বড় প্রাণীর মৃতদেহ সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে গেলে তাকে বলা হয় ‘হোয়েল ফল’। এটি গভীর সমুদ্রের বহু প্রাণীর বড় খাদ্যভান্ডার হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার অনুকরণে বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ চীন সাগরের ৫,৩৪৪ ফুট গভীরে একটি গরুর মৃতদেহ ফেলেছিলেন। কিন্তু তাতেই পাওয়া গেলো আরও বড় চমক। ক্যামেরায় একসঙ্গে ধরা পড়ল আটটি প্যাসিফিক স্লিপার হাঙর। এই রহস্যময় প্রজাতিকে দক্ষিণ চীন সাগরে আগে কখনও নথিভুক্ত করা হয়নি। ফলে হাঙরটি কোথায় কোথায় পাওয়া যায় সে সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেল। সাধারণত এরা এমন গভীরে বাস করে, যেখানে তাদের পর্যবেক্ষণ করা খুবই কঠিন। এক্ষেত্রে ভিডিয়োতে দেখা যায়, মৃতদেহ ঘিরে হাঙরগুলির আচরণ বেশ অস্বাভাবিক। তারা হুড়োহুড়ি করে খাবারের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। বরং যেন এক ধরনের অপেক্ষার সারি মেনে চলছিল। কিছু হাঙর সামনে এগিয়ে এসে খাচ্ছিল, অন্যরা পিছনে অপেক্ষা করছিল। গবেষকদের মতে, এটি গভীর সমুদ্রের শিকারিদের মধ্যে সামাজিক আচরণের ইঙ্গিত দিতে পারে। বড় আকারের, প্রায় ২.৭ মিটারের বেশি লম্বা হাঙরগুলি বেশি প্রভাবশালী ছিল। তারা বেশি জোর দিয়ে এগিয়ে আসছিল, আর ছোট হাঙরগুলো দূর থেকে ঘুরছিল ও সাবধানে সুযোগ খুঁজছিল। এতে বোঝা যায়, আকারের ওপর খাদ্য পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই নির্ভর করে। তাছাড়া খাবার কামড়ানোর সময় হাঙরগুলো নিজেদের চোখ ভেতরে টেনে নিচ্ছিল। কারণ অন্যান্য কিছু হাঙরের মতো এই প্রজাতির হাঙরের সুরক্ষাদায়ক তৃতীয় চোখের পাতা নেই। তাই চোখ বাঁচাতে এই কৌশল ব্যবহার করে তারা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পর্যবেক্ষণ শুধু বিরল হাঙরের উপস্থিতিই জানায়নি, বরং দেখিয়েছে গভীর সমুদ্রের মৃতভোজী প্রাণীরা বড় খাদ্যস্রোত এলে কিভাবে আচরণ করে। সমুদ্রের অন্ধকার তলদেশে জীবন যে কত জটিল ও সংগঠিত, এই গবেষণা তারই নতুন প্রমাণ।
সূত্র: Science Explorist; April, 2026
