মহাকাশচারী বা যুদ্ধবিমান চালকদের শরীরকে প্রবল ‘জি-ফোর্স’ সহ্য করার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। এই অতিরিক্ত মহাকর্ষীয় চাপ শরীরের উপর বাড়তি ওজনের মতো কাজ করে। মানুষ অনেক সময় তীব্র জি-ফোর্সে অজ্ঞানও হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষুদ্র ফলমাছি এই পরিস্থিতি কিভাবে সামলায়, তা নিয়েই নতুন গবেষণা। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিভারসাইড-এর গবেষকেরা স্ত্রী ফলমাছির উপর একটি বিশেষ পরীক্ষা চালান। একটি ঘূর্ণায়মান সেন্ট্রিফিউজ যন্ত্রে তাদের ৪জি, ৭জি, ১০জি ও ১৩জি পর্যন্ত মহাকর্ষীয় চাপের মধ্যে রাখা হয়। প্রধান গবেষক সুস্মিতা অরুমুগম আমোঘ জানান, যন্ত্রটি যত দ্রুত ঘোরে, তত বেশি ‘হাইপারগ্র্যাভিটি’ তৈরি হয়। গবেষকদের ধারণা ছিল, অতি- মহাকর্ষের চাপে ফলমাছির চলাফেরা কমে যাবে। কিন্তু দেখা গেল, ৪জি চাপের মধ্যে থাকা মাছিরা বরং আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বেশি উপরে উঠতে শুরু করে। বিজ্ঞানীদের মতে, বাড়তি শক্তির চাহিদার কারণে তারা হয়তো বেশি খাবার খুঁজছিল। তবে ৭জি বা তার বেশি চাপের ক্ষেত্রে ফলমাছিরা কম নড়াচড়া করে, যেন শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করছে। কিছু ফলমাছিকে ডিম থেকে পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন মহাকর্ষীয় পরিবেশে রাখা হয়। আবার আরেকটি দলকে ১০ প্রজন্ম ধরে হাইপারগ্র্যাভিটির মধ্যে বড় করা হয়। তবু তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, চলাফেরা ও বংশবিস্তার থেমে যায়নি। মানুষের ক্ষেত্রে ৪জি চাপ বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু ক্ষুদ্র ফলমাছি সেই চাপও বেশ ভালোভাবে সহ্য করেছে। এই গবেষণা আসলে কেবল ফলমাছি নিয়ে কৌতূহল মেটায় না, ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রা সম্পর্কেও নতুন দিশা দেখায়।
সূত্র: Nautilus Magazine ; May ; 2026
