
গিরসু একসময় সুমেরীয় দেবতা নিনগিরসুর পবিত্র স্থান ছিল। ৩,০০০ বছর আগে এটি বিশাল এক নগরী ছিল। তবে ১৯ ও ২০ শতকে অসংগঠিত খননের ফলে এর অনেক মূল্যবান অংশ হারিয়ে গেছে।গিরসু প্রকল্প এখন নতুন খনন, সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই প্রাচীন শহরের তথ্য সংরক্ষণ করছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ জাদুঘর ও ইরাকের প্রত্নতাত্ত্বিকরা দক্ষিণ ইরাকের গিরসু শহরে ২০০টির বেশি মাটির ফলক ও ৬০টি সিল আবিষ্কার করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার প্রাচীন আক্কাদীয় সাম্রাজ্যের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে । ৪০০০ বছরের পুরোনো এই মাটির ফলকগুলো প্রাচীন সুমেরীয় শহর গিরসু ( বর্তমান নাম টেলো) থেকে পাওয়া গেছে। এতে অতি সাধারণ থেকে শুরু করে স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লেখা আছে—যেমন, যবের রেশন, গবাদি পশুর লেনদেন , এমনকি সাম্রাজ্যের এক প্রান্তে একটি ভেড়ার মৃত্যুর কথা পর্যন্ত। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার ব্রিটিশ সংগ্রহশালার বিশেষজ্ঞ গিরসু প্রকল্পের প্রধান সেবাস্তিয়ান রে বলেছেন, এই ফলকগুলো আসলে সেই সময়ের হিসাবের খাতা, যা থেকে পৃথিবীর প্রথম সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক প্রমাণ পাওয়া যায়।অনেকে মনে করতে পারেন যে লাল ফিতের বাঁধন বুঝি নিতান্তই আধুনিক ব্যাপার, কিন্তু আদতে তা নয়। গবেষক সেবাস্তিয়ান রে জানান প্রাচীনকালে যাতে কোনো কিছুই ভুল না হয় সেজন্য তারা সবকিছু নথিভূক্ত করে রাখত । সে সময়ে সর্বদা প্রশাসনের নিয়ম মেনে চলা হত । এই মূল্যবান মাটির ফলকগুলো খ্রিস্টপূর্ব ২৩০০-২১৫০ সময়কালের আক্কাদীয় সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক নথিপত্রের ভান্ডার । এগুলো বিশ্বের প্রথম সাম্রাজ্য স্থাপনকারী রাজা সারগনের শাসনব্যবস্থার প্রথম বাস্তব প্রমাণ।গবেষক সেবাস্তিয়ান রে জানান, এসব ফলক একটি রাষ্ট্রীয় সংরক্ষণাগারে রাখা ছিল ।এই ধরনের সরকারি নথিতে সাম্রাজ্য পরিচালনার প্রণালীর বিস্তারিত তথ্য লেখা আছে।গবেষক সেবাস্তিয়ান রে জানান, এই আবিষ্কারগুলো প্রমাণ করে প্রাচীন আক্কাদীয় সাম্রাজ্যে নারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। সেই সময় সমাজ ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক হওয়া সত্বেও অনেক নারী উচ্চপদে আসীন ছিলেন।তাদের মধ্যে অনেকে প্রধান পুরোহিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করতেন, যা সেই সময়ের বিরল ঘটনা। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রমাণ থেকে এটা স্পষ্ট যে নারীদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।এই মাটির ফলকগুলো ব্রিটিশ জাদুঘর ও ইরাকের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এক যৌথ প্রকল্পের অংশ। এগুলো আরও গবেষণার জন্য বাগদাদের ইরাক সংগ্রহশালায় রাখা হবে। গিরসু প্রকল্প এখন নতুন খনন, সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই প্রাচীন শহরের তথ্য সংরক্ষণ করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নগর সভ্যতার জন্ম, লিপি উদ্ভাবন ও রাষ্ট্র গঠনের ইতিহাস জানা যাবে।এই প্রকল্প ইতিমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সেতু, নিনগিরসুর মন্দির ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের খোঁজ পেয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার শিগগিরই বাগদাদের ইরাক জাদুঘরে প্রদর্শিত হবে।