মরক্কো-বিছের মরণ কামড়

মরক্কো-বিছের মরণ কামড়

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১ মার্চ, ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিছে কোথায় বেশি আঘাত হানতে পারে তা আগে থেকেই অনুমান করার এক অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন গবেষকেরা। আয়ারল্যান্ডের গ্যালওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং মরক্কোর ইবন জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার বিবরণ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ কমিউনিকেশান্স–এ। গবেষণার কেন্দ্র ছিল মধ্য মরক্কো, যা বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ বিছের দংশনপ্রবণ অঞ্চল।

গবেষকেরা আফ্রিকায় দীর্ঘমেয়াদি সমীক্ষা এবং উন্নত কম্পিউটারভিত্তিক পরিবেশগত মডেলিং একত্রিত করেন। বিশেষ করে ব্যবহার করেন “ম্যাক্সিমাম এন্ট্রপি” নামের একটি পূর্বাভাসমূলক মানচিত্রণ পদ্ধতি। এটি পরিবেশগত উপাত্তের ভিত্তিতে কোন প্রজাতি কোথায় থাকার সম্ভাবনা বেশি তা নির্ধারণে সাহায্য করে। মাটি, তাপমাত্রা, মরশুমের তারতম্যসহ বিভিন্ন পরিবেশগত উপাদান বিশ্লেষণ করে তারা চিহ্নিত করেন কোন শর্তে বিষাক্ত বিছেরা সবচেয়ে ভালোভাবে টিকে থাকে ও বিস্তার লাভ করে।

দেখা গেছে মাটির ধরনই বিছের বিস্তৃতি নির্ধারণের প্রধান নিয়ামক। বিশেষ কিছু প্রজাতি নির্দিষ্ট ধরনের মাটিতে বেশি পাওয়া যায়, ফলে সেখানে দংশনের ঝুঁকিও বেশি। পাশাপাশি গড় তাপমাত্রা এবং ঋতুভিত্তিক তাপমাত্রার ওঠানামাও কিছু প্রজাতির বিস্তৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সব বিছে একইভাবে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় না। কিছু প্রজাতি বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে থাকতে পারে, আবার কিছু প্রজাতি খুব নির্দিষ্ট আবাসস্থলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

বিছের দংশন একটি অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষত ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলে। প্রতি বছর বিশ্বে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বিছের দংশনের শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা ব্যথা ও ফোলাভাবেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, কিছু বিষাক্ত প্রজাতির দংশন গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর তিন হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয় বিছের কামড়ে ।

এ গবেষণার অন্যতম লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করতে সহায়তা করা। এতে সচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করা, চিকিৎসাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং উচ্চঝুঁকির এলাকায় বিষ নিরোধক সরবরাহ সহজ হবে। গবেষক ড. মিশেল ডুগন জানান, এই পদ্ধতি মরক্কো ছাড়াও ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য বা ভারতসহ যেসব দেশে বিছের ঝুঁকি রয়েছে, সেখানেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সার্বিকভাবে, এই গবেষণা দেখিয়েছে কীভাবে জীববৈচিত্র্যসংক্রান্ত তথ্য ও পরিবেশগত মডেলিং একত্রে ব্যবহার করে জনস্বাস্থ্য নীতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনা যায়। যা ভবিষ্যতে বহু প্রাণ বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।

 

সূত্র: Ecological niche modelling and distribution of scorpion fauna in central Morocco: a MaxEnt study by Fouad Salhi, Abderrafea Elbahi,et.al; published in Environmental Research Communications, 2026; 8 (2): 025008 DOI: 10.1088/2515-7620/ae3fef

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

6 + three =