২০২৬ সালের ‘ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্স’-এ সম্মানিত হলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন পদার্থবিদ। ড. বাবাক আবি, ড. ফারুখ আজফার এবং ড. স্যাম হেনরি। ফার্মিল্যাবে মিউয়ন g-2 পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাঁরা এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই পুরস্কার যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে সিইআরএন, ব্রুকহেভেন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং ফার্মিল্যাবের গবেষক দলকে। বহু বছরের গবেষণায় তারা মিউয়ন কণার অস্বাভাবিক চৌম্বক ধর্ম অত্যন্ত নির্ভুলভাবে মাপতে সক্ষম হয়েছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এই কাজ পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের বাইরে নতুন পদার্থবিজ্ঞানের সন্ধানে বড় পদক্ষেপ। মিউয়ন হল ইলেকট্রনের মতো এক মৌলিক কণা। তবে এটি অনেক বেশি ভারী এবং অস্থিতিশীল। এটি ক্ষুদ্র চুম্বকের মতো আচরণ করে। তার চৌম্বক ধর্মে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখে বিজ্ঞানীরা খুঁজে দেখতে চান, এতে আর কোনও অজানা কণা বা নতুন বল লুকিয়ে আছে কি না। অক্সফোর্ডের গবেষকেরা পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ, পরিমাপক যন্ত্রের মান যাচাই এবং কণার গতিপথ নির্ণয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তাঁরা চৌম্বক ক্ষেত্র সঠিকভাবে মাপার জন্য নতুন ম্যাগনেটোমিটার তৈরির কাজেও অংশ নেন। ড. আজফার বলেন, “শত শত বিজ্ঞানীর যৌথ পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কারকে দেখা উচিত। ছোট ও অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরীক্ষার মাধ্যমেও যে মহাবিশ্বের বড় রহস্যের উত্তর খোঁজা যায়, এই গবেষণা তারই প্রমাণ”। সিইআরএন থেকে ব্রুকহেভেন, তারপর ফার্মিল্যাব- দীর্ঘ গবেষণার ধারায় মিউয়ন g-2 পরীক্ষা আজও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। আর সেই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন অক্সফোর্ডের এই তিন বিজ্ঞানী। এঁদের ভূমিকা ছিল বহুমুখী। ড. ফারুখ আজফার জানান, “তাঁদের দল ফার্মিল্যাবের টেস্ট বিম ডেটার বিশ্লেষণে কাজ করেছে এবং ডিটেক্টরের বিভিন্ন অংশের তথ্যের মান যাচাইয়ের জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ট্র্যাকার ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা কণার গতিপথ নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে সাহায্য করে’’। অন্যদিকে ড. স্যাম হেনরি জানান, তিনি ও ড. বাবাক আবি মিলে একটি নতুন ম্যাগনেটোমিটার তৈরির প্রকল্প শুরু করেছিলেন। এই যন্ত্রের কাজ ছিল পরীক্ষায় ব্যবহৃত চৌম্বক সেন্সরগুলির মাপ যথাযথভাবে ঠিক করা করা। কারণ মিউয়ন g-2 পরীক্ষার সাফল্যের জন্য চৌম্বক ক্ষেত্র অত্যন্ত নির্ভুলভাবে জানা জরুরি। পরে তাঁদের মার্কিন সহকর্মীরা সেই কাজ সম্পূর্ণ করেন এবং মূল ফলাফল যাচাইয়েও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশ্বমঞ্চে অক্সফোর্ডের এই তিন বিজ্ঞানীর সাফল্য আন্তর্জাতিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে রইল।
University of Oxford; Dept. Of Physics; 20th April, 2026
