মানব মস্তিষ্কে সাইকেডেলিক বা হ্যালুসিনোজেনিক ওষুধের প্রভাব নিয়ে সাম্প্রতিক এক বৃহৎ গবেষণা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে। সাইলোসাইবিন, এলএসডি বা আয়াহুয়াস্কার মতো ভিন্নধর্মী সাইকেডেলিকগুলির প্রভাব ব্যক্তিভেদে আলাদা হবে বলে ধারণা থাকলেও, বিশ্লেষণে দেখা গেছে এদের মধ্যে একটি সাধারণ ‘স্বাক্ষর’ প্যাটার্ন রয়েছে। মোট ১১টি ব্রেন-ইমেজিং স্টাডির ২৬৭ জন মানুষের ৫০০-রও বেশি স্ক্যান একত্র করে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। সহ-গবেষক ড্যানিলো বিজডকের মতে, “রাসায়নিক ও শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এই ওষুধগুলির মস্তিষ্কে প্রভাবের একটি অভিন্ন ধরণ রয়েছে”। যা প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাসকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। হার্ভার্ডের বিশেষজ্ঞ শান সিদ্দিকি জানান, “বড় ডেটাসেট ব্যবহারের ফলে আগের ছোট ও সীমিত গবেষণার ঘাটতি কিছুটা পূরণ হয়েছে”। আগে ভাবা হতো সাইকেডেলিক মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক দুর্বল করে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। বরং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বেড়ে যায়। উচ্চস্তরের জ্ঞানীয় নেটওয়ার্কগুলির পাশাপাশি দৃষ্টি, শ্রবণ ও মোটর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গেও সংযোগ বৃদ্ধি পায়। এমনকি উপলব্ধি, প্রেরণা ও পুরস্কার-সম্পর্কিত সাবকর্টিকাল অংশেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এই ফলাফল মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসায় সাইকেডেলিকের সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করে তোলে। বিশেষত বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও আসক্তির ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে, এটি মস্তিষ্কে চেতনার পরিবর্তন কীভাবে ঘটে, তা বোঝার ভিত্তি তৈরি করে। তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, বিভিন্ন স্টাডির মধ্যে ডোজ, সময় ও প্রয়োগ-পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় সরাসরি সাধারণ সিদ্ধান্ত টানা কঠিন। এছাড়া শুধুমাত্র ব্রেন-ইমেজিং থেকে অণুস্তরের প্রক্রিয়া নির্ধারণ সম্ভব নয়। তবুও, এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে আরও নির্ভরযোগ্য ও পুনরুতৎপাদনযোগ্য গবেষণার পথ খুলে দিচ্ছে।
সূত্র: doi: https://doi.org/10.1038/d41586-026-01053-2
