ছারপোকা চিরকালের এক বিরক্তিকর সমস্যা। এরা সম্পূর্ণরূপে রক্তনির্ভর পরজীবী। মানুষের রক্তই এদের প্রধান খাদ্য। ফলে একবার ঘরে ঢুকলে এদের তাড়ানো বেশ কঠিন। বহুবার কীটনাশক ব্যবহারের পরেও গদি, বালিশ বা আসবাবপত্রের ফাঁকে এরা লুকিয়ে থাকতে পারে। সম্প্রতি এই বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিভারসাইড-এর কীটতত্ত্ববিদরা এক গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের করা পরীক্ষাটা ছিল খুবই সহজ, কিন্তু ফলাফল অবাক করার মতো। একটা ছোট গোল পাত্র নেওয়া হলো, প্রায় ৪ ইঞ্চি ব্যাসের। তার তলায় একটা ফিল্টার পেপার রাখা হলো। এবার সেই কাগজের অর্ধেক ভিজিয়ে দেওয়া হলো, আর বাকি অর্ধেক শুকনোই রাখা হলো। তারপর ছারপোকাগুলোকে সেখানে ছেড়ে দেওয়া হলো। দেখা গেল, প্রায় ৯০% ছারপোকা ভেজা অংশে যাওয়ার আগেই হঠাৎ দিক ঘুরিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভেজা দিক থেকে দূরে সরে যাওয়ার সময় তারা আরও দ্রুত চলতে শুরু করছে, প্রায় ৪০% বেশি গতিতে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, যখন পুরো পাত্রটাই শুকনো রাখা হলো, তখন এই আচরণ একেবারেই লক্ষ্য করা গেল না। অর্থাৎ, জল বা আর্দ্রতাই এখানে মূল ফ্যাক্টর। বিজ্ঞানীরা এই আচরণকে ‘জলবিমুখ গতি’ বলছেন। মানে ছারপোকা স্বাভাবিকভাবেই ভেজা জায়গা এড়িয়ে চলে। সহ গবেষক ডং-হোয়ান চো ব্যাখ্যা করেছেন, জল ছারপোকার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ জলের আঠালো বৈশিষ্ট্য তাদের শরীরে লেগে যেতে পারে, যা তাদের চলাফেরায় বাধা দেয়। এখন প্রশ্ন, এমন আচরণ কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে তাদের বিবর্তনের ইতিহাসে। ধারণা করা হয়, ছারপোকার পূর্বপুরুষরা পাখি বা বাদুড়ের শরীরে বাস করত, যারা সাধারণত উঁচু ও শুকনো জায়গায় থাকে। তাই ভেজা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সুযোগই তারা কখনও পায়নি।
আরও একটা আগ্রহজনক তথ্য, ছারপোকার বাচ্চারা কিন্তু ভেজা পরিবেশ আরও বেশি এড়িয়ে চলে। কারণ তাদের শরীরের বাইরের আবরণ অপেক্ষাকৃত পাতলা, তাই জল তাদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের শুঁয়োর মধ্যে ছোট ছোট সংবেদী অঙ্গ থাকে, যা দিয়ে তারা আর্দ্রতা আগেই বুঝতে পারে। তবে শুধু জল ব্যবহার করলেই ছারপোকা একেবারে উধাও হয়ে যাবে, ব্যাপারটা এতখানি সহজ নয়। এটা স্পষ্ট যে আর্দ্রতা তাদের আচরণে প্রভাব ফেলে এবং তারা ভেজা জায়গা এড়িয়ে চলে। অর্থাৎ, ছারপোকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জল হতে পারে একটি অতিরিক্ত কৌশল।
সূত্র: Nautilus magazine.
