ক্যানসারের বিরুদ্ধে আগামী দিনের গোপন অস্ত্র কি তবে দুধ? যে উপাদান এতদিন পুষ্টি, শক্তি আর সুস্থতার উৎস ছিল, সেটিই এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে তৈরি করছে এক নতুন আলোড়ন। যুক্তরাষ্ট্রের মেয়ো ক্লিনিকের বিজ্ঞানীরা দুধের চর্বি থেকে তৈরি অতি ক্ষুদ্র ন্যানোকণা ব্যবহার করে এমন এক অভিনব থেরাপি উদ্ভাবনের পথে, যা সরাসরি আঘাত হানতে পারে পিত্তনালির প্রাণঘাতী ক্যানসার কোলাঙ্গিওকার্সিনোমা-র ওপর।
এই ক্যানসারকে চিকিৎসকরা নীরব ঘাতক বলেন। কারণ, এর উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পায়। যখন রোগ ধরা পড়ে, তখন প্রায়ই তা শরীরের ভেতরে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ফলে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি বা প্রচলিত চিকিৎসা অনেক সময় আশানুরূপ ফল দিতে পারে না। রোগীদের সামনে তখন বিকল্প পথও থাকে খুব কম।
ঠিক এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেই এল আশার নতুন বার্তা। গবেষকেরা ব্যবহার করেছেন siRNA নামের এক বিশেষ অণু। যেসমস্ত জিন ক্যানসার কোষকে বাঁচিয়ে রাখতে ও বাড়তে সাহায্য করে এই অণু তাদের ক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। এটি ক্যানসারের মূল ঘাঁটিতেই আঘাত হানে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই অণু ঠিক ক্যানসার কোষে পৌঁছাবে কীভাবে? এখানেই বিজ্ঞান তার গেল দেখিয়েছে। গবেষকেরা তৈরি করেছেন অ্যাপ্টামার নামের এক ক্ষুদ্র DNA নির্দেশক, যা ক্যানসার কোষকে নিখুঁতভাবে চিনে সেখানে গিয়ে আটকে যায়। এরপর সেটিকে দুধের চর্বি দিয়ে তৈরি ন্যানোকণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে এই ক্ষুদ্র বাহক শরীরের ভেতর ভেসে গিয়ে সরাসরি টিউমারের কেন্দ্রে ওষুধ পৌঁছে দিতে পারে। এই ধরনের পদ্ধতির নাম হল সেল-সেলেক্স।
পরীক্ষাগারে ফলাফল ছিল অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। দেখা গেছে, এই পদ্ধতিতে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি কমেছে, কোষমৃত্যু বেড়েছে, অথচ আশপাশের সুস্থ কোষকলার ক্ষতি অনেকটাই কম হয়েছে। অর্থাৎ, চিকিৎসা আরও নিখুঁত, আরও নিরাপদ, এবং কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত হতে পারে।
যদিও এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তবু এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশাল। একদিন হয়তো রোগীর শরীরের জিনগত গঠন বুঝে ব্যক্তি-নির্দিষ্ট থেরাপি তৈরি হবে, আর সেই ওষুধ বহন করবে দুগ্ধজাত এই ন্যানোকণা।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে দুধকে আমরা আর শুধু পুষ্টিকর এক পানীয় বলেই নয়, ক্যানসারের বিরুদ্ধে আগামীতে জীবনের নতুন প্রতিশ্রুতি বলতে পারি।
সূত্র: “Cell-SELEX identifies a DNA aptamer for highly selective in vivo siRNA delivery in cholangiocarcinoma” by Brandon A. Wilbanks, Ayano Kabashima, et.al;16th March 2026, JHEP Reports.
DOI: 10.1016/j.jhepr.2026.101779
