
পাখিদের বেঁচে থাকার জন্য নির্দিষ্ট জলবায়ু পরিস্থিতির প্রয়োজন। এটি ‘জলবায়ুগত নিবাসী অঞ্চল’ নামে পরিচিত। এই অঞ্চল, কোন প্রজাতিগুলি সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তা সনাক্তকরণের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ১৫৯টি ইউরোপীয় প্রজাতির তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তাঁরা আবিষ্কার করেন, তাপমাত্রার ভিন্নতা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনের উপরে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির সহনশীলতা এবং তার জনসংখ্যা কিভাবে সম্পর্কিত! গবেষকরা, ২৯ টি দেশের চার দশকের পাখির জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এই তথ্যের সাথে তারা ৩০ বছরের জলবায়ুতথ্যকে সমন্বিত করে দেখবার চেষ্টা করেন – ভিন্ন অবস্থার সাথে কোন প্রজাতি ঠিক কতটা অভিযোজিত হয়েছে। বিরল পাখি বা ছোট ভৌগোলিক পরিসরের পাখিরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবথেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, কোন পাখি দুর্বল সেটা প্রজাতিটি কত বড় বা ছোট- তার উপরে নির্ভর করে না। বরং সেই প্রজাতিটি, পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে কত ভালো করে মোকাবেলা করতে পারছে তার উপরে অনেক বেশি নির্ভর করে। “কোন প্রজাতি বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেই সোজা সাপ্টা বিষয় নয়। বিভিন্ন কারণে প্রজাতিগুলি হ্রাস পেতে পারে”, বলছেন প্রধান গবেষক, ক্যারোলিনা জালেউস্কা। “উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, ঘরের চড়ুই কিংবা সাধারণ স্টার্লিং, এদের জনসংখ্যা বিপদের সম্মুখীন হয়েছে”। দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীলতা, জনসংখ্যা হ্রাসের একটি অন্তর্নিহিত কারণ হতে পারে! একই ভৌগোলিক পরিসরের মধ্যে থাকা প্রজাতিগুলির মধ্যেও জলবায়ু সহনশীলতা যার কম সেই প্রজাতির সংখ্যা হ্রাসের সম্ভাবনা সব থেকে বেশি হবে।”সারা বিশ্বের জীববৈচিত্র্য সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনে বিপন্ন প্রজাতিগুলির ঝুঁকির দ্রুত মূল্যায়ন এবং তাদের সংরক্ষণের অগ্রাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে”, জানান সহ গবেষক আলিনো ফ্রাঙ্কো। দলটি তাদের জলবায়ু তথ্য ব্যবহার করে একটি নতুন সূচক তৈরি করেছে। সূচকটি নির্দিষ্ট এলাকার পরিবেশ পরিবর্তনে কোন পাখিরা সব থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তার ভবিষ্যৎবাণী করতে সাহায্য করবে। খাদ্য, শরীরের আকার, প্রাথমিক আবাসস্থল এবং পরিযায়ী আচরণের তথ্যের সাথে মিলিয়ে এই সূচকটি প্রতিটি প্রজাতির স্থিতিস্থাপকতার সম্পূর্ণতর চিত্র তুলে ধরে। প্রজাতি সংরক্ষণের একটি অমূল্য হাতিয়ার হতে পারে এই ফলাফলগুলি। “জলবায়ু পরিবর্তন ঘটিত বিপদগুলিকে বুঝতে এবং জনসংখ্যার প্রবণতার উপরে সেগুলির দ্রুত মূল্যায়ন করতে, এটি সাহায্য করবে, ” জালেউস্কা বলেন। পরীক্ষাধীন ১৫৯ টি প্রজাতির মধ্যে ৫৮ টির জনসংখ্যা হ্রাসের দিকে। আবার, ৬৮ টি প্রজাতি এখনো স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং ৩৩ টি প্রজাতি বৃদ্ধির পথে। কর্ন বন্টিং এবং স্কাইলার্ক এর মতন পাখি, যারা কৃষি জমিতে বাস করে তাদের জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি। বিপরীতে, ব্ল্যাক বার্ড এবং ব্লু টিটের মতন প্রজাতি মানুষ দ্বারা পরিবর্তিত ভূ-দৃশ্যে আরো ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে। শুধুমাত্র পরিসরের আকার নয়, সংরক্ষণবিদরা সেই পরিসর জুড়ে জলবায়ুতে পাখিদের প্রতিক্রিয়া আরও খুঁটিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।