অকালপক্ব মহাবিশ্ব

অকালপক্ব মহাবিশ্ব

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জে ডাব্লিউ এস টি), হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং আটাকামা লার্জ মিলিমিটার/সাবমিলিমিটার অ্যারে (এ এল এম এ)—এই তিন শক্তিশালী মহাকাশ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র একত্রে ব্যবহার করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের একেবারে শৈশবকালের ছায়াপথগুলোর দিকে তাকিয়ে এক অভূতপূর্ব বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। দেখা গেছে, মহাবিশ্বের জন্মের মাত্র এক বিলিয়ন বছরের মধ্যেই কিছু ছায়াপথ এমনভাবে পরিণত হয়ে উঠেছিল, যেন তারা সময়ের আগেই অকালপক্ব হয়ে গেছে।

আল্পাইন-ক্রিস্টাল-জে ডাব্লিউ এস টি সমীক্ষার আওতায় প্রায় ১২.৫ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত ১৮টি ছায়াপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই ছায়াপথগুলো তখন প্রবল বেগে নক্ষত্র গঠন করছিল, যা ইঙ্গিত দেয় তাদের বিস্ফোরক বৃদ্ধি ও দ্রুত বিবর্তনের। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো- এই গ্যালাক্সিগুলোতে ভারী মৌল বা ‘ধাতুর’ উপস্থিতি অস্বাভাবিক বেশি ছিল। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব মাফিক, হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের বাইরের মৌল বিশেষ করে কার্বন ও অক্সিজেন—এত অল্প সময়ে তো তৈরি হওয়ার কথা নয়।

সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, প্রথম প্রজন্মের নক্ষত্রগুলো ধীরে ধীরে এই ভারী মৌল তৈরি করে এবং সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেগুলো ছায়াপথ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে বহু বিলিয়ন বছর। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর দিকেই ছায়াপথগুলো রাসায়নিকভাবে পরিণত হয়ে উঠেছে। ক্যালটেকের গবেষক আন্দ্রেয়াস ফাইস্ট এই ঘটনাকে তুলনা করে বলেছেন, “ এ যেন দুই বছরের শিশু কিশোরের মতো আচরণ করছে!”

এতেই শেষ নয়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এসব তরুণ ছায়াপথের অনেকগুলোর মধ্যেই ঘূর্ণায়মান নক্ষত্র-চাকতি তৈরি হয়ে গেছে—যা কিনা আজকের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের মতো পরিণত সর্পিল আকৃতির ছায়পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পাশাপাশি, এসব ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকা অতিভারী কৃষ্ণগহ্বরগুলোও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পদার্থ গ্রাস করে বেড়ে উঠছিল।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো- শুধু ছায়াপথের ভেতরে নয়, তাদের চারপাশের গ্যাসীয় পরিবেশে, অর্থাৎ সার্কামগ্যালাকটিক মিডিয়ামেও ভারী মৌলের বিস্তার দেখা গেছে, যা এই ছায়াপথগুলোর বিবর্তনের প্রচলিত মডেলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

এই গবেষণা ভবিষ্যতে প্রথম নক্ষত্র, প্রথম গ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের জন্ম ও বিকাশ অনুধাবন করার এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে। মহাবিশ্ব যে তার কৈশোরেই এত দ্রুত পরিণত হতে পারে, সেই ধারণা নিয়েই এই আবিষ্কার নিঃসন্দেহে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

 

সূত্র: James Webb Space Telescope discovers young galaxies age rapidly: ‘It’s like seeing 2-year-old children act like teenagers’ By Robert Lea, published in space journal, 20th January, 2026.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen + nine =