মাইক্রোপ্লাস্টিক শুক্রাণুর ক্ষতি করছে  

মাইক্রোপ্লাস্টিক শুক্রাণুর ক্ষতি করছে  

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন, বাবার শরীরে প্রবেশ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইড (ইউ সি আর)-এর গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অফ দ্য এন্ডোক্রিন সোসাইটি -তে। এটি প্রথমবারের মতো প্রমাণ দিল যে, গর্ভধারণের আগে বাবার মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শ থাকলে সন্তানের বিপাকীয় রোগ, বিশেষ করে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, বাবার মাইক্রোপ্লাস্টিক সংস্পর্শের সঙ্গে সন্তানের ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা, যা প্লাস্টিকজাত পণ্য ভেঙে তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই এসব কণা মানুষের রক্ত, ফুসফুস এবং এমনকি প্রজনন অঙ্গেও পাওয়া গেছে। এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে থাকা পুরুষ ইঁদুরের সন্তানদের শরীরে গুরুতর বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটে, বিশেষ করে যখন তারা উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করে।

ইঁদুরদের চর্বিযুক্ত খাবার দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল : যে ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সাধারণ খাদ্যে তেমন প্রকট হয় না, সেগুলোকে দৃশ্যমান করা। ফল ছিল বেশ চাঞ্চল্যকর। দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের বাবা মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শে ছিল, তাদের মধ্যে বিশেষ করে মেয়ে সন্তানদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। তাদের যকৃতে প্রদাহ ও ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত জিনগুলোর কার্যকলাপ বেড়ে যায় এবং ডায়াবেটিসের লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অন্যদিকে, ছেলে সন্তানদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস না হলেও শরীরের চর্বির পরিমাণ কমে যাওয়া প্রভৃতি সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই প্রভাব ডিএনএ পরিবর্তনের কারণে নয়, বরং বাবার শুক্রাণুর ভেতরে থাকা ছোট আরএনএ-এর পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘটছে। গবেষকরা দেখেছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক শুক্রাণুর আরএনএ-র রূপরেখা বদলে দেয়। অর্থাৎ , শুক্রাণুর জিন-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটে। আর এই আরএনএগুলো জিনকে কম-বেশি সক্রিয় করার মতো ভূমিকা পালন করে, যা ভ্রূণের বিকাশের সময় সন্তানের বিপাকীয় স্বাস্থ্য নির্ধারণ করতে পারে।

গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক চ্যাংচেং ঝৌ জানান, এই আবিষ্কার পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শরীরেও দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যেতে পারে।

এ গবেষণা মানবস্বাস্থ্যের জন্য একটি সতর্কবার্তা দেয়। বিশেষ করে ভবিষ্যতে যেসব পুরুষ বাবা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য, মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ পরিবেশগত দূষণ এড়িয়ে চলা সন্তানের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

সূত্র: “Paternal microplastic exposure alters sperm small non-coding RNAs and affects offspring metabolic health in mice” by Seung Hyun Park, Tong Zhou and Changcheng,et.al;, 18th December 2025, published in Journal of the Endocrine Society.

DOI: 10.1210/jendso/bvaf214

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × three =