
২০২৪ সালে জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ কার্বন নির্গমন রেকর্ড করা হয়েছে, জানিয়েছে গ্লোবাল কার্বন প্রকল্পের এক নতুন গবেষণা। ২০২৪ সালে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ দেখা গেছে ৩৭.৪ বিলিয়ন টন, যা ২০২৩ সালের থেকে ০.৮% বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনকে ধীর করার জন্য নির্গমন কমানো জরুরি, তা সত্ত্বেও, সারা পৃথিবীতে এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো হেলদোল নেই। গবেষণা অনুসারে ২০২৪ সালে মোট CO2 নির্গমন ৪১.৬ বিলিয়ন টন হতে পারে, যা গত বছরে ৪০.৬ বিলিয়ন টন ছিল। বিগত দশ বছরে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে CO2 নির্গমন বেড়েছে কিন্তু ভূমি-ব্যবহারের পরিবর্তনে CO2 নির্গমন গড়ে হ্রাস পেয়েছে, ফলে ওই সময়ে সামগ্রিক নির্গমন মোটামুটি একটা স্তরে ছিল।
গবেষকদের মতে এই বছর, জীবাশ্ম এবং ভূমি-ব্যবহারের পরিবর্তন উভয়ই CO2 নির্গমনের বৃদ্ধি ঘটিয়েছে, বন কেটে ফেলার জন্য খরার প্রকোপ বেড়েছে, সঙ্গে সঙ্গে দাবানলের কারণে নির্গমন বৃদ্ধি পেয়েছে। বাতাসে CO2-এর মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, বর্তমানে প্রতি বছর ৪০ বিলিয়ন টনের বেশি কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে বিশ্ব উষ্ণায়নের সমস্যা। জলবায়ু ক্রিয়া একটি সমষ্টিগত সমস্যা, যদিও বেশ কিছু দেশে ধীরে ধীরে নির্গমন হ্রাস পাচ্ছে আবার অন্য দেশেতে নির্গমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষকদের মতে নির্গমনে দ্রুত হ্রাস টানতে হবে, যাতে বৈশ্বিক নির্গমনকে নেট শূন্যের দিকে নিম্নগামী রাখা যায়। গবেষণায়, বিশ্বব্যাপী, ২০২৪ সালে বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে নির্গমন বৃদ্ধির অনুমান করা হয়েছে: কয়লার ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ০.২%, তেল ০.৯%, গ্যাস ২.৪% । বিশ্বব্যাপী মোট নির্গমনের ৮%-এর জন্য দায়ী ভারত যার নির্গমন আবার ৪.৬% বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। গ্লোবাল কার্বন বাজেট টিম অনুমান করেছে যে নির্গমনের বর্তমান হার একরকম থাকলে প্রায় ছয় বছরে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার ৫০% সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তাদের মতে এই অনুমানটির অনিশ্চয়তার কারণ হল প্রাথমিকভাবে অন্যান্য রাসায়নিক যেমন মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, অ্যারোসল। তবে, এটা স্পষ্ট যে ১.৫°C লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব এড়াতে বাকি যে সময় রয়েছে তা আর কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।