প্রায় ১৪,৪০০ বছর আগের সাইবেরিয়া, বরফে ঢাকা এক নীরব পৃথিবী। সেই বরফের তলায় সংরক্ষিত ছিল একটি নেকড়ে শাবকের দেহ। কিন্তু আসল বিস্ময় ছিল তার পেটের ভেতর। সেখানে জমে থাকা এক টুকরো মাংস যেন আদিম সময়ের জানালা খুলে দিল। বরফযুগের এক হারিয়ে যাওয়া দানব ,লোমশ গণ্ডারের জীবনের শেষ মুহূর্তের দিকে তাকিয়ে দেখার সুযোগ এনে দিল বিজ্ঞানীদের কাছে।
ডিএনএ বিশ্লেষণে জানা যায়, নেকড়ের শেষ খাবারটি কোনো সাধারণ শিকার ছিল না; সেটি ছিল এক লোমশ গণ্ডার (কোয়েলোডোন্টা আন্টিকুইটেটিস)—বরফযুগের প্রতীক, লোমশ চামড়ায় ঢাকা এক বিশাল তৃণভোজী, যে আজ থেকে প্রায় ১৪,০০০ বছর আগে পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়। এই আবিষ্কার বিস্ময়কর তো বটেই , বৈজ্ঞানিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই প্রথম একটি প্রাণীর পেট থেকে উদ্ধার হওয়া আরেক প্রাণীর মাংস থেকে সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স করা সম্ভব হলো।
এই জিনোম লোমশ গণ্ডারের শেষ দিনগুলোর নির্ভরযোগ্য দিনলিপি। সাধারণত বিলুপ্তপ্রায় কোনো প্রজাতির জিনে ধরা পড়ে অবক্ষয়ের ছাপ—অন্তঃপ্রজনন জনিত ক্ষত, ক্ষতিকর পরিব্যক্তির দাগ, কিংবা জিন বৈচিত্র্যের ভাঙন। কিন্তু এখানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই গণ্ডারের জিনোমে নেই সেই ধ্বংসের পূর্বাভাস। বরং ১৮,০০০ ও ৪৯,০০০ বছর আগের নমুনার সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, হাজার হাজার বছর ধরে তাদের জিনগত স্বাস্থ্য ছিল অটুট।
লোমশ গণ্ডার ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়নি। তারা হেঁটেছে দীর্ঘ পথ, সুস্থ ও শক্তিশালী জনসংখ্যা নিয়ে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে হঠাৎই হারিয়ে গেছে। যেন এক স্থিতিশীল সভ্যতা এক ঝটকায় ভেঙে পড়েছে।
গবেষকদের মতে, এই আকস্মিক পতনের মূল কারণ ছিল বরফযুগের অবসানে দ্রুত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। তাপমাত্রা বেড়েছে, তৃণভূমি বদলে গেছে, খাদ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অভিযোজনের সুযোগ না পেয়েই এই গণ্ডার বিলুপ্তির পথে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
এই এক টুকরো বরফজমা মাংস শুধু অতীতের কৌতূহল নয়, এটি বর্তমানের জন্য এক তীক্ষ্ণ সতর্কতা। জলবায়ু পরিবর্তন যে কত দ্রুত একটি সুস্থ প্রজাতিকেও নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, লোমশ গণ্ডারের গল্প তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
সূত্র : The Secrets of an Ancient Hunk of Woolly Rhinoceros Meat
It helps decipher what exactly happened to its species about 14,000 years agoBy Devin Reese, January 14, 2026.
