জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির “অব্যবহৃত ওষুধের নিরাপদ নিষ্পত্তি” শীর্ষক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটিতে অব্যবহৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের নিরাপদ নিষ্পত্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এর মূল বক্তব্য হলো, সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো সবার আগে বর্জ্য উৎপাদনটাই কমানো, অর্থাৎ উৎসেই প্রতিরোধ। কারণ ভুলভাবে ওষুধ ফেলে দেওয়া পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অব্যবহৃত ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত নিষ্পত্তি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এ এম আর) বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, যা বিশ্বব্যাপী একটি বড় স্বাস্থ্য সংকট। এছাড়াও এটি হরমোনজনিত ব্যাঘাত, বিষক্রিয়া এবং জল, মাটি ও বায়ু দূষণ প্রভৃতি সমস্যার সঙ্গে জড়িত। এমনকি ভুলভাবে ফেলে দেওয়া ওষুধ শিশু বা প্রাণীদের মধ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়।
এই সমস্যার সমাধানে পরিবেশ কর্মসূচি “একক স্বাস্থ্য’’ পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। তাতে মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশ—এই তিনটি ক্ষেত্রকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। প্রতিবেদনে একটি চার- পর্যায়ের কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে: (১) উৎসে প্রতিরোধ, (২) ওষুধ ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা, (৩) শক্তিশালী আইন ও নীতিমালা, এবং (৪) সচেতনতা বৃদ্ধি।
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো উৎসে প্রতিরোধ। রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে ওষুধের ব্যবহার কমানো গেলে স্বাভাবিকভাবেই অব্যবহৃত ওষুধের পরিমাণও কমবে। এ জন্য উন্নত জল, স্বাস্থ্যবিধান ও স্বাস্থ্যবিধি, পশুপালনে টিকাদান এবং জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, চিকিৎসকদের সঠিক রোগ নির্ণয় ও যুক্তিসংগত প্রেসক্রিপশনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহার কমে।
প্রতিবেদন আরও উল্লেখ করেছে যে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডোজের ওষুধ সরবরাহও অব্যবহৃত ওষুধের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া, নিরাপদ ও উপযুক্ত মানের হলে অব্যবহৃত ওষুধ পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
দেশভিত্তিক উদ্যোগের দিকেও প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারত ইতিমধ্যে এ এম আর মোকাবিলায় অব্যবহৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের নিরাপদ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে ঔষধের কেন্দ্রীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা নির্দেশিকা জারি করেছে, যেখানে কিছু ওষুধের জন্য ধৌতকরণ প্রক্রিয়াটিকে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কেরালাতে চালু হওয়া nPROUD কর্মসূচি ওষুধ ফেরত নেওয়ার একটি সফল উদাহরণ।
তাদের এই প্রতিবেদনটির স্পষ্ট বক্তব্য হল, অব্যবহৃত ওষুধের সমস্যা শুধু নিষ্পত্তির ব্যাপার নয়, বরং উৎপাদন কমানো, সঠিক ব্যবহার এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
সূত্র: Waste prevention central to UNEP’s latest report on safe disposal of unused medicines. Published on: 15th March 2026, 11:39 am
