থমকে গেল চন্দ্রভ্রমণ 

থমকে গেল চন্দ্রভ্রমণ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ধাক্কা খেল নাসার বহু প্রতীক্ষিত আর্টেমিস–২ মিশন। আপাতত উৎক্ষেপণ বন্ধ। চন্দ্রপৃষ্ঠে মানুষের প্রত্যাবর্তনের এই ঐতিহাসিক সফর ফেব্রুয়ারিতে হবার কথা ছিল, কিন্তু হচ্ছে না। সাম্প্রতিক তরল জ্বালানি সহযোগে চূড়ান্ত পর্যায়ের ‘ওয়েট ড্রেস’ রিহার্সাল পরীক্ষায় একাধিক কারিগরি সমস্যা ধরা পড়ায় নাসা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মার্চ ২০২৬–এর আগে কোনো উৎক্ষেপণ নয়।

২ ফেব্রুয়ারির রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারির ভোর পর্যন্ত চলে এই ওয়েট ড্রেস পরীক্ষা। বাস্তব উৎক্ষেপণের এই পূর্ণাঙ্গ মহড়ায় স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এস এল এস) রকেট ও উৎক্ষেপণ মঞ্চের সংযোগস্থলে তরল হাইড্রোজেন লিক দেখা যায়। শুরুতে এই লিক সামাল দেওয়া গেলেও কাউন্টডাউনের শেষ মুহূর্তে হঠাৎ এর মাত্রা হুহু করে বেড়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে তখনই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা বন্ধ হয়ে যায়।

এই সমস্যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এস এল এস রকেট তরল হাইড্রোজেন ও তরল অক্সিজেনের মতো অতিশীতল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এগুলোকে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। ফলে সামান্য ত্রুটিও বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। নাসা জানিয়েছে, এই লিক কেন শেষ মুহূর্তে বেড়েছে। তবে সেটা খতিয়ে দেখে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। সেটা খতিয়ে দেখতে আরও সময় প্রয়োজন।

পরীক্ষার অন্যান্য ধাপেও ছিল সমস্যা। ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুল প্রস্তুতির সময় একটি ভালভ পুনরায় টাইট করতে হয়, যা পরীক্ষাকে আরও বিলম্বিত করে। যদিও প্রকৃত নভোচারীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, তথাকথিত “ক্লোজআউট ক্রু” ঠিক বাস্তব উৎক্ষেপণের মতো করেই সব কটি ধাপ অনুশীলন করছিলেন। এছাড়া পরীক্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঘটে অডিও বিভ্রাট, আর ঠান্ডা আবহাওয়ায় কিছু ক্যামেরাও ঠিকমতো কাজ করেনি। এসব কারণে পরিকল্পিত পূর্ণ গণনা সম্ভব হয়নি; কাউন্টডাউন থেমে যায় ৫ মিনিটে, যেখানে লক্ষ্য ছিল উৎক্ষেপণের ঠিক আগে পর্যন্ত অন্তত ৩০ সেকেন্ড হওয়া।

তবে নাসার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ব্যর্থতা নয়। সংস্থাটির প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান স্পষ্ট করে বলেছেন, নিরাপত্তাই সবার আগে। সব উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আরেকটি মহড়া চালানো হবে, তারপরই নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। নাসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চ মাসে পৃথিবী–চাঁদের উপযুক্ত কক্ষীয় অবস্থান থাকলে তখনই উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে। তবে যদি মার্চেও সম্ভব না হয়, তাহলে রকেটকে উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে সরিয়ে ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিংয়ে (ভি এ বি) ফেরত নিতে হতে পারে, বিশেষ করে অস্থায়ী অতিশীতল জ্বালানি চালিত চালনার ধাপের ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।

আর্টেমিস–২ মিশনে চারজন নভোচারী চাঁদকে একবার প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরবেন। সফল হলে এটি হবে অ্যাপোলো মিশনের পর মানুষের প্রথম চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা। নাসার মতে, এই সাময়িক বিলম্বই নিশ্চিত করবে, চাঁদের পথে যাত্রা যেন হয় নিরাপদ, নির্ভুল এবং ভবিষ্যতের জন্য মজবুত ভিত্তি গড়ে দেওয়া এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। যদিও তারা চাঁদে অবতরণ করবেন না, চাঁদকে প্রদক্ষিণ করেই পৃথিবীতে ফিরবেন।

 

সূত্রঃ: NASA Will Wait Until March for Artemis II By Marcia Smith. Posted: February 3, 2026 7:46 am ET | Last Updated: February 4, 2026 1:13 pm ET

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 4 =