
সম্প্রতি অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, ব্রিস্টল, পটসড্যাম এবং কিংস কলেজ (লন্ডন)-এর গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি বহুজাতিক গবেষণার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’ -এ। তাতে জানা গেছে যে মনের জোর বাড়ানোর মনস্তাত্ত্বিক “বুস্টার শট” দিয়ে গুজবের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায়। টেক্সট অ্যালার্ট, শিক্ষামূলক ভিডিও এবং মিথ্যা-তথ্য চেনার পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার খেলা এর উদাহরণ। ১১,০০০-এর বেশি অংশগ্রহণকারী নিয়ে পরিচালিত এই পরীক্ষায় দেখা গেছে, নিছক মেকি তথ্য তৈরির কায়দাকৌশলগুলি ব্যাখ্যা করা বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মিথ্যা খবর তৈরির সিমুলেশন দেখালে তাৎক্ষণিকভাবে মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করার দক্ষতা বাড়ে ঠিকই, কিন্তু সময়ের সাথে তাদের প্রভাব কমে যায়। অনেকটা টিকার প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের মতো। অপরদিকে স্মৃতি-কেন্দ্রিক বুস্টার (যেমন অনুস্মারক বার্তা বা কুইজ) অনেক ভালো কাজ করে। তা শেখা কৌশলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে মাসের পর মাস প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখে। কিন্তু স্মৃতিবিহীন পদ্ধতি (যেমন ভয়ভিত্তিক চেতাবনি) স্থায়ী প্রভাব রাখতে ব্যর্থ হয়। জলবায়ু সমস্যাকে অস্বীকার করা, বা টিকা সংকোচনের মতো সমস্যা মোকাবিলায় স্মৃতিধারণকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে চিহ্নিত করেছে গবেষণাটি। এসব ক্ষেত্রে গবেষকরা স্মৃতি -বিধৃত কৌশলকে মেডিকেল বুস্টার টিকার সাথে তুলনা করেছেন। স্কুল, সোশ্যাল মিডিয়া বা জনস্বাস্থ্য প্রচার অভিযানে তাঁরা টেক্সট, ভিডিও ও গেম-ভিত্তিক সরঞ্জামগুলির ব্যাপক প্রয়োগের উপর জোর দিয়েছেন। একই সাথে, এআই-চালিত ডিপফেক বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রমাণ-ভিত্তিক সমাধানের বাস্তবায়নে প্রযুক্তি মঞ্চ, নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষাবিদদের মধ্যে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে এই গবেষণাপত্রে। গবেষণাটি মিথ্যা তথ্যকে একটি ‘জনস্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মোকাবিলায় প্রয়োজন “প্রতিরোধমূলক টিকাদান” (প্রাক-শিক্ষা) এবং পর্যায়ক্রমিক “বুস্টার” (অনুস্মারক)। এগুলির মাধ্যমে সমাজে একটি সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলা যাবে —যা ব্যক্তিমানুষকে আজকের এই জটিল তথ্যপ্লাবনের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলতে সক্ষম করবে।
https://www.sciencedaily.com/releases/2025/03/250311121700.htm?utm_source=substack&utm_medium=email