গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল কতটা নিরাপদ?  

গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল কতটা নিরাপদ?  

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৫ জানুয়ারী, ২০২৬

গর্ভাবস্থায় জ্বর বা ব্যথা—এই দুই সমস্যার সহজ সমাধান হিসেবে প্যারাসিটামল ছিল এতদিন ধরে বিশ্বব্যাপী একমাত্র ভরসার নাম। চিকিৎসকেরা মনে করতেন এটিই সবচেয়ে নিরাপদ ব্যথানাশক। কিন্তু হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ–এর সাম্প্রতিক গবেষণা সেই স্বস্তির ধারণায় একটি গভীর প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। গবেষণাটি জানাচ্ছে, গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে প্যারাসিটামল ব্যবহার ভাবি সন্তানের মধ্যে অটিজম ও এডিএইচডি-এর মতো স্নায়ু-বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বি এম সি এনভায়রনমেন্টাল হেলথ–এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বিশ্বের নানা প্রান্তের ৪৬টি বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা ব্যবহার করেছেন “নেভিগেশন গাইড সিস্টেম্যাটিক রিভিউ” পদ্ধতি— যা পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্য গবেষণায় তথ্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত ও কঠোর মানদণ্ড। এই বিস্তৃত বিশ্লেষণ থেকে একটি স্পষ্ট প্রবণতা উঠে এসেছে: গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামলের সংস্পর্শে আসা শিশুদের মধ্যে স্নায়ুর বিকাশ ঘটিত সমস্যার হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক, হার্ভার্ডের পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক আন্দ্রেয়া ব্যাকারেল্লি জানান, ওই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে যখন গর্ভাবস্থায় চার সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এটি সরাসরি কার্য-কারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না, তবুও গবেষকেরা বলছেন, এই সম্পর্ক একেবারে উপেক্ষা করার মতোও নয়।

তবে গবেষণাটি আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়। বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, গর্ভাবস্থায় ভারি জ্বর এমনিতেই ভ্রূণের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এতে নিউরাল টিউবের ত্রুটি, এমনকি অকাল প্রসবের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই প্যারাসিটামল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন নেই। বরং তাঁদের পরামর্শ—চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় এবং স্বল্পতম সময়ের জন্য এই ওষুধ ব্যবহার করা উচিত।

এই গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফ ডি এ) চিকিৎসকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। গবেষণায় স্পষ্ট ফুটে উঠেছে যে বিষয়টি আর শুধু গবেষণাগারের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামলকে এখন আর নিঃশর্ত নিরাপদ ওষুধ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। এটি ব্যবহারের আগে ঝুঁকি ও উপকার—দুই দিকই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার সময় এসেছে।

 

সূত্র: Evaluation of the evidence on acetaminophen use and neurodevelopmental disorders using the Navigation Guide methodology by Ann Z. Bauer, Andrea A. Baccarelli,et.al; Environmental Health, 2025; 24 (1)

DOI: 10.1186/s12940-025-01208-0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five − four =