ভ্যাক্সিন না নিলে জরিমানার ঘোষণা কানাডায়

ভ্যাক্সিন না নিলে জরিমানার ঘোষণা কানাডায়

করোনা আবহে নানান অসচেতনতার ছবি ধরা পড়ছে আমাদের চারপাশে। মাস্ক না পরার অদ্ভুত, বালখিল্য যুক্তি প্রতিদিন দেখছি আমরা। করোনা যে একটি সংক্রামক ব্যাধি, আমার একার ওদাসিন্যে আমারই কেবল বিপদ নয়, বরং বিপদ আমার প্রতিবেশেরও- একথা বুঝেও না বোঝার ভান করেছে একদল মানুষ। ব্যক্তি স্বাধীন মানুষের চীরঔদাসিন্য এক্ষেত্রেও সামাজিক দায়ের উপেক্ষা রূপে ধরা পড়েছে বারবার গত দুবছরে। যেমন – কানাডা দেশের কিউবেক প্রদেশে ১৫% মানুষ ভ্যাক্সিন নেননি। ঠিক এই অংশের মানুষই হাসপাতালের অর্ধেক বেড ভর্তি করে রেখেছেন। আরো উল্লেখ্য কানাডার করোনায় মৃত্যু হওয়া নাগরিকের বড় অংশ কিউবেক প্রদেশের। এই অবস্থায় সে দেশের সরকার ভ্যাক্সিন না নেওয়া জনগণের ওপর হেলথ ট্যাক্স বা আর্থিক জরিমানা জারি করেছেন। কিউবেকের ৮৪% জনগণ ১লা জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত অন্তত ১ টি ডোজ টিকা নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কিউবিকের সর্বোচ্চ প্রশাসক ( সেদেশের ভাষায় প্রিমিয়ার) ফ্রাঙ্কোইস লেগাল্ট বলেন, যারা অন্তত প্রথম ডোজ ভ্যাক্সিন নিয়েছেন তারা সামাজিক অবদান রেখেছেন। এবং সেইসাথে ভ্যাক্সিন না নেওয়ার জন্যে আর্থিক জরিমানার কথা ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য ঐ মঙ্গলবারই টেস্টের প্রায় ২০% (৮৭১০জন) পসিটিভ কেস ধরা পড়েছে কিউবেকে। ২০০ র বেশি গৃহহীন মানুষের রিপোর্ট পসিটিভ এসেছে। প্রদেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল মন্ট্রেয়াল হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ১০০% সিট কোভিড রোগীর জন্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি চিকিৎসা বন্ধ। এই মুহুর্তে কিউবেকের হাসপাতালে ২৭৪২ জন রোগী চিকিৎসারত। বোঝাই যাচ্ছে ছবিটা। আমাদের চারপাশের সাথে মেলাতে খুব কী অসুবিধে হয়? শহর থেকে মফস্বল, শহরতলি প্রতিদিন পুলিশি ধড়-পাকড়, সিউডো অ্যারেস্ট, জরিমানা। তবু হুঁশ নেই বেহুঁশ, ব্যক্তিস্বাধীন ‘আমি’দের।