সর্দি আমাদের কাছে একেবারে পরিচিত শত্রু। হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, মাথা ভার—প্রায় সবাই ভেবেই নিই, একটা অমুক ভাইরাস ঢুকেছে, তাই সর্দি লেগেছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা দেখাচ্ছে, সর্দি ধরবে কি না এবং উপসর্গ কতটা তীব্র হবে—তা অনেকাংশেই নির্ভর করে মানবদেহের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়ার গতি ও সমন্বয়ের ওপর, বিশেষ করে নাকের ভেতরের কোষগুলোর প্রাথমিক সাড়া দেওয়ার ক্ষমতার ওপর।
এই গবেষণার বিবরণটি ২০২৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি সেল প্রেস–এর একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার কেন্দ্রে ছিল রাইনোভাইরাস, যা সর্দির প্রধান কারণ। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যখন রাইনোভাইরাস নাকের ভেতরের আবরণে প্রবেশ করে, তখন নাসারন্ধ্রের কোষগুলো একসঙ্গে কাজ শুরু করে ভাইরাসকে ঠেকাতে। এই সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যত দ্রুত সক্রিয় হয়, ভাইরাস তত কম ছড়াতে পারে।
নাকের ভেতরের আবরণী কোষগুলো একা একা কাজ করে না। নাকের কোষগুলো যখন রাইনোভাইরাস শনাক্ত করে, তখন তারা দ্রুত ইন্টারফেরন নিঃসরণ করে। এর ফলে শুধু সংক্রমিত কোষই নয়, আশপাশের সুস্থ কোষগুলিও সতর্ক হয়ে যায়। এই দ্রুত প্রতিক্রিয়া ভাইরাসকে অনেক সময় শুরুতেই থামিয়ে দেয়। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল অস্ত্রই হলো ইন্টারফেরন। এটি একধরনের অ্যান্টিভাইরাল প্রোটিন, যা ভাইরাসকে কোষে ঢুকতে ও বংশবিস্তার করতে বাধা দেয়।
এই প্রক্রিয়াটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝার জন্য গবেষকেরা ল্যাবরেটরিতে মানুষের নাকের মতো দেখতে একটি জীবন্ত টিস্যু মডেল তৈরি করেন। নাকের স্টেম সেল থেকে গড়ে ওঠা এই টিস্যুতে ছিল শ্লেষ্মা উৎপাদনকারী কোষ এবং সিলিয়াযুক্ত কোষ—যেগুলো চুলের মতো নড়াচড়া করে শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে। এই বাস্তবসম্মত মডেলে দেখা যায়, যদি ইন্টারফেরন প্রতিক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়, তবে রাইনোভাইরাস অনেক সময় শুরুতেই থেমে যায়।
কিন্তু যদি এই ইন্টারফেরন প্রতিক্রিয়া দেরিতে শুরু হয়, তাহলে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এবং শরীর তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অতিরিক্ত শ্লেষ্মা ও প্রদাহ তৈরি করে। ফলে বন্ধ নাক, শ্বাসকষ্ট, মাথা ভারভার লাগা এবং পরিচিত সর্দির কষ্ট। বিশেষ করে হাঁপানি বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া আরও গুরুতর হতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল আমাদের ভাবনায় বড় পরিবর্তন আনে। ভবিষ্যতের চিকিৎসা হয়তো সরাসরি ভাইরাস মারার বদলে শরীরের প্রাথমিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার দিকে মনোযোগ দেবে। এতে সর্দির তীব্রতা কমানো এবং শ্বাসজনিত জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে।
সূত্র: “Rhinovirus triggers distinct host responses through differential engagement of epithelial innate immune signaling” 19th January 2026, Cell Press Blue.
DOI: 10.1016/j.ccell.2025.11.008
