নিয়মিত ব্যায়াম ও চাপমুক্ত মন 

নিয়মিত ব্যায়াম ও চাপমুক্ত মন 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

আজকের ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ কমবেশি সবারই নিত্যসঙ্গী। অফিসের কাজ, অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা, পারিবারিক দায়িত্ব, ঘুমের অভাব, সব মিলিয়ে মানসিক চাপ এখন আধুনিক জীবনে মহামারির আকার নিয়েছে। এবার নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, এই চাপ কমানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হতে পারে নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম।

সম্প্রতি জার্নাল অফ স্পোর্ট অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক বছরব্যাপী ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম শরীরের প্রধান স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের ক্ষরণের মাত্রা ব্যাপকহারে কমাতে পারে। কর্টিসল এমন একটি হরমোন যার ক্ষরণ আমাদের মানসিক চাপের বোঝা বাড়লে ক্রমশ হুহু করে বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের জন্য এই ক্ষরণ উপকারী হলেও দীর্ঘদিন বেশি থাকলে শরীর ও মনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ-এর ড. পিটার জে. জিয়ানারোস এবং অ্যাডভেন্টহেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ড. কার্ক আই. এরিকসন। তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা কি সত্যিই মানুষের মনের চাপের বোঝা কমাতে পারে?

গবেষণায় অংশ নেন ১৩০ জন প্রাপ্তবয়স্ক, যাদের বয়স ছিল ২৬ থেকে ৫৮ বছর। অংশগ্রহণকারীদের দুই দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দলকে প্রতি সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার অ্যারোবিক ব্যায়াম করতে বলা হয়, যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, দৌড়ানো বা জগিং। দ্বিতীয় দলকে শুধু সাধারণ স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয় এবং তারা আগের মতোই জীবন চালিয়ে যান।

এক বছর ধরে বিজ্ঞানীরা অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক সক্ষমতা, কর্টিসলের মাত্রা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপের জৈবিক সূচকগুলি পর্যবেক্ষণ করেন। উন্নত ব্রেন স্ক্যান ও আধুনিক বিশ্লেষণ প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়। দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেছেন, তাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি কর্টিসলের মাত্রা আশ্চর্যজনকভাবে কমেছে। অর্থাৎ ব্যায়াম শুধু শরীর গড়ার উপায় নয়, এটি চাপের অভ্যন্তরীণ জীববিজ্ঞানও বদলে দিতে পারে। কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন, কারণ এই হরমোনের পরিমাণ রক্তে দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে থাকলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অনিদ্রা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ে। তাই শরীরকে দিয়ে কসরত করিয়েই যদি শরীরের উপকার করা যায় তবে প্রাকৃতিক ভাবেই ভবিষ্যতের নানা রোগের ঝুঁকি কমবে, বাইরে থেকে কোনো রাসায়নিক গ্রহণ করতেই হবে না। ফলে কোনো ওষুধের মাধ্যমে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটার সম্ভাবনাও থাকবে না। গবেষকেরা আরও জানান, এই একই ট্রায়ালের আগে ফলাফল হিসেবে দেখা গিয়েছিল, অ্যারোবিক ব্যায়াম মস্তিষ্কের বার্ধক্যের গতি ধীর করতেও সাহায্য করতে পারে।

গবেষকরা আমাদের খুব সহজ একটি বার্তা দেন। তাঁরা বলেন সপ্তাহে ১৫০ মিনিট সময় যদি নিজের শরীরকে দেওয়া যায়,তবে শরীর ফিরিয়ে দেবে শান্ত মন, কম চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা।

 

সূত্র: “Effects of a year-long aerobic exercise intervention on neuroendocrine, autonomic, and neural correlates of stress, emotion, and cardiovascular disease risk in midlife adults” by Peter J. Gianaros, Lu Wan, et.al; 17th March 2026, published in ‘’Journal of Sport and Health Science’’.

DOI: 10.1016/j.jshs.2026.101135

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × four =