গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে শহরগুলোর মিথেন নিঃসরণ সঠিকভাবে মাপা জরুরি। কারণ মিথেন স্বল্পস্থায়ী হলেও তাপ আটকে রাখার ক্ষমতা কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুলনায় অনেক বেশি। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের বহু শহরে মিথেন নিঃসরণ সরকারি হিসাবের তুলনায় বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা উপগ্রহ তথ্য ব্যবহার করে ৯২টি বড় শহর বিশ্লেষণ করেন। এর মধ্যে ৭২টি শহরের ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের তথ্য পাওয়া যায়। ফলাফল অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শহরগুলোর মিথেন নিঃসরণ ২০১৯ সালের তুলনায় ৬ শতাংশ এবং ২০২০ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। ইউরোপে কিছু শহরে অবশ্য নিঃসরণ কমেছে। কিন্তু এই ফল সরকারি হিসাবের সঙ্গে মিলছে না। সাধারণত শহরগুলো “বটম-আপ ইনভেন্টরি’’ পদ্ধতিতে গ্যাসলাইন লিক, বর্জ্যভূমি, নর্দমা ও বর্জ্যজল শোধনাগার থেকে সম্ভাব্য নিঃসরণ যোগ করে হিসাব করে। সেই হিসাবে ২০২০ সালের পর বৃদ্ধি মাত্র ১.৭ থেকে ৩.৭ শতাংশ। কিন্তু উপগ্রহ তথ্য বলছে, প্রকৃত বৃদ্ধি আরও বেশি। গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে সেনটিনেল-৫পি উপগ্রহের ট্রপোমি যন্ত্র। এটি সূর্যালোক বিশ্লেষণ করে বাতাসে মিথেনের মাত্রা শনাক্ত করতে পারে। এর বড় সুবিধা হলো, এটি নিয়মিতভাবে সারা বিশ্বের তথ্য দেয় এবং বহু শহরকে একসঙ্গে তুলনা করা যায়। তবে সীমাবদ্ধতাও আছে। ট্রপোমি দেখাতে পারে কোনো শহরে মোট নিঃসরণ বাড়ছে কি না, কিন্তু শহরের ভেতরে ঠিক কোন উৎস দায়ী তা নির্দিষ্ট করতে পারে না। কোন্ ভরাট করা জমি, কোন্ পাইপলাইন বা কারখানা এ জন্য দায়ী, তার বলতে পারে না। গবেষণায় সি৪০ নেটওয়ার্কভুক্ত বহু শহরও ছিল, যারা নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সেখানে বছরে প্রায় ২ টেরাগ্রাম অতিরিক্ত মিথেন ধরা পড়েছে, যা সরকারি হিসাবে ছিল না। ফলে পরিকল্পনা মেনে কাজ করলেও অনেক শহর লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সমাধানও আছে। পুরনো গ্যাসলাইন বদলানো, বর্জ্যভূমি ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, বর্জ্যজল শোধনাগার সংস্কার, দ্রুত পরিদর্শন ও কঠোর নিয়ম প্রয়োগে মিথেন কমানো সম্ভব। তবে সবার আগে দরকার সঠিক তথ্য। ট্রপোমির মতো বড় উপগ্রহ ছবি দেখাবে, আর উন্নত উচ্চ-রেজোলিউশনের উপগ্রহ নির্দিষ্ট উৎস চিহ্নিত করবে। সঙ্গে স্থল বা বিমান সমীক্ষা যুক্ত হলে শহরগুলোর জলবায়ু পরিকল্পনা আরও কার্যকর হতে পারে।
সূত্র: earth . com ; April; 2026
