সিন্ধুঘোটক/ওয়ালরাস (Odobenus rosmarus) নিঃসন্দেহে একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী। সুমেরু অঞ্চলের এই বিশাল সামুদ্রিক প্রাণী তার অদ্ভুত চেহারা, সামাজিক আচরণ এবং পরিবেশগত গুরুত্বের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সাধারণভাবে জীববিজ্ঞানের জ্ঞান না থাকলে অনেকের পক্ষে বিভিন্ন প্রাণীগোষ্ঠী আলাদা করা কঠিন হয়ে ওঠে। তবে সিন্ধুঘোটকের বৈশিষ্ট্যগুলো তাকে স্পষ্টভাবে স্তন্যপায়ী হিসেবে চিহ্নিত করে।
তার দেহ বেশ বড় ও ভারী। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপপ্রজাতির পুরুষ সিন্ধুঘোটকদের ওজন প্রায় ৩,৭০০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে এবং দৈর্ঘ্যে প্রায় ১২ ফুট পর্যন্ত হয়। এদের চামড়া ধূসর রঙের এবং ১–২ ইঞ্চি পুরু, যার ওপর লালচে লোম থাকায় দূর থেকে এদের রঙ অনেকটা দারুচিনির মতো দেখায়। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েরই লম্বা দাঁত এবং সংবেদনশীল গোঁফ থাকে, যা দিয়ে তারা সমুদ্রতলের খাদ্য শনাক্ত করে। আকারে পুরুষরা সাধারণত স্ত্রীদের তুলনায় বড়। এরা মূলত ঝিনুক, শামুক এবং অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী খায়। কখনও কখনও মাছ বা ছোট সীলও শিকার করে। এরা অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। প্রায়ই ১০০ বা তারও বেশি সদস্য দল বেঁধে বাস করে।
সিন্ধুঘোটক সাধারণত গভীর সমুদ্রে থাকে না; তারা উপকূল অঞ্চল এবং বরফের প্রান্তে বাস করে। মাঝে মাঝে জলের বাইরে এসে বরফে বা স্থলে বিশ্রাম নেয় এবং রোদ পোহায়। নরওয়ের স্বলবার্ড, আলাস্কা, রাশিয়া এবং কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে এদের দেখা যায়।
মানুষের সঙ্গে সিন্ধুঘোটকের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। এটি বহু আদিবাসী সম্প্রদায়ের খাদ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এর চর্বি এবং দাঁতের গজদন্ত সদৃশ উপাদান বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এ নিয়ে সংরক্ষণবাদী ও চিরাচরিত শিকারিদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন এদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বরফ গলে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে স্থলে বড় বড় দলে জড়ো হচ্ছে, যা তাদের জন্য বিপজ্জনক। মানুষের উপস্থিতি বা শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তারা হুড়োহুড়িতে মারা যেতে পারে। এছাড়া বরফ কমে যাওয়ায় তাদের খাদ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়ছে, ফলে অনেক সিন্ধুঘোটক অনাহারে মারা যাচ্ছে।
সিন্ধুঘোটক শুধু একটি আকর্ষণীয় প্রাণীই নয়, তারাই জলবায়ু সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। যা আমাদের পরিবেশ রক্ষার জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেয়।
সূত্র: earth.com
