সপ্তাহান্তের ঘুম ও কৈশোর 

সপ্তাহান্তের ঘুম ও কৈশোর 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

কৈশোর মানেই দোলাচল, এক অদৃশ্য দড়ির ওপর দিয়ে হেঁটে চলা। শরীরের ভেতরে হরমোনের ঝড়, মনের ভেতরে পরিচয় খোঁজার ব্যস্ততা, আর চারপাশে পড়াশোনা, সামাজিক প্রত্যাশা , ভবিষ্যতের চাপ। এই জটিল সময়ে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অথচ, সাম্প্রতিক এক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই লড়াইয়ে সবচেয়ে সহজ ও সবচেয়ে অবহেলিত অস্ত্রটি হল পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম।

ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এক যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে এক তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য। ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে যারা সপ্তাহের দিনগুলোতে জমে থাকা ঘুমের ঘাটতি সপ্তাহান্তে পুষিয়ে নিতে পেরেছে, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার উপসর্গের ঝুঁকি ছিল প্রায় ৪১ শতাংশ কম। অর্থাৎ, শনিবার ও রবিবারের একটু দীর্ঘ ঘুম শুধু আরামের বিলাসিতা নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেরও রক্ষাকবচ।

কিশোর-কিশোরীদের জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে ৮–১০ ঘণ্টা ঘুমানো আদর্শ হলেও, বর্তমান জীবনের চাপে তা প্রায়শই অসম্ভব। স্কুলের পড়াশোনা, কোচিং, সামাজিক প্রত্যাশা, পরীক্ষার দুশ্চিন্তা, ডিজিটাল পর্দার আকর্ষণ এবং অনেক ক্ষেত্রে আংশিক সময়ের কাজ—সব মিলিয়ে সপ্তাহের দিনগুলোতে ঘুম যেন বিলাসিতায় পরিণত হয়।

এর পেছনে রয়েছে শরীরের নিজস্ব ছন্দ। কৈশোরে মানুষের জৈবিক ঘড়ির ছন্দ বদলে যায়। এই সময়ে কিশোররা স্বাভাবিকভাবেই রাত জাগে, সকালে দেরিতে উঠতে চায়। কিন্তু বাস্তবতার কাছে যে হাত-পা বাঁধা। ইচ্ছা না থাকলেও ভোরে উঠে স্কুলে যেতে হয়, ফলে তৈরি হয় দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের ঘাটতি। সপ্তাহান্তে সেই ঘাটতি পূরণের কিছুটা সুযোগ পেলে মন যেন কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।

এই প্রেক্ষাপটে গবেষক মেলিন্ডা কেসমেন্ট বলেছেন, আজকাল জীবনধারা পরিবর্তনের ফলে কিশোররা হয়ে উঠেছে রাতজাগা পেঁচা। তাই সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে যদি ঘুম কম হয়, সপ্তাহান্তে বেশি ঘুম মানসিকভাবে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। তবে গবেষকরা এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, সপ্তাহান্তের ঘুম কোনও আদর্শের বিকল্প নয়, বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটা ভিন্ন পথ মাত্র। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমই প্রকৃত উপকারী।

এটা খুব সত্যি যে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে কর্মক্ষমতা, পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে বিষণ্নতা। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন সবসময় জটিল থেরাপি বা ওষুধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কখনও কখনও, আরও কিছুক্ষণ ঘুমিয়েই ভবিষ্যতের ভার কিছুটা হালকা করা যায়।

 

সূত্র: Weekend catch-up sleep and depressive symptoms in late adolescence and young adulthood: Results from the National Health and Nutrition Examination Survey. Materials provided by University of Oregon. Journal of Affective Disorders, 2026; 394: 120613 DOI: 10.1016/j.jad.2025.120613

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 12 =