সম্প্রতি ফিনল্যান্ডে পরিচালিত একটি বিস্তৃত গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্য কেনাকাটার পরিবেশগত প্রভাবের একটি বড় অংশ আসে তথাকথিত “ডিসক্রেশনারি” বা পুষ্টিগুণে কম কিন্তু স্বাদু খাবার থেকে। প্রায় ৩০,০০০ গ্রাহকের ক্রয়তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা পরিচালনা করে হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল, সহযোগিতায় ছিল ট্যাম্পার বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফিনল্যান্ডের ন্যাচরাল রিসার্চ ইন্সটিটিউট।
গবেষণায় দেখা যায়, ফিনল্যান্ডে মোট খাদ্যবাবদ ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ খরচ হয় মিষ্টি, কেক-পেস্ট্রি, নোনতা স্ন্যাকস, চিনি, সফট ড্রিংকস, ফলের রস, অ্যালকোহল, কফি ও চা ইত্যাদি পণ্যের পেছনে – যেগুলো সাধারণত দৈনন্দিন খাদ্যের মূল অংশ নয়। সাধারণভাবে এগুলোকে অল্প খাবার বলে মনে করা হলেও বাস্তবে এগুলো মোট খাদ্য কেনাকাটার গড় কার্বন নিঃসরণের এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি তৈরি করছে। শুধু জলবায়ুতে প্রভাবই নয়, এই পণ্যগুলো মিষ্টি জল ও সামুদ্রিক ইউট্রোফিকেশন (পুষ্টি দূষণ), ভূমি ব্যবহার এবং জল ব্যবহারের ওপরও উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে।
গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, বিভিন্ন পরিবারকে তাদের প্রধান প্রোটিন উৎস অনুযায়ী ভাগ করে তুলনা করা। যেমন, লাল মাংস, পোলট্রি, মাছ বা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন । দেখা গেছে, প্রতি ২,৫০০ কিলোক্যালোরি প্রোটিনের জন্য খরচ প্রায় একই পড়ে, উৎস যাই হোক না কেন। যারা লাল মাংস বেশি কেনেন,তারাও গড়ে ১.৬ ইউরো খরচ করেন; আর যারা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন পছন্দ করেন, তারাও সেই ধারেকাছেই খরচ করেন – প্রায় ১.৫ ইউরো। এ থেকে বোঝা যায়, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব প্রোটিনে পরিবর্তন আনতে খাদ্যদ্রব্যের দাম মূল বাধা নয়। পুরোটাই নির্ভর করছে কোন ব্যক্তি কি খেতে পছন্দ করছেন তার ওপরে।
খাদ্যের পছন্দ আলাদা হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিগুণের ক্ষেত্রেও পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। উদ্ভিজ্জ খাদ্য উৎসকে প্রাধান্য দেওয়া পরিবারগুলোর খাদ্যে খাদ্যতন্তু, ফোলেট ও আয়রনের পরিমাণ বেশি এবং সম্পৃক্ত স্নেহ পদার্থের পরিমাণ ও লবণের পরিমান কম। তবে ভিটামিন বি ১২ ও ডি–এর মাত্রাও তুলনামূলকভাবে কম ছিল। মাছনির্ভর পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই দুই ভিটামিনের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে, যা সুষম খাদ্য হিসেবে মাছের পুষ্টিগুণ নির্দেশ করে।
গবেষকরা সবশেষে জোর দিয়ে বলেছেন, পরিবেশগত প্রভাব কমানো ও খাদ্যের পুষ্টিমান উন্নত করার জন্য শুধু ব্যক্তিগত পছন্দের পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। নর্ডিক ও ফিনিশ পুষ্টি নির্দেশিকা এই পরিবর্তনের একটি শক্ত-পোক্ত ভিত্তি দিতে পারে। বাজারব্যবস্থা, পণ্যের প্রাপ্যতা, দোকানের বিন্যাস এবং মূল্যনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনও আবশ্যিক।
সূত্র: “Discretionary foods have notable environmental and expenditure relevance across meat and plant protein preferences” by Jelena Meinilä, Rachel Mazac,et.al; 20th January 2026, published in npj Science of Food.
DOI: 10.1038/s41538-026-00721-x
