বাসা বানানো প্রাণীজগতের এক সাধারণ আচরণ। বাবুই পাখি, মৌমাছি প্রভৃতি প্রাণীর বাসা বানানোর পটুত্ব যুগ যুগ ধরে আমাদের অবাক করে আসছে কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ক্ষমতা কি জন্মগত, নাকি শেখার ফল? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল ইন্টেলিজেন্স-এর বিজ্ঞানীরা আফ্রিকার মাছ নিওলামপ্রোলোগাস ওসেলাটাস-এর উপর গবেষণা করেন। পূর্ব আফ্রিকার মিষ্টি জলের হ্রদের এই মাছ অ্যাকোয়ারিয়ামেও জনপ্রিয়। সাধারণত ট্যাঙ্কে শামুকের খোল দিলে তারা সেটিকে বালির মধ্যে পুঁতে আশ্রয় বানায়। হাত না থাকলেও এরা অত্যন্ত দক্ষ। গবেষণায় কিছু মাছকে জন্ম থেকে এমন পরিবেশে রাখা হয়, যেখানে কোনো প্রাকৃতিক খোল ছিল না। পরে তাদের থ্রি-ডি প্রিন্ট করা খোল দেওয়া হলে দেখা যায়, আগে কখনও না দেখলেও তারা শেষ পর্যন্ত সেগুলি দিয়েই বাসা তৈরি করতে পারে, যদিও সময় একটু বেশি লাগে। তবে বাসা তৈরির ধাপগুলো সব ক্ষেত্রেই এক : খোল পরীক্ষা করা, বালিতে গর্ত করি, খোল বসানো এবং বালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া। পরে তারা বাসাটি পরিষ্কারও রাখে। এই পরীক্ষা কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করলে দেখা যায়, মাছগুলো ক্রমশ দ্রুত কাজটি শিখে নিচ্ছে। অর্থাৎ, বাসা তৈরির ক্ষমতা জন্মগত হলেও অভ্যাসের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়ে। এমনকি এক বছর খোল থেকে দূরে রাখার পরও তারা আগের শেখা কৌশল মনে রাখতে পারে। কঠিনতর সমস্যা হিসেবে বামদিকে পাক খাওয়া বিরল খোল দেওয়া হলেও, মাছগুলো দ্রুত মানিয়ে নেয়। গবেষক শভান্টিয়ে গ্রেট্শ জানান, বাসা তৈরি শুধু সহজাত আচরণ নয়, শেখা, মনে রাখা এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সব মিলিয়ে, এই গবেষণা দেখায়, প্রাণীর আচরণ গড়ে ওঠে জিন ও পরিবেশের যৌথ প্রভাবে।
সূত্র: Nautilus Magazine; April, 2026
