ভারতে বাড়বে গঙ্গার সৃষ্টি করা ভয়াবহ বন্যা!

ভারতে বাড়বে গঙ্গার সৃষ্টি করা ভয়াবহ বন্যা!

বিশ্ব উষ্ণায়নের ধাক্কা সর্বত্র। বদলে যাচ্ছে গঙ্গার প্রবাহ। ভারতের দুটি বৈজ্ঞানিক সংস্থা আইআইএসসি আইআইটি কানপুর যৌথভাবে একটি গবেষণার মাধ্যমে জানিয়েছে অদূর ভবিষ্যতে গঙ্গা নদী দেশে অসংখ্যবার ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করবে! কারণ সেই মানুষের তৈরি করা দূষণ। যার ফলে পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা! জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টে প্রকাশিত এই গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে কীভাবে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং মানুষের বাঁধ তৈরি করার মত কাজ গঙ্গার উৎসস্থল এবং পার্বত্য অঞ্চলগুলোর ওপর প্রভাব ফেলেছে।
গঙ্গোত্রী এবং শতপন্থ, গঙ্গার এই দুই হিমবাহ। গবেষকরা ঋষিকেশ পর্যন্ত, গঙ্গার ওপরের বেসিন গবেষণা করে দেখেছেন। ভাগিরথী বেসিনে ২০১০-এর আগেই দেওয়া হয়েছে দুটি বাঁধ। আর অলকানন্দা বাসিনে দুটি বাঁধ কার্যকরী হয়েছে ২০১৫-র পর থেকে। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, ১৯৯৫ থেকে ২০০৫-এর মধ্যে অলকানন্দা বেসিনে জলের স্রোত প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে! আর অলকানন্দা উপত্যকায়ই সারা বছরের বৃষ্টিপাত বেশি হয় ভাগীরথী উপত্যকার তুলনায়। এর সঙ্গে অলকানন্দা বেসিনে যে বাঁধ এবং রিজার্ভার তৈরি করা হয়েছে সেখানে কিন্তু সমানে জমা হচ্ছে নদীর দেওয়া সেডিমেন্ট। সেই সেডিমেন্ট গবেষকরা বলছেন শেষপর্যন্ত জমা হচ্ছে গঙ্গার নীচে। ভরাট হচ্ছে গঙ্গার উপত্যকা। যার প্রতিফলন, অতিবৃষ্টি হলেই গঙ্গায় সৃষ্টি হবে বন্যা। গবেষকরা তেহরি বাঁধের কথা বলেছেন। অলকানন্দার ওপর সবচেয়ে বড় বাঁধ। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সেডিমেন্ট তার রিজার্ভারে জমা হয়। তেহরি বাঁধ থেকে অলকানন্দার নীচের দিকে নামার সময় কিন্তু সেই বিপুল পরিমাণ সেডিমেন্টও নিচের দিকে নামে! তারপর অতিবৃষ্টি হলেই বন্যার আশঙ্কা। গবেষকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনে ভীষণভাবে প্রভাবিত হিমালয় অঞ্চল। তার ওপর হিমালয় উপত্যকায় মানুষের তৈরি করা অসংখ্য বাঁধ আর রিজার্ভারে হিমালয় অঞ্চলের ইকো-সিস্টেম নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন অপেক্ষা করা কবে গঙ্গায় ভাসব আমরা!