আপনার ওজন কত? 

আপনার ওজন কত? 

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ২ মে, ২০২৬

আমাদের ওজন স্থির নয়। হ্যাঁ, শরীরের ভর একই থাকলেও ওজন সব জায়গায় এক থাকে না। কারণ ওজন নির্ভর করে কোনো গ্রহ বা জ্যোতিষ্ক কত জোরে সেই ব্যক্তি বা বস্তুকে নিজের দিকে টানছে, তার ওপর, অর্থাৎ তার মহাকর্ষ বলের উপর। সহজ কথায়, পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আপনার যে ওজন, চাঁদে বা মঙ্গলে গিয়ে তা আর এক থাকবে না। তাই ওজন শুধু শরীরের বৈশিষ্ট্য নয়, এটি আপনার শরীর ও গ্রহের মধ্যেকার সম্পর্কও। ধরা যাক, পৃথিবীতে আপনার ওজন ৬৮ কিলোগ্রাম। এবার দেখা যাক, সৌরজগতের অন্য জায়গায় গেলে তা কত হতে পারে। চাঁদে গেলে আপনার ওজন নেমে আসবে প্রায় ১১.৩ কিলোগ্রামে। কারণ চাঁদের মহাকর্ষ পৃথিবীর প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। সেখানে হাঁটলে নিজেকে অনেক হালকা লাগবে। ছোট্ট লাফও অনেক বড় মনে হবে। মহাকাশচারীদের ধীর ভঙ্গিতে ভেসে ভেসে হাঁটার দৃশ্য এরই প্রমাণ। আবার মঙ্গলে আপনার ওজন হবে প্রায় ২৫.৭ কিলোগ্রাম। অর্থাৎ পৃথিবীর তুলনায় অর্ধেকেরও কম। লাল ধুলোময় এই গ্রহে হাঁটলে শরীর অনেকটা হালকা ও চটপটে মনে হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে মানুষ যদি মঙ্গলে বসতি গড়ে, সেখানে দৈনন্দিন চলাফেরার অভিজ্ঞতা পৃথিবী থেকে আলাদা হবে। অন্যদিকে বৃহস্পতির পরিস্থিতি একেবারেই উল্টো। সেখানে আপনার ওজন বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৫৮.৮ কিলোগ্রাম। সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ হওয়ায় এর মহাকর্ষও অনেক বেশি। ফলে সেখানে এক নাগাড়ে দাঁড়িয়ে থাকাই কষ্টকর মনে হতে পারে। হাঁটা বা নড়াচড়া করা তো বেশ কঠিন কাজ। অপরদিকে যদি প্লুটোতে যান, তাহলে আপনার ওজন হবে মাত্র ৪.৫ কিলোগ্রাম। এই বামন গ্রহের মহাকর্ষ এতই কম যে মনে হবে আপনি বুঝি ভেসে আছেন। লাফ দিলে অনেক দূর চলে যাওয়াও অসম্ভব নয়। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। দৈনন্দিন জীবনে আমরা ‘কেজি’ দিয়ে ওজন মাপলেও বিজ্ঞান অনুযায়ী কেজি হলো ভরের একক। ভর মানে শরীরে কতটা পদার্থ আছে। তা সব জায়গায় একই থাকে। কিন্তু ওজন আসলে মহাকর্ষের কারণে তৈরি বল, যা স্থানভেদে বদলে যায়। এই তথ্য শুধু মজার নয়, মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে মানুষ যখন অন্য গ্রহে যাবে, তখন সেখানে হাঁটা, কাজ করা, বসবাস করা- সবকিছুতেই মহাকর্ষ বড় ভূমিকা নেবে।

 

সূত্র: Astro Universee; April, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

9 + 5 =