‘অদৃশ্য জোব্বা’ ও স্যার জন পেন্ড্রি

‘অদৃশ্য জোব্বা’ ও স্যার জন পেন্ড্রি

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞনী স্যার জন পেন্ড্রি আধুনিক বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী ধারণা উদ্ভাবনের জন্য যুক্তরাজ্যের ইন্সটিটিউট অফ ফিজিক্স-এর সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন। এটি হল ‘অদৃশ্য জোব্বা’ । তিনি প্রথম এই ধারণাটি ২০০৬ সালে প্রকাশ করেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক ও জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পেন্ড্রির গবেষণার মূল ভিত্তি হলো “মেটামেটিরিয়াল’’ নামের এক বিশেষ ধরনের কৃত্রিম উপাদান। এই উপাদানগুলোর বৈশিষ্ট্য তাদের রাসায়নিক গঠনের ওপর নির্ভর করে না, করে তাদের ন্যানো-স্কেল অভ্যন্তরীণ কাঠামোর ওপর। এই অনন্য গঠনই মেটামেটিরিয়ালকে এমনভাবে আলোর তরঙ্গ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম করে, যা আগে অসম্ভব বলে মনে করা হতো।

এই প্রযুক্তির সাহায্যে আলোকে কোনো বস্তুর চারপাশ দিয়ে এমনভাবে প্রবাহিত করা যায়, যেন বস্তুটি সেখানে নেই। অর্থাৎ, আলো বস্তুটিকে এড়িয়ে গিয়ে একইভাবে সামনে এগিয়ে যায়, ফলে পর্যবেক্ষকের কাছে বস্তুটি সম্পূর্ণ অদৃশ্য বলে মনে হয়। পেন্ড্রির কথায়, এই কৌশলে আলোকে এমনভাবে বাঁকানো হয় যে তা বস্তুর সঙ্গে সংঘর্ষ না করেই তার চারপাশ দিয়ে চলে যায় এবং শেষে আগের অবস্থার মতোই ফিরে আসে—যেন কিছুই সেখানে ছিল না।

ইন্সটিটিউট অফ ফিজিক্স তাদের সম্মাননাপত্রে পেন্ড্রির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের (যেমন- সারফেস সায়েন্স, ডিসঅর্ডারড সিস্টেম এবং ফোটোনিক্সে মৌলিক কাজ) কথা উল্লেখ করলেও, “অদৃশ্য জোব্বার’’ ধারণাটিকেই সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং জনমনে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ সৃষ্টিকারী বলে উল্লেখ করেছে।

পেন্ড্রি নিজেও এই প্রকল্পকে একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই ধারণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে তারা আলো ও বিকিরণের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করতে সক্ষম। তিনি বলেন, “যদি আমরা এটি করতে পারি, তাহলে আমরা প্রায় যেকোনো কিছুই করতে পারি।”

এই ধারণা কল্পবিজ্ঞানের একটি জনপ্রিয় উপাদান ছিল। বিশেষ করে হ্যারি পটার সিরিজে ব্যবহৃত অদৃশ্য চাদরের মতো। পেন্ড্রির গবেষণা সেই কল্পনাকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার সামরিক ক্ষেত্রে গুপ্ত প্রণালীর প্রযুক্তি উন্নত করা থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পেন্ড্রির এই উদ্ভাবন তাই শুধু বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়, বরং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

 

সূত্র: Sir John Pendry, pioneer of the ‘invisibility cloak’, wins top Institute of Physics honour

The physicist first published the idea for an “invisibility cloak” in 2006 ,Rob Williams, Monday 01 July 2013 16:24 BST

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × one =