বাতের ওষুধ দেবে হার্ট সুরক্ষা 

বাতের ওষুধ দেবে হার্ট সুরক্ষা 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১১ মার্চ, ২০২৬

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর ওষুধ হিসেবে পরিচিত মিথোট্রেক্সেট এবার এক নতুন আলোচনার কেন্দ্রে। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাদার্ন অ্যাডিলেড লোকাল হেলথ নেটওয়ার্কের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই বহুল ব্যবহৃত ওষুধটি শুধু জয়েন্টের/অস্থিসন্ধির প্রদাহ কমানোতেই নয়, রক্তচাপ হ্রাসের মাধ্যমেও হার্টের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি দীর্ঘস্থায়ী অটোইমিউন রোগ, যা প্রায় প্রতি ১০০ জনে ১ জনকে প্রভাবিত করে। এটি শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করে নিজস্ব অস্থিসন্ধিতেই আক্রমণ চালাতে প্ররোচিত করে। ফলস্বরূপ দেখা দেয় ব্যথা, ফোলা এবং অস্থিসন্ধির ক্ষয়। সাধারণত অস্থিসন্ধির ব্যথা ও ফোলাই এই রোগের প্রধান লক্ষণ। তবে এই রোগের প্রভাব কেবল অস্থিসন্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ রক্তনালী ও হৃদ্‌যন্ত্রকেও প্রভাবিত করে, যা রোগীদের মধ্যে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় বাড়িয়ে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে মিথোট্রেক্সেট এমন একটি ওষুধ, যা প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রক্তচাপ কমাতে সক্ষম। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

গবেষণায় সদ্য নির্ণীত এবং এখনো চিকিৎসা শুরু করেননি এমন ৬২ জন প্রাপ্তবয়স্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেককে মিথোট্রেক্সেট এবং বাকি অর্ধেককে আরেকটি প্রচলিত রোগ-পরিবর্তনকারী ওষুধ সালফাসালাজিন দেওয়া হয়। শুরুতে, এক মাস পরে এবং ছয় মাস শেষে তাঁদের রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। একই সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয় অস্থিসন্ধির প্রদাহ ও ধমনী শক্ত হওয়ার মাত্রা।

দেখা যায়, মিথোট্রেক্সেট গ্রহণকারীদের সিস্টোলিক রক্তচাপ গড়ে ৭.৪ মিমি বেশি হ্রাস পেয়েছে, সালফাসালাজিন গ্রহণকারীদের তুলনায়। সিস্টোলিক চাপ হলো হৃদ্‌যন্ত্র সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময় ধমনীর দেয়ালে সৃষ্ট চাপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য রক্তচাপ হ্রাসও দীর্ঘমেয়াদে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশ খানিকটা কমাতে পারে।

এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রক্তচাপ কমার সঙ্গে অস্থিসন্ধির উপসর্গের উন্নতি বা ধমনী শক্ত হওয়ার পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, মিথোট্রেক্সেট হয়তো অন্য কোনো জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হৃদ্‌স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যেমন,সারা শরীরের প্রদাহ কমানো বা রক্তনালীর কার্যকারিতার উন্নতি সাধন।

গবেষকরা আরও লক্ষ্য করেছেন, কিছু নির্দিষ্ট জিন বৈশিষ্ট্য থাকলে রোগীরা রক্তচাপ কমার ব্যাপারে বেশি উপকৃত হতে পারেন। এটি ভবিষ্যতে ব্যক্তি ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে। সেখানে জিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যাবে কোন রোগী মিথোট্রেক্সেট থেকে দ্বৈত উপকার পাবেন। যদিও এ বিষয়ে আরও বৃহৎ পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন, তবুও এই ফলাফল আশাব্যঞ্জক। মিথোট্রেক্সেট হয়তো ভবিষ্যতে শুধু আর্থ্রাইটিস নয়, হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

সূত্র: “A controlled comparative study of the effects of methotrexate and pharmacogenetic factors on arterial blood pressure and arterial stiffness in patients with rheumatoid arthritis” by Arduino A. Mangoni, Michael D. Wiese, et.al; 31st July 2025, published in Annals of Medicine.

DOI: 10.1080/07853890.2025.2539311

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two × three =