বায়ুদূষণ ও শিশুস্বাস্থ্য

বায়ুদূষণ ও শিশুস্বাস্থ্য

অর্পন নস্কর
Posted on ১২ ডিসেম্বর, ২০২১

কলকাতা শহরের কোনো এক স্থানে একদিন দুপুরবেলা বায়ু দূষণের মাত্রা পরিমাপ করলে বাতাসে ধুলিকণার পরিমান পাওয়া যাবে স্বাভাবিকের অন্তত দ্বিগুন । কেবল রাজধানী শহর নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গে গড় বায়ুর অবস্থা মোটেই আশাপ্রদ নয়। এবং শিশুদের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। একথা সকলেরই জানা যে শিশুদের ফুসফুস অপরিনত ও রগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় শিশুদের ঝুঁকি বেশি। এই মুহুর্তে সারা পৃথিবীর প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জন দূষিত বায়ুতে শ্বাস নিচ্ছে। ইউনিসেফের মতো বিশ্বব্যাপী সংস্থা অনুমান করেছে ২০৫০ সালের মিধ্যে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠবে বায়ু দূষণ।
কলকাতার সুইচঅন ফাউণ্ডেশন সম্প্রতি শিশুদের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা বিষয়ে একটি আন্তর্জালিক ওয়েবিনার করেন এবং সেখানে একটি সমীক্ষাভিত্তিক গবেষণা প্রকাশ করেছে ফাউণ্ডেশন। সমীক্ষা মূলত রাজ্যে বায়ুদূষণের কারণে শিশুদের মধ্যে রোগের ব্যাপকতা,তীব্রতা সম্পর্কে জনসাধারণের ধারণা কেন্দ্রিক।
সমীক্ষায় দেখা যায় ৯০% জনসাধারণ মনে করেন বায়ু দূষণ শিশুদের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ। ৮৫% মানুষ স্বীকার করেন বায়ুদূষণে তাদের পরিপার সরাসরি প্রভাবিত। ৬৫% মানুষ জানিয়েছেন তাদের পরিবারে এক বা একাধিক ১৮ র কম বয়সী মানুষ শ্বাসকষ্ট জনিত অসুখে ভুগছেন। এদের মধ্যে ৫৪% হাঁপানির সাথে লড়াই করছেন, ১০% ব্রংকাইটিস, ৬% সিওপিডি, ২% ফুসফুস ক্যান্সার, ৫% এমফিসেমায় ভুগছেন। যদিও যারা সমীক্ষায় এই উত্তর দিয়েছেন তাদের অনেকেই ক্লিনিকালি পরীক্ষিত নন, তবু ৪২% ক্লিনিকালি পরীক্ষিত মানুষ শ্বাস জনিত অসুখে ভুক্তভোগী। ২৭% মানুষ তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ৪৬% মানুষের ত্বকের সমস্যা রয়েছে, ধুলিকণার ফলে ৫৩% এর চোখে অ্যালার্জির সমস্যা।
হু -র বিশ্ব বায়ু রিপোর্ট ২০২০ অনুসারে প্রতি তিন মিনিটে ভারতে একটি শিশু বাতাসে বিষাক্ত পদার্থ শ্বাসের সাথে নেওয়ার কারণে মারা যায়।
সুইচঅন ফাউন্ডেশন ‘ক্লিন এয়ার নেটওয়ার্ক’ নামের একটি সংস্থার সাথে যোগাযোগ রেখে বায়ু দূষণ রোধে গণ সংবেদনশীল প্রচার অভিযান পরিচালনা করছে। ২০২১ এও সুইচঅন ফাউন্ডেশন শিশু অধিকার সপ্তাহ উপলক্ষে শিশুদের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে প্রচারাভিযান চালায়। এবং তারই অংশ পূর্ব উল্লিখিত ওয়েবিনার। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার,বিজ্ঞানী সহ নানা বিশিষ্টজন থেকে কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররাও। ওয়েবিনারে উডল্যান্ড হাসপাতালের পালমোনোলজিস্ট ডাঃ অরূপ হালদার বলেন, বায়ুতে মিশে থাকা সূক্ষ ও অতিসূক্ষ্ণ কণাগুলি সরাসরি রক্তনালি অতিক্রম করে হৃদপিণ্ডকে প্রভাবিত করে। এর ফলে ডায়াবেটিস, ডিমেনশিয়া, এমনকি শিশুর স্নায়বিক বিকাশ পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হয়। সম্প্রতি স্টেট অফ গ্লোবাল এয়ার রিপোর্ট বায়ুদূষণকে নবজাতকের মৃত্যুর কারণ হিসেবেও যুক্ত করেছে। লাং কেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষে রাজীব খুরানা বলেন, আজকের শিশুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী হবে তা ভাবার আগে, বিশুদ্ধ বাতাস ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রদানের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা আমাদের প্রাথমিক দ্বায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − 10 =