এক্সোপ্ল্যানেটে প্রাণের সন্ধান 

এক্সোপ্ল্যানেটে প্রাণের সন্ধান 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ৩০ মার্চ, ২০২৬

মহাবিশ্বে ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক দশকে বহির্জাগতিক গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেটের আবিষ্কার যেভাবে বেড়েছে, তাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬,০০০টিরও বেশি গ্রহ শনাক্ত হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যার মধ্যে কোন গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা বেশি, তা খুঁজে বের করা অনেকটা খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার মতোই কঠিন কাজ। এই কঠিন সমস্যার সমাধানে নতুন দিশা দেখানোর চেষ্টা করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী লিসা কাল্টেনেগার এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ও শিক্ষার্থী। তারা ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির গাইয়া মিশনের তথ্য এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভ ব্যবহার করে এমন গ্রহের একটি তালিকা তৈরি করেছেন, যেগুলোর পরিবেশ পৃথিবীর মতো হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে তরল জল থাকার সম্ভাবনা আছে। গবেষকদের মতে, কোনো গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নির্ধারণ করা সহজ নয়। কিন্তু কোথায় খুঁজতে হবে—তা ঠিক করা প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। গবেষণাপত্রের সহ-লেখক গিলিস লোরি জানান, তাদের “মূল লক্ষ্য ছিল এমন কিছু গ্রহ চিহ্নিত করা, যেগুলো ভবিষ্যতের পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত’’। এই তালিকায় স্থান পেতে হলে একটি গ্রহকে তার নক্ষত্রের “বাসযোগ্য অঞ্চল’’-এর মধ্যে থাকতে হয়। অর্থাৎ, গ্রহটিকে তার নক্ষত্রের না-খুব কাছের না-খুব দূরের অবস্থানে থাকতে হবে। তাছাড়া সেখানকার তাপমাত্রা হতে হবে এমন যে জল তরল অবস্থায় থাকতে পারবে। পৃথিবী যেমন সূর্য থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে উপযুক্ত পরিমাণ শক্তি পায়, তেমনই শর্ত এখানেও গুরুত্বপূর্ণ। মোট ৪৫টি এক্সোপ্ল্যানেটকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি গ্রহ বিশেষভাবে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত। এই তালিকায় কিছু পরিচিত গ্রহও আছে, যেমন – প্রক্সিমা সেন্টোরাই বি—যা আমাদের নিকটতম নক্ষত্রমণ্ডল প্রক্সিমা সেন্টরাই-এর একটি গ্রহ। আবার নতুন আবিষ্কৃত গ্রহ যেমন TOI-715 b-ও এতে রয়েছে। আকর্ষণীয় গ্রহগুলির মধ্যে অন্যতম LHS 1140 b। এগুলি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪৮ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এছাড়া TRAPPIST-1 নক্ষত্রকে ঘিরে পৃথিবীর আকারের সাতটি গ্রহের একটি পরিবারের স্থানও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কিছু গ্রহে হয়তো উপযুক্ত পরিবেশ থাকতে পারে। গবেষক অ্যাবিগেইল বোল বলেন, “ গ্রহগুলির বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে, কোন পরিস্থিতিতে একটি গ্রহ বাসযোগ্যতা হারায়, কতটা শক্তি বেশি হয়ে যায়, এবং কোন গ্রহগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাসযোগ্য থাকতে পারে বা আদৌ কখনো ছিল কি না। ” তবে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা। যেমন, কোনো গ্রহ যদি ডিম্বাকার কক্ষপথে ঘোরে এবং মাঝে মাঝে বাসযোগ্য অঞ্চলের বাইরে চলে যায়, তবুও কি সেখানে প্রাণ টিকে থাকতে পারে? যেমন, TRAPPIST-1g নামের একটি গ্রহ মাঝে মাঝে অত্যন্ত ঠান্ডা অবস্থার মধ্যে পড়ে। এছাড়া একটি গ্রহের কক্ষপথ কতটা অস্বাভাবিক (অর্থাৎ, উপবৃত্তাকার থেকে কতটা বিচ্যুত) হলে সে তার বায়ুমণ্ডল ও জল ধরে রাখতে পারবে, এ প্রশ্নও এখনও গবেষণাধীন। সব মিলিয়ে, গবেষণাটি মহাবিশ্বে প্রাণের সন্ধানকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করে তুলেছে। অসংখ্য নতুন এক্সোপ্ল্যানেটের ভিড়ে এখন বিজ্ঞানীরা জানেন, কোথায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ চালাতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র: Nautilus Magazine, March, 2026The role of noninfectious comorbidities in the association between severe infections and risk of dementia in Finland: A nationwide registry study by Adriana Michalak, Davide Marzoli, Francesco Pietrogiacomi, Damiana Bergamo, Valentina Elce, Bianca Pedreschi, Giorgia Mosca, Alessandro Navari, Michele Emdin, Emiliano Ricciardi, Giacomo Handjaras, and Giulio Bernardi. PLOS Medicine

DOI:10.1371/journal.pmed.1004688

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen + 11 =