দূষিত রাজধানী

দূষিত রাজধানী

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৪ মার্চ, ২০২৫

নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, নয়াদিল্লির বায়ু দূষণের পরিমাণ আগের চেয়েও বেশি গুরুতর। কারণ, বাতাসে থাকা ছোট ছোট ধূলিকণা (পিএমওয়ান) জলীয় বাষ্প শোষণ করে বড় হয়ে যায়। অথচ দূষণ মাপার যন্ত্রগুলো এত ক্ষুদ্র কণার আকার পরিবর্তন ঠিকমতো বুঝতে না পারায় দূষণের মাত্রা আসলের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ কম দেখায়। এই প্রক্রিয়াকে হাইগ্রোস্কোপিক গ্রোথ বলা হয়। এই সমস্যা শীতের সকালে সবচেয়ে বেশি হয়, কারণ এসময় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে এবং গাড়ি ও কলকারখানার দূষণও বেশি হয়।গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টি বাতাসের ধূলিকণা ধুয়ে ফেলায় এই ভুল হিসাব খুব একটা হয় না।কিন্তু দূষণ খুব বেশি হলে আর্দ্রতার কারণে দূষণের মাত্রা মাপতে আরও বেশি ভুল হয়। আর্দ্রতা যত বাড়ে, দূষণের হিসাব তত কম দেখায়। ১২ মার্চ ‘এনপিজে ক্লিন এয়ার’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণায়, বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ড. ইয়িং চেন বলেছেন নয়াদিল্লির বাতাসের দূষণ আসলে আগে যা জানা গিয়েছিল তার চেয়েও খারাপ। তবে ভবিষ্যতে সঠিকভাবে দূষণ পরিমাপের জন্য তিনি নতুন সমাধানও দিয়েছেন। ড. চেন বলেছেন, এই গবেষণায় প্রমাণিত হয় নয়াদিল্লির বাতাসে দূষণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে । ভবিষ্যতে দূষণ ঠিকভাবে মাপতে নতুন উপায় ব্যবহার করা দরকার, যাতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বাতাসের গুণমান পরীক্ষা করার সময় আর্দ্রতার কারণে দূষণের মাত্রা কম দেখানোর বিষয়টিও মনে রাখা জরুরি।নয়াদিল্লির বাতাসে অনেক জলীয় বাষ্প থাকে, যা ধূলিকণার সাথে মিশে দূষণের হিসাব ভুল দেখাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বাতাসে ৭৪০ µg/m³ পর্যন্ত জল থাকতে পারে, যা বিশ্বের অন্য বড় শহরগুলোর তুলনায় সবচেয়ে বেশি। গবেষণায় বলা হয়েছে, জ্বালানি পোড়ানো ও বাড়িঘর থেকে আসা দূষণ কমালে বাতাসের গুণমান ভালো হতে পারে। কারণ, এসব ধোঁয়ায় এমন কণা থাকে যা জলীয় বাষ্প টেনে নেয়, ফলে দূষণের মাত্রা সঠিকভাবে মাপা যায় না। তাই, এই দূষণ নিয়ন্ত্রণ করলে বাতাসের প্রকৃত অবস্থা ভালোভাবে বোঝা যাবে।ড. চেন বলেছেন, নয়াদিল্লির বাতাস ঠিকমতো বিশ্লেষণ করতে হলে পিএম২.৫ ও পিএম ১০ কণাগুলো আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার।গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসের দূষণের মাত্রা ঋতুগত বৈচিত্র্য অনুযায়ী বদলায়। যেমন শীতকালে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে
সকাল ৮-৯ টা নাগাদ গাড়ি ও কলকারখানার ধোঁয়া বেশি থাকলে বাতাসে আর্দ্রতা প্রায় ৯০ শতাংশ থাকে। এর ফলে বাতাসের নিচের স্তর খুব পাতলা হয়ে দূষণ জমে থাকায় দূষণের মাত্রা প্রায় ২০% কম দেখায়।আবার বসন্তকালে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের সকালের ব্যস্ত সময়ে দূষণ কম থাকে। তখন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৮০ শতাংশ থাকে, যার ফলে দূষণের পরিমাপ ৮.৬ শতাংশ কম দেখায় হয়। বর্ষাকালে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের
সময় বাতাসে আর্দ্রতা প্রায় ৮৫ শতাংশ থাকলে ঘনঘন বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির জল ধূলিকণা ধুয়ে ফেলার কারণে দূষণের মাত্রা প্রায় ঠিকভাবেই মাপা যায়। ভুল হিসাব খুব কম হয়।গ্রীষ্মকালের এপ্রিল থেকে জুন মাস
সবচেয়ে শুষ্ক ঋতু। এই সময় বাতাসের আর্দ্রতা থাকে প্রায় ২৮ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। আর্দ্রতা কম থাকায় ধূলিকণা বড় হয় না, তাই দূষণের মাত্রাও প্রায় ঠিকভাবে মাপা যায়। নয়াদিল্লি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানী। এখানকার দূষিত বাতাস ৩.৩ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।বাতাসে থাকা দূষিত পদার্থের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১০,০০০ মানুষের আগাম মৃত্যু ঘটে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, নয়াদিল্লির বাতাসে পিএমওয়ানের বর্তমান মাত্রা দূষণের নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ২৪ গুণ বেশি। এবং বাস্তবে দূষণ সম্ভবত আরও বেশি কারণ পরিমাপে অনেক সময় কম দেখানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 − 8 =