পরমাণু শক্তির বাড়বাড়ন্ত 

পরমাণু শক্তির বাড়বাড়ন্ত 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

বিশ্ব আজ ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের চাপে। এহেন অবস্থায় প্রযুক্তি দুনিয়ার তিন শীর্ষ সংস্থা- গুগল, মেটা ও অ্যামাজন এক বড় ঘোষণা করল। তারা একসঙ্গে বিশ্বব্যাপী নিউক্লিয়ার শক্তির উৎপাদন তিনগুণ করার উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। শক্তিখাতের দিক থেকে, এই উদ্যোগকে, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় যৌথ পদক্ষেপগুলির একটি বলা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক শক্তি সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা আসে। এখানে শুধু প্রযুক্তি সংস্থাই নয়, জ্বালানি কোম্পানি, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা শুধু সৌর বা বায়ু শক্তি দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত বিস্তারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। নিউক্লিয়ার শক্তির বড় সুবিধা হল, এটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়, কার্বন নিঃসরণ প্রায় নেই, এবং আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল নয়। বর্তমানে বিশ্বে মোট বিদ্যুতের প্রায় ৯ শতাংশ আসে নিউক্লিয়ার শক্তি থেকে। নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল, ২০৫০ সালের মধ্যে সেই পরিমাণ তিনগুণ বাড়ানো। উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে ‘বৃহৎ শক্তি গ্রাহকদের অঙ্গীকার’ নামে একটি বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে। এর আওতায় বড় বড় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সংস্থাগুলি নিউক্লিয়ার শক্তির প্রসারে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছে। গুগল, মেটা ও অ্যামাজনের পাশাপাশি এতে যুক্ত হয়েছে ডাও, অক্সিডেন্টাল এবং আরও কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান। তাদের বক্তব্য, ভবিষ্যতের শক্তি ব্যবস্থা একই সঙ্গে হতে হবে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। অ্যামাজন ইতিমধ্যেই নিউক্লিয়ার শক্তি উন্নয়নে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। তারা বিশেষভাবে কাজ করছে ছোট আকারের নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি নিয়ে। মেটা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিউক্লিয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৪ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। এ জন্য তারা বিভিন্ন উন্নয়নকারী সংস্থার কাছে প্রস্তাবের আহ্বান করেছে। গুগলও উন্নত নিউক্লিয়ার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার উপর জোর দিচ্ছে। এই যৌথ উদ্যোগ সফল হলে কয়েকটি বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যেমন, বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে, জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমবে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে শক্তি নিরাপত্তা বাড়বে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করছেন। তাদের মতে, নিউক্লিয়ার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং প্রকল্পের বিশাল খরচ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। মোট কথা, জলবায়ু সংকটের এই সময়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির নিউক্লিয়ার শক্তির দিকে ঝোঁকের একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা শুধু সবুজ হলেই চলবে না, হতে হবে নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘস্থায়ী।

 

সূত্র: America announces its largest deployment to date, with Meta, Amazon, and Google working together in Energy, The Pulse.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 + nine =