শহুরে বিড়ালের পোকামাকড় ভক্ষণ 

শহুরে বিড়ালের পোকামাকড় ভক্ষণ 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

পাখি ও ইঁদুর শিকার করা বিড়ালের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শহরের পোষ্য বিড়ালরা প্রচুর পোকামাকড় ও মাকড়সা ধরছে। ব্রাজিলের গবেষকরা ১৭ হাজারের বেশি টিকটক ভিডিও ও iStock ছবি খতিয়ে দেখেন এবং শহুরে পরিবেশে বিড়ালদের পোকামাকড় শিকারের অন্তত ৫৫০টি স্পষ্ট উদাহরণ নিশ্চিত করেন। এই আচরণ শহরের ইতিমধ্যেই চাপে থাকা পোকামাকড়ের জনসংখ্যাকে নীরবে কমিয়ে দিতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যম্পিনাসের স্নাতক পর্যায়ের পরিবেশবিদ লেটিসিয়া আলেক্সান্দ্রে গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তার প্রধান লক্ষ্য ছিল গৃহপালিত বিড়ালের কারণে জীববৈচিত্র্যে কী প্রভাব পড়ছে তা বিশ্লেষণ করা। গৃহপালিত বিড়াল সাধারণত ‘জেনারালিস্ট’ শিকারি। অর্থাৎ যা সহজে বা কাছে পাওয়া যায়, তাই শিকার করে। এক সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাপী মূল্যায়নে দেখা গেছে, মুক্তভাবে থাকা বিড়ালরা মোটও ২,০০০-এর বেশি প্রজাতির প্রাণী খায়, যার মধ্যে বহু পাখি, স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ রয়েছে এবং অনেক প্রজাতি সংরক্ষণ-সংকটাপন্ন।

কোনো এলাকায় বিড়াল বেশি হলে তাদের ধারাবাহিক শিকারের ফলেই কিছু দুর্বল প্রজাতি স্থানীয়ভাবে বিলুপ্তির মুখে পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার এক বৃহৎ গবেষণায় পাওয়া গেছে বন্য বিড়ালরা বছরে প্রায় ১.১ বিলিয়ন অমেরুদণ্ডী প্রাণী খায়। নতুন কাজটিতে গবেষকরা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিওকে তথ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন। “cat insects” জাতীয় বিভিন্ন ভাষার কি-ওয়ার্ড দিয়ে খুঁজে তারা শুধু সেসব ভিডিও ও ছবি রেখেছেন যেখানে শহুরে বিড়ালদের শিকার স্পষ্ট দেখা যায়। ১৭,১৫০টি পোস্ট বিশ্লেষণে তারা দেখেন বিড়ালরা কমপক্ষে ১৪টি ভিন্ন অরথ্রোপড শ্রেণির পোকামাকড় ও মাকড়সাকে আক্রমণ করছে। সবচেয়ে বেশি শিকার ছিল ফড়িং-ঝিঁঝিঁ জাতীয় প্রাণীর। – মোট তথ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। এরপরেই ছিল তেলাপোকা। আলেক্সান্দ্রে জানান, “সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য ব্যবহার করে আমরা বিড়ালের এমন একটি পরিবেশগত প্রভাব ধরতে পেরেছি যা বিজ্ঞান প্রায় উপেক্ষা করেছে।” গবেষক রাউল কস্তা-পেরেইরা বলেন, “ যাদের আগে কখনও বিড়ালের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে চিন্তা করা হয়নি, এই গবেষণা তাদেরকেও তালিকাভুক্ত করছে।” আলেক্সান্দ্রে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার ডেটা ব্যবহার করে আমরা বিড়ালের এমন একটি পরিবেশগত প্রভাব ধরেছি, যাকে বিজ্ঞান আগে কম গুরুত্ব দিয়েছে।” গবেষক রাউল কস্তা পেরেইরা বলেন, “ এমন অনেক সন্ধিপদ দল চিহ্নিত হচ্ছে, যাদের আগে কখনো বিড়ালের সম্ভাব্য শিকার হিসেবে ধরা হয়নি।” সব সময় বিড়াল শিকার খায় না। অনেক ছবিতে দেখা যায় তারা পোকাকে মারছে, ছুঁড়ে খেলছে কিংবা ঠেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে।

পৃথিবীর অমেরুদণ্ডী প্রাণীরা, বিশেষ করে পোকামাকড়, ইতিমধ্যেই বাসস্থান হারাচ্ছে, দূষণ ও কীটনাশকের ক্রিয়ায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে অতিরিক্ত একটি শিকারি এসে জুটেছে – পোষ্য বিড়াল। নজর না দিলে, শহরের ছোট ছোট সবুজ এলাকাগুলোয় পোকামাকড়ের সংখ্যা দ্রুত কমতে পারে। পোকামাকড় শুধু জীববৈচিত্র্যের অংশ নয়। তারা পরাগায়ন, মৃত জৈব পদার্থ ভাঙা এবং অন্যান্য অপরিহার্য বাস্তুতান্ত্রিক সেবা দেয়। তাই মানুষ-সমর্থিত শিকারির অতিরিক্ত ক্ষতি শহরের খাদ্যজালে বড় ধরনের দূষণ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বজুড়ে অনেক স্থলজ মাকড় গোষ্ঠী প্রতি বছরই প্রায় ১ শতাংশ হারে কমছে বলে জানা যাচ্ছে। মানবজীবনে এক-দুই প্রজন্মের মধ্যেই এটি বড় ধসের তুল্য। ব্রাজিলের দল তাদের সোশ্যাল মিডিয়া তথ্যকে, লেপচিকের বড় বিড়াল-ডায়েট তথ্যভাণ্ডারেরে সঙ্গে তুলনা করে। অবশ্য এই তথ্য পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। মানুষ সাধারণত অদ্ভুত বা নাটকীয় মুহূর্তই বেশি পোস্ট করে। তবু এই পক্ষপাত ছাপিয়ে গবেষণা দেখিয়েছে, অনলাইন উৎস সাধারণ প্রজাতির অজানা পরিবেশগত সম্পর্কও চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে।

 

সূত্র: Social media highlights the overlooked impact of cats on arthropods; by Leticia Alexandre, Raul Costa-Pereira; 19 November 2025

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 + thirteen =