন্দ্রাভিযানের গতি অব্যাহত থাকবে। নাসার আর্টেমিস-২ চারজন নভোশ্চরকে ওরায়ন মহাকাশযানে করে চাঁদের চারপাশে পাক খাওয়াবে। মানুষকে নিয়ে দশ দিনের এই চন্দ্রাভিযান ১৯৭০ সালের পর আর হয়নি। এটি হল চাঁদে অবতরণ করার পরবর্তী অভিযানগুলির প্রস্তুতিপর্ব।
২) চীন একাদিক্রমে তার চন্দ্রানুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। সেই ধারায় ২০২৬-এর আগস্টে পরবর্তী উৎক্ষেপণটি হবে। এর নাম ছাং-এ-৭। এতে একটি হপার মহাকাশযান ব্যবহৃত হবে। তাতে থাকবে ধাক্কা সামলানোর বন্দোবস্ত। এর লক্ষ্য চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছনো। পাথর আর গহ্বর আকীর্ণ ওই অঞ্চলে অবতরণ করা খুবই দুঃসাধ্য বলে পরিচিত। ২০২৩ সালে ভারত ভারতের চন্দ্রযান-৩ মহাকাশযান প্রথম চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে অবতরণে সাফল্য অর্জন করে। চীনের ছাং-এ-৭ যদি সফলভাবে অবতরণ করতে পারে, তাহলে জলের বরফ অনুসন্ধান করবে আর চাঁদের ভূকম্প নিয়ে অধ্যয়ন করবে।
৩) গবেষকদের দৃষ্টি মঙ্গল গ্রহের দিকেও নিবদ্ধ। জাপান মঙ্গলগ্রহের উপগ্রহ অভিযান শুরু করতে চলেছে। লক্ষ্য, মঙ্গলের দুই উপগ্রহ ফোবোস আর দেইমোস-এ যাওয়া। ফোবোস-এর পৃষ্ঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ২০৩১ সালে সেগুলি পৃথিবীতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগে কখনো একাজ করা সম্ভব হয়নি।
৪) ২০২৬-এর শেষাশেষি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা তার গ্রহ-সন্ধানী উপগ্রহ প্লেটো উৎক্ষেপ করার পরিকল্পনা চালাচ্ছে। ২৬টি ক্যামেরায় সজ্জিত প্লেটো ২ লক্ষেরও বেশি উজ্জ্বল নক্ষত্রর ওপর নজর রাখবে। উদ্দেশ্য হল, ‘পৃথিবীর যমজ’ গ্রহগুলিকে শনাক্ত করা, যাদের তাপমাত্রা এমন যা তরল জল তৈরির সহায়ক।
৫) মোটের ওপর প্রতি ১১ বছরে সূর্য তার সক্রিয়তার চরমে পৌঁছায়, তাকে বলে সোলার ম্যক্সিমাম। ওই সময় সৌর কলঙ্ক, তীব্র তড়িৎ চুম্বক বিকিরণ আর সৌর ঝড়ের হার হয় বৃহত্তম। ২০২৬ সালে ভারতের প্রথম সৌর অভিযান আদিত্য-এল-১ সেই পরিঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করবে। ২০২৪ সাল থেকে এই মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলমিটার ঊর্ধ্বে “হেলো কক্ষপথে’ অবস্থান করে এক নাগাড়ে সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করে চলেছে। এর সংগৃহীত উপাত্ত ব্যবহার করে গবেষকরা “সোলার ম্যাক্সিমাম’ পর্বে সূর্যপৃষ্ঠকে আরো ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
6) ২০২৬-এ চীনের সাগরতল-খনন জাহাজ মেং শিয়াং তার প্রথম বৈজ্ঞানিক অভিযান শুরু করবে বলে প্রত্যাশিত। সাগরতলের নীচে ১১ কিলোমিটার পর্যন্ত খনন করে পৃথিবীর ম্যান্টলে ঢুকে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করার উপযোগী করে নির্মিত এই জাহাজ। সাগরতল কীভাবে গড়ে ওঠে আর তার টেকটোনিক ক্রিয়াকর্ম কীভাবে সাধিত হয় তা জানার পথে সহায়ক হবে এর সংগৃহীত তথ্য।
সূত্র : Nature, 18 December ২০২৫
