ইরানে ক্ষতিগ্রস্ত বিজ্ঞান গবেষণা

ইরানে ক্ষতিগ্রস্ত বিজ্ঞান গবেষণা

বিজ্ঞানভাষ সংবাদদাতা
Posted on ১৫ মে, ২০২৬

ইরানে চলমান সংঘর্ষে বড় আঘাত নেমে এসেছে শিক্ষা ও গবেষণার উপরেও। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদরা। ১৪০০-র বেশি আন্তর্জাতিক গবেষক জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে চিঠি লিখে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি ও পাস্তুর ইনস্টিটিউট। এই দুটিই দেশের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কেন্দ্র। যদিও হামলাকারী পক্ষ বলছে তারা বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে না, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। যুদ্ধের আগেই ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলন দমনে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল ইরান সরকার। এখন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গবেষণার কাজ প্রায় থমকে গেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক- সব মিলিয়ে কাজের পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। গবেষকরা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতায় অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। ভবিষ্যতে অর্থাভাব গবেষণার তহবিলেও প্রভাব ফেলতে পারে। তেহরানের শেফা নিউরোসায়েন্স রিসার্চ সেন্টারও হামলার শিকার হয়েছে। আশপাশের হাসপাতালগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত। যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। এই ধ্বংসের মানবিক দিকটাও গভীর। শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের দার্শনিক এব্রাহিম আজাদেগান জানান, বোমায় তাঁর অফিস ধ্বংস হয়ে গেছে, সঙ্গে পুড়ে ছাই হয়েছে হাজারের বেশি বই, নোট ও অসমাপ্ত কাজ। “যে বইগুলোর সঙ্গে জীবন কাটিয়েছি, সেগুলো এক মুহূর্তে হারিয়ে গেল,”বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠে আক্ষেপ স্পষ্ট। পাশাপাশি, বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী এখন কারাগারে। অভিযোগ রাজনৈতিক বা গুপ্তচরবৃত্তির, যা তারা অস্বীকার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর হামলাটা ‘স্বাভাবিক’ ব্যাপার হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘর্ষেই জ্ঞানচর্চা বিপন্ন হবে। এই ক্ষতি শুধু ইরানের নয়, গোটা বিশ্বের বিজ্ঞান ও শিক্ষার জন্যই এক বড় ধাক্কা।

 

সূত্র: doi: https://doi.org/10.1038/d41586-026-01394-y

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

15 + 14 =