
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত একটি নতুন গবেষণায় পদার্থবিদ্যার ছাত্রছাত্রীরা সহপাঠীদের কাছ থেকে যে স্বীকৃতি পায় তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নেচার ফিজিক্স পত্রিকায় প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যদিও ছাত্র এবং ছাত্রী উভয়েই পদার্থবিদ্যার ক্লাসে সমানভাবে সহপাঠীদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পায়, তবুও ছাত্রীদের মধ্যে এই স্বীকৃতি কম বলে মনে হয়। এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায় যে পুরুষ এবং নারীদের মধ্যে স্বীকৃতিকে ভিন্নভাবে গ্রহণ করার প্রবণতা রয়েছে, যা তাদের পদার্থবিদ্যায় সাফল্য এবং অন্তর্ভুক্তির অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টোরাল গবেষক মেগান সান্ডস্ট্রম। গবেষণায় ৮টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ২৭টি কোর্সে ১,৭০০জনেরও বেশি স্নাতক ছাত্রছাত্রীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় সহপাঠীদের কাছ থেকে কতবার স্বীকৃতি পেয়েছে (প্রাপ্ত স্বীকৃতি) এবং তারা নিজেরা কতটা স্বীকৃত বলে মনে করে (অনুভূত স্বীকৃতি) এর মধ্যে তুলনা করা হয়। দেখা গেছে, ল্যাব ক্লাসে পুরুষ এবং নারী সমান স্বীকৃতি পেলেও লেকচার ক্লাসে পুরুষরা বেশি স্বীকৃতি পায়। তবে উভয় ক্ষেত্রেই পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশি স্বীকৃত বলে মনে করে।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক নাটাশা হোমস বলেছেন, সহপাঠীদের স্বীকৃতি ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণা থেকে বেরিয়ে আসে যে স্বীকৃতির অনুভূতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে নারীদের জন্য, যারা সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে নিজেদের কম স্বীকৃতি-প্রাপ্ত বলে মনে করতে পারে।
গবেষণাটি জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশন দ্বারা সমর্থিত ছিল। এই গবেষণা পদার্থবিদ্যা শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীদের সমর্থন, স্বীকৃতি ও আত্মবিশ্বাসের মধ্যে ব্যবধান কমাতে সাহায্য করতে পারে।